উপসর্গ Last updated: 4 months ago

যেসব বর্ণ বা বর্ণের সমষ্টি ধাতু এবং শব্দের পূর্বে বসে সাধিত শব্দের অর্থের পরিবর্তন, সম্প্রসারণ কিংবা সংকোচন ঘটায়, তাদেরকে বলা হয় উপসর্গ। যেমন—প্র, পরা, পরি, নির ইত্যাদি।

১. উপসর্গ ব্যাকরণের যে আলোচিত হয় = শব্দতত্তে। 

২. উপসর্গ শব্দটি একটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ। এর সঠিক বিশ্লেষণ = উপ + সৃজ + অ

৩. উপসর্গ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ আগের অধ্যায় আর ব্যবহারিক অর্থ রোগের লক্ষণ। তাই অর্থানুসারে ‘উপসর্গ’ শব্দটি রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ

৪. উপসর্গ এক প্রকার = অব্যয় শব্দ

৫. উপসর্গ বসে = শব্দের শুরুতে

৬. উপসর্গের নেই = অর্থবাচকতা (নিজের কোনো অর্থ নেই)।

৭. উপসর্গের আছে = অর্থদ্যোতকতা (অর্থাৎ অর্থযুক্ত কোনো শব্দের পূর্বে বসে ওই শব্দের অর্থের পরিবর্তন করে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরির ক্ষমতা)।

৮. উপসর্গ শব্দের পরিবর্তন করে = ৫ ধরনের। যথা:

  • নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে
  • শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধন করে
  • শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটায়
  • শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটায়
  • শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটায়।

৯. বাংলা ভাষায় সাধারণত ৩ ধরনের উপসর্গ ব্যবহৃত হতে দেখা যায় (বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশি উপসর্গ)।

১০. বাংলা উপসর্গ = ২১ টি। যথা: অ, অঘা, অজ, অনা (অন),আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি,বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা

মনে রাখার উপায়

প্রিয় (সু)(হা)(),
() দর (নি) (বি)। তুই আমাদের (অজ) পাড়া গাঁয়ের আশা (ভর) (সা)। অন্যদের (অনা) চার (কু) কথা এবং () ড় চোখে তাকানোকে একেবারেই পাত্তা দিবি না। তোর জন্য গাছের (আব) ডালের (উন) পঞ্চাশটি (পাতি) লেবু ও (কদ) বেল পাঠালাম।() চেনা জায়গায় মন (আন) চান করলে এগুলো খাবি।
ইতি
(অঘা) (রাম)

১১. তৎসম/ সংস্কৃত উপসর্গ = ২০ টি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি,অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি,অভি, অপি, উপ, আ।

মনে রাখার উপায়

(অভি)র বাসা (অপি)র বাসার (অপ)র দিকে। অপির (পরি)বার সবসময় নিজেদেরকে (পরা)ক্রম ও (প্র) ভাবশালী বলে ভাব দেখায়। ত একদিন অভির বন্ধুরা পুরাতন জমিদার বাড়ির পাশের (অব)হেলিত ও (পতি)ত জমিতে ক্রিকেট খেলতে যাওয়ার সময় জিজ্ঞেস করে,” অভি তুই () (সু) (বি) (নি) [তুই আসবি নাকি]”। অভি তাদের সাথে যায় কিন্তু ক্রিকেট খেলার সময় বল অভির মাথায় (অধি)ক জোরে লাগলে সে ব্যথায় (উৎ) করে উঠে। ব্যথা (উপ) (সম) করাতে তারা (অনু) দাদাকে ডাকে। কিন্তু তার আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেল কারণ অনুর (নির) (অতি) (দূর)।

১২. বিদেশি উপসর্গকে আবার ভাগ করা যায় = ৪ ভাগে (আরবি, ফারসি, ইংরেজি ও উর্দু-হিন্দি)।

১৩. আরবি উপসর্গ = ৪ টি (আম, খাস, লা, গর)। তবে মাঝে মাঝে আরও দুটি আরবি উপসর্গ ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। তা হল –বাজে ও খয়ের।

১৪. ফারসি উপসর্গ = ১০ টি। যথা: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।

[ মনে রাখার সহজ উপায়:নিমফিবেদর কার বদনা কম বরব]

১৫. উর্দু-হিন্দি উপসর্গ = ১ টি (হর)।

১৬. ইংরেজি উপসর্গ = ৪ টি (হেড, সাব, ফুল, হাফ)।

১৭. বাংলা উপসর্গ সাধারণত যুক্ত হয় = বাংলা শব্দের পূর্বে।

১৮. তৎসম উপসর্গ সাধারণত যুক্ত হয় = সংস্কৃত শব্দের পূর্বে।

 ওপরের তথ্যদুটি আমরা শিখব, পড়ব, জানব। কারণ এই তথ্য দুটি থেকে হুবহু প্রশ্ন আসতে দেখা গিয়েছে অনেক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায়।

১৯. বাংলা ও তৎসম উপসর্গের মধ্যে মিল আছে = ৪ টি (আ,সু, বি, নি)। লক্ষণীয় বিষয়: আ, সু, বি, নি – যদি বাংলা শব্দের পূর্বে যুক্ত হয় তবে বাংলা উপসর্গ আর যদি তৎসম শব্দের পূর্বে যুক্ত হয় তাহলে তা তৎসম উপসর্গ হিসেবে গণ্য হবে।

২০. বাংলা ‘নি’ উপসর্গ মনে রাখার সহজ উপায়: নিদয় নামের নিলাজ লোকটি নিরেট প্লেটে নিখুঁতভাবে খেয়ে নিভাজ পেটে নিখোঁজ হলো। ২১. বাংলা ‘সু' উপসর্গ মনে রাখার সহজ উপায়: সুমনা সুমনের প্রতি সুনজর দেওয়ার সুখবর শুনে সুমন সুদিন দেখে সুকাজ সেরে সুনামের আশা করল।

২২. বাংলা ‘আ’ ও ‘বি’ উপসর্গ মনে রাখার সহজ উপায়: বির্ভূই কাঁড়া, চালা, ছাঁকা ও ধোয়া চাল দিয়ে লুনি খিচুড়ি রান্নার চেষ্টা করে কাঠা ও গাছা নিয়ে বিনামা হয়ে বিপথে হাঁটা দিল।

সাধারণত যে-কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আ, সু, বি, নি – এই ৪টি উপসর্গের উদাহরণ আসলে ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই। থেকেই আসে। তাই ৯ম-১০ম শ্রেণির ব্যাকরণ বইয়ের বাংলা উপসর্গের উদাহরণগুলো আমরা গল্পের মাধ্যমে শিখে নিলাম। এখন উপযুক্ত শব্দ ব্যতীত অন্য কোনো শব্দ থাকলে তা তৎসম উপসর্গ দিয়ে গঠিত হয়েছে বলে ধরে নিব

২৩. বাক্যে স্বাধীন পদ রূপে (অর্থাৎ মুল শব্দের সাথে যুক্ত না হয়ে আলাদা বসে) ব্যবহৃত হতে পারে যে উপসর্গ= ১টি (অতি)

প্রচলিত কিছু বইয়ে বাক্যে স্বাধীন পদরূপে ব্যবহৃত উপসর্গের সংখ্যা ৩টি বলা হয়েছে যা অবশ্যই ভুল। সেখানে “অতির সাপে ‘ইটি প্রতি' কেও সংযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু ভালো করে লক্ষ করলে দেখবেন, প্রতি যখন স্বাধীনভাবে বসে তখন তা আর উপসর্গ থাকে। তখন অনুসর্গ হয়ে যায়। যেমন প্রতিদিন – এখানে প্রতি উপসর্গ। তোমার প্রতি আমার অগাধ বিশ্বাস - এখানে প্রতি' অনুসর্গ। আর ‘ইতি’ যখন স্বাধীনভাবে বসে তখন তা আর উপসর্গ থাকে না কারণ ‘ইতি' তখন নিজের একটা আলাদা অর্থ প্রকাশ করে। যেমন; ইতিকথা – ইতি' উপসর্গ। ইতি তোমার স্নেহের বড়ো ভাই – এখানে 'ইতি' একটি স্বাধীন শব্দ যার অর্থ শেষ।

সুতরাং স্বাধীন পদ রূপে বসে এমন উপসর্গের সংখ্যা – ১টি। যেমন: অতি ভক্তি।।

২৪. কোন উপসর্গের রূপটি কর্মপ্রবচনীয় (অনুসর্গ) হিসেবেও বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে? = ‘প্রতি’ উপসর্গটি।


এই পোস্ট সহায়ক ছিল?

5 out of 6 Marked as Helpfull !