দ্বিরুক্ত শব্দ Last updated: 6 months ago

দ্বিরুক্ত শব্দকে ভাঙলে পাওয়া যায় ‘দ্বি+উক্ত’ অর্থাৎ, যা দুইবার বলা হয়েছে বা দুবার উক্ত হয়েছে এমন। বাংলা ভাষায় কোন কোন শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুবার ব্যবহার করলে অন্য সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এ ধরণের শব্দের পরপর দুবার ব্যবহৃত হয়ে কোন বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে। যেমন – আমার জ্বর জ্বর লাগছে।

দ্বিরুক্ত শব্দের প্রকারভেদ / শ্রেণীবিভাগঃ দ্বিরুক্ত শব্দ ৩ প্রকার। যথাঃ

১. শব্দের দ্বিরুক্তি    ২. পদের দ্বিরুক্তি ও      ৩. অনুকার দ্বিরুক্তি

শব্দের দ্বিরুক্তি

  • একই শব্দ অবিকৃতভাবে দুবার ব্যবহৃত হয়ে দ্বিরুক্ত শব্দ গঠন করতে পারে। যেমন – ফোঁটা ফোঁটা পানি, বড় বড় বাড়ি ইত্যাদি।
  • একই শব্দের সঙ্গে সমার্থক আর একটি শব্দ যোগ করে ব্যবহৃত হয়। যেমন – বলা- কওয়ালালন-পালন ইত্যাদি।
  • দ্বিরুক্ত শব্দ জোড়ার দ্বিতীয় শব্দটির আংশিক পরিবর্তন হয়। যেমন – মিট-মাটফিট- ফাট ইত্যাদি।
  • সমার্থক শব্দযোগে হতে পারে। যেমন – টাকা -পয়সাবলা-কওয়া ইত্যাদি।
  • বিপরীতার্থক শব্দ যোগে। লেন-দেনদেনা-পাওনা ইত্যাদি।

পদের দ্বিরুক্তি

একই বিভক্তি যুক্ত পদের পরপর দুবার ব্যবহারকে পদের দ্বিরুক্তি বা পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলে।
১. দুটি পদে একই বিভক্তি প্রয়োগ করা হয়, শব্দ দুটি ও বিভক্তি অপরিবর্তিত থাকে। যেমন- ঘরে ঘরে লেখাপড়া হচ্ছে, দেশে দেশে ধন্য ধন্য করতে লাগল,মনে মনে আমিও এ কথাই ভেবেছি।
২. দুটি পদে একই বিভক্তি প্রয়োগ করা হয়, এবং দ্বিতীয় পদটির আংশিক পরিবর্তন হয়। যেমন- চোর হাতে নাতে ধরা পড়েছে,আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে ।

পদের দ্বিরুক্তির প্রয়োগ :
বাংলা ভাষায় সকল পদেরই দ্বিরুক্ত প্রয়োগ হয়ে থাকে। অনেক সময় বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়াপদ ও অব্যয় পদের দ্বিরুক্ত প্রয়োগের ফলে বহুবচনের অর্থ প্রকাশ করে।
বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে পদের দ্বিরুক্তির ব্যবহার –
১. আধিক্য বোঝাতে : রাশি রাশি ধন, ধামা ধামা ধান।
২. সামান্য বোঝাতে : আমি আজ জ্বর জ্বর বোধ করছি।
৩. পরস্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে : তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ।
৪. অনুরূপ কিছু বোঝাতে : তার সঙ্গী সাথী কেউ নেই।
৫. আগ্রহ বোঝাতে : ও দাদা দাদা বলে কাঁদছে।
বিশেষণ শব্দযুগলের বিশেষণ রূপে পদের দ্বিরুক্তির ব্যবহার –
১. আধিক্য রূপে পদের দ্বিরুক্তির ব্যবহার : ভালো ভালো আম নিয়ে এসো, ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল।
২. তীব্রতা রূপে পদের দ্বিরুক্তির ব্যবহার : গরম গরম ভাত, নরম নরম মিষ্টি।
৩. সামান্যতা রূপে পদের দ্বিরুক্তির ব্যবহার : উড়ু উড়ু মন, কালো কালো চুল।

৪. ক্রিয়া বিশেষণ : ধীরে ধীরে যায়, ফিরে ফিরে চায়।

সর্বনাম শব্দ
১. বহুবচন বা আধিক্য বোঝাতে : কে কে এলো? কেউ কেউ বলে।

ক্রিয়াবাচক শব্দ
১. সময়ের স্বল্পতা : দেখতে দেখতেবলতে বলতেউঠতে উঠতে ,চলতে চলতে।
২. পুনঃ অর্থে : বসে বসেখেতে খেতেডেকে ডেকে।
৩. আগ্রহ অর্থে : বল বলচলুন চলুনআসুন আসুন।
৪. বিশেষণ অর্থে : মরে মরে অবস্থা, যাবে যাবে ভাব।
৫. সম্ভাবনা অর্থে: করি করিআসে আসেআসবে আসবে।
অব্যয়ের দ্বিরুক্তি
১. ভাব বোঝাতে : তার কষ্ট দেখে সবাই হায় হায় করছে।
২. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে : বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
৩. অনুভূতি বোঝাতে : জড়ে গা ছম ছম করছে।
৪. বিশেষণ বোঝাতে : পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি।
৫. ধ্বনিব্যঞ্জনা : ঝির ঝির করে কুয়াশা পড়ছে। টাপুর টুপুর বৃষ্টি পড়ে।

অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি কাকে বলে :- কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।
অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি গঠন :-
১. একই (ধ্বন্যাত্মক) শব্দের অবিকৃত প্রয়োগ : ধক ধকঝন ঝনপট পট
২. প্রথম শব্দটির শেষে আ-যোগ করে : গপা-গপটপা-টপপটা-পট।
৩. দ্বিতীয় শব্দটির শেষে ই-যোগ করে : ধরা-ধরিঝম-ঝমিঝন-ঝনি।
৪. যুগ্মরীতিতে গঠিত ধ্বন্যাত্মক শব্দ : কিচির মিচির (পাখি বা বানরের শব্দ), টাপুর টুপুর (বৃষ্টি পতনের শব্দ), হাপুস হুপুস (গোস্লাসে কিছু খাওয়ার শব্দ)।
বিভিন্ন পদরূপে ধ্বন্যাত্মক দ্বিভুক্ত শব্দের ব্যবহার :-
১. বিশেষ্য : বৃষ্টির ঝম-ঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে।
২. বিশেষণ : নামিল নতে বাদল ছল-ছল বেদনায়।

৩. ক্রিয়া : কল-কলিয়ে উঠল নারীর প্রতিবাদ।
৪. ক্রিয়া বিশেষণ : চিক-চিক করে বালি কোথাও নাই কাঁদা।


এই পোস্ট সহায়ক ছিল?

0 out of 0 Marked as Helpfull !