পদ প্রকরণ Last updated: 4 months ago

বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে। সাধারণ শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ। অর্থ্যাৎ বাক্যের প্রত্যেকটি শব্দই একেকটি পদ।

  • পদের প্রকারভেদ: পদ প্রধানত দু প্রকার: সব্যয় ও অব্যয় পদ
  • সব্যয় পদ: (১) বিশেষ্য (২) বিশেষণ (৩) সর্বনাম (৪) ক্রিয়া
  • পদ মোট= ৫ প্রকার

সতর্কতা

২০২১ সালের ৯ম-১০ম শ্রেণির নতুন বাংলা ব্যাকরণ বইয়ে পদকে ৮টি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা: বিশেষ ক্রিয়া বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, অনুসর্গ, যোজক, আবেগ। শিক্ষার্থীদের এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করে দিচ্ছি। পদ প্রকরণের প্রকারভেদে নতুন নতুন শব্দ দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এগুলো আগেও ছিল, কেবল নামটা একটু পরিবর্তন হল আরকি। ৯ম-১০ম শ্রেণির পূর্বের বাংলা ব্যাকরণ বই অনুসারে অব্যয় পদের শ্রেণিবিভাগের মধ্যে ৪টি প্রকারভেদ দে যথা: সমুচ্চয়ী অব্যয়, অনন্বয়ী অব্যয়, অনুকার অব্যয় ও অনুসর্গ অব্যয়। পূর্বের সমুচ্চয়ী অব্যয়ের আলোচনাগুলোই বর্তমানে যোজকের মধ্যে দেখতে পাই। পূর্বের অনন্বয়ী অব্যয়ের আলোচনাগুলোই আমরা বর্তমানে আবেগের মধ্যে দেখতে পা আর পূর্বের বইয়ে বিশেষণকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। যথা: নাম বিশেষণ ও ভাব বিশেষণ। এই ভাব বিশেষ আবার ৪টি শ্রেণিবিভাগ ছিল যার মধ্যে একটির নাম ক্রিয়া বিশেষণ। বর্তমান বইয়ে এই ক্রিয়া বিশেষণকে স্বতন্ত্র প্রকার হিসে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিশেষ্য পদ

  • বিশেষ্য পদ কাকে বলে? = বাক্য মধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, বস্তু, জাতি, সমষ্টি, স্থান, কাল, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাকে বিশেষ্য পদ বলে। সহজ কথায় কোনো কিছুর নামকেই বিশেষ্য পদ বলে।।
  • বিশেষ্য পদ কত প্রকার? = ৬ প্রকার (সংজ্ঞাবাচক, জাতিবাচক, বস্তুবাচক, সমষ্টিবাচক, ভাববাচক, গুণবাচক)।
  • সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য কাকে বলে? = যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান বা গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়। তাকে সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন:
  • ব্যক্তির নাম - নজরুল, ওমর, আনিস, মাইকেল।
  • ভৌগোলিক স্থান - ঢাকা, দিল্লি, লন্ডন, মক্কা।
  • গ্রন্থের নাম - গীতাঞ্জলি, অগ্নিবীণা, বিশ্বনবী।
  • ভৌগোলিক সংজ্ঞা - মেঘনা (নদী),হিমালয়(পর্বত)।
  • সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যের অপর নাম কী? = নামবাচক বিশেষ্য।
  • জাতিবাচক বিশেষ্য :(এক জাতীয় প্রাণী বা পদার্থের নাম) মানুষ, গরু, গাছ, পাখি, পর্বত, নদী, ইংরেজ
  • বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য : বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, লবন, পানি
  • সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি) : সভা, জনতা, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল
  • ভাববাচক বিশেষ্য : যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো ক্রিয়ার ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যেমন: ভোজন (খাওয়ার কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), গমন (যাওয়ার কাজ), শয়ন (ঘুমানোর কাজ)।

টেকনিক:ক্রিয়ামূল + আ / অন।

  • গুণবাচক বিশেষ্য: মধুরতা, তারল্য, তিক্ততা, তারুণ্য, সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ

জাতিবাচক বিশেষ্যের পূর্বে যদি স্পষ্টভাবে নাম উল্লেখ থাকে যেমন: হিমালয় পর্বত,মেঘনা নদী,আরব সাগর বা সাহারা মরুভূমি তাহলে তা নামবাচক বা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য হবে।

বিশেষণ পদ

  • বিশেষণ পদ কাকে বলে? = যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়ার দোষ গুণ অবস্থা,সংখ্যা,পরিমাণ ইত্যাদি নির্দেশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে। যেমন: চলন্ত গাড়ি; দ্রুত চল; ভালো ছেলে; তাজা তরমুজ।
  • বিশেষণ পদ কত প্রকার? = ২ প্রকার (নাম বিশেষণ, ভাব বিশেষণ)

নাম বিশেষণ:

যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে তাকে নাম বিশেষণ বলে। যেমন:

  • বিশেষ্যের বিশেষণ: সুস্থ-সবল দেহকে কে না ভালোবাসে?
  • সর্বনামের বিশেষণ: সে রূপবানগুণবান

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:

ক. গুণবাচক - চৌকশ লোক, দক্ষ কারিগর, ঠান্ডা হাওয়া।

খ. রূপবাচক - নীল আকাশ, কালো মেঘ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা

গ. অবস্থাবাচক- তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা, চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ

ঘ. সংখ্যাবাচক - হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা ।

ঙ. ক্রমবাচক- দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।

চ. পরিমাণবাচক বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনি জাহাজ, আধা কেজি চাল, অনেক লোক।

ছ. অংশবাচক - অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ ।

জ. উপাদানবাচক - বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।

ঝ. প্রশ্নবাচক - কত দূর পথ? কেমন আছ? কেমন গান? কতক্ষণ সময়?

ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক - এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

ভাব বিশেষণ:

যে বিশেষণ পদ কোনো ক্রিয়া বা বিশেষণ পদকে বিশেষিত করে তাকে ভাব বিশেষণ বলে। যেমন,

একবার এসো। ধীরে ধীরে বায়ু বয়।।

ভাব বিশেষণ কত প্রকার? = ৪ প্রকার (ক্রিয়া বিশেষণ, বিশেষণের বিশেষণ, অব্যয়ের বিশেষণ ও বাক্যের বিশেষণ)।

ক. ক্রিয়া বিশেষণ যে বিশেষণ পদ ক্রিয়া সংগঠনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যেমন-

ক্রিয়া সংগঠনের ভাব - ধীরে ধীরে বায়ু বয়।

ক্রিয়া সংগঠনের কাল - পরে একবার এসো।

খ.বিশেষণের বিশেষণ যে পদ নাম বিশেষণ বা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে তাকে বিশেষণের বিশেষন বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে। যেমন:

নাম বিশেষণের বিশেষণ - সামান্য একটু দুধ দাও।

ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ - রকেট অতি দ্রুত চলে।

গ.অব্যয়ের বিশেষণ যে বিশেষণ পদ কোনো অব্যয় পদ বা তার অর্থকে বিশেষিত করে তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে। যেমন: ধিক তারে, শত ধিক নির্লজ্জ যে জন। বৃষ্টির মৃদু টাপুর টুপুর ছন্দে আমার ঘুম ভেঙে গেল। ঠিক যেন ফুলদানীতে ভিজিয়ে রাখা বাসি ফুলের মতো তার চেহারা।

ঘ.বাক্যের বিশেষণ কোনো বিশেষণ পদ যদি কোনো সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করে তাকে বাক্যের বিশেষণ বলে।যেমন: বাস্তবিকই, আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন। দুর্ভাগ্যবশত, দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

বিশেষণ নির্ণয়ের নিঞ্জা টেকনিক

পদ প্রকরণ অধ্যায়ের প্রশ্নগুলোর মধ্যে একটা কমন প্রশ্ন হচ্ছে বাক্যের বিভিন্ন পদের বিশেষ্য / বিশেষণ নির্ণয়। প্রায়ই দেখা যায় প্রশ্নে একটা বাক্য উল্লেখ করে বলা হয় এই বাক্যে বিশেষণ কয়টি? অথবা একটি বাক্যের যে কোনো একটি পদের নিচে দাগ দিয়ে প্রশ্ন করা হয়, নিম্নরেখাঙ্কিত পদটি কোন পদ? আবার অনেক সময় শুধু একটি শব্দ উল্লেখ করেও তা কোন পদ – এটা জানতে চায় পরীক্ষায়। এই ধরনের প্রশ্নগুলোর ক্ষেত্রে আমরা সবচেয়ে বেশি দ্বিধান্বিত হয়ে যাই। মনে হয় বিশেষ্য পদ কিন্তু পরে দেখা যায় বিশেষণ বা মনে হয় বিশেষণ পদ কিন্তু পরে দেখা যায় বিশেষ্য।

১. কেমন / কয়টি দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা বিশেষণ। যেমন: নীল আকাশ; কেমন আকাশ? উত্তর - নীল। পাঁচটি কলম; কয়টি কলম? উত্তর - পাঁচটি।

২.অতিরিক্ত তথ্যগুলোই বিশেষণ। যেমন: সামান্য একটু দুধ দাও। এ বাক্যে মূল অংশ ‘দুধ দাও আর অতিরিক্ত তথ্য দুটি;

সামান্য এবং একটু। সুতরাং এই দুটি শব্দই বিশেষণ।

৩. বিশেষ্যের আগে ব্যবহৃত বিশেষ্য যা পরের বিশেষ্যকে বিশেষিত করে সেক্ষেত্রে আগের বিশেষ্যটি বিশেষণ বলে গণ্য হবে।

যেমন: গদ্যভাষা দুটিই বিশেষ্য। এক্ষেত্রে ‘গদ্য ভাষা’ এমন হলে ‘গদ্য’ বিশেষণ হবে।

৪. শব্দের শেষে ঈন, ইক, ইত, ঈয়, ধর, ইষ্ট, মতী, বতী, ব্রতী, মান, বান, কুল, শীল, শালী, স্পর্শী, হীন, পূর্ণ, নিপুণ, ময়, ধর্মী,অনীয়, গত, অন্ত, তর, তম, প্রবণ যুক্ত থাকলে তা বিশেষণ হবে। যেমন: ব্যবহার + ইক = ব্যাবহারিক, মায়া + বতী = মায়াবতী, কণ্টক + ই = কণ্টকিত, গুণ + বান = গুণবান, বুদ্ধি + মান = বুদ্ধিমান, ইউরোপ + ঈয় = ইউরোপীয়, সত্য + ব্রতী = সত্যব্রতী,শক্তি + ধর = শক্তিধর, সাহিত্য + ইক = সাহিত্যিক, বিত্ত + শালী = বিত্তশালী, সম্পদ + শালী = সম্পদশালী ইত্যাদি।

এই চারটি টেকনিক যে ভুল তা কিন্তু নয়। কিন্তু আমার কাছে টেকনিকগুলো একটু কঠিন মনে হয়। বিশেষ করে ৩ নং পয়েন্টের এত এত প্রত্যয় - এগুলো মনে রাখাটাই ঝামেলার বিষয়। কিন্তু এগুলো মনে রাখাটাই অনেক সময় কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। তাহলে এবার চলুন ওপরের সবগুলো কৌশল বাদ দিয়ে মাত্র ২টি নিঞ্জা টেকনিকে বিশেষণ নির্ণয় শিখে ফেলি।

বাক্যের মধ্য থেকে বিশেষণ নির্ণয়।

এ কোনো একটি বাক্য দিয়ে তার মধ্য থেকে যেকোনো একটি পদের নিচে দাগ দিয়ে তা বিশেষ্য ও শেষণ এই দুটির মধ্যে কোন পদ জানতে চাইলে প্রথমত আমরা সেটিকে বিশেষণ হিসেবেই কল্পনা করে রবো। তারপর চেষ্টা করব বিশেষণ পদটি কাকে বিশেষায়িত করছে তা নির্ণয় করার। যদি বিশেষণ পদটি ক্যের অন্য কোনো পদকে বিশেষায়িত করে তাহলে আমাদের ধরে নেওয়া সেই বিশেষণ পদটি আসলেই বিশেষণ আর যদি বিশেষণ পদটি বাক্যের অন্য কোনো পদকে বিশেষায়িত না করে তাহলে আমরা ধরে নেওয়া সেই বিশেষণ পদটি মূলত বিশেষ্য। যেমন: অন্ধ লোকটি সমাজের সকল অন্ধের পথপ্রদর্শক।

ব্যাখ্যা: এখানে দুটি অন্ধের কোনটি কোন পদ? টেকনিক অনুযায়ী প্রথমে আমরা দুটি অন্ধ পদকেই বিশেষণ ধরে নেই। এখন চেষ্টা করি খুজে বের করার যে পদদুটি বাক্যের অন্য কোনো পদকে বিশেষায়িত করছে কি না? লক্ষ করে দেখুন প্রথম অন্ধ পদটি বাক্যের ‘লোক’ পদকে বিশেষায়িত করছে অর্থাৎ লোকটি কেমন তার অবস্থা বুঝাচ্ছে। তার মানে বাক্যের প্রথম ‘অন্ধ’ পদটি বিশেষণ। এখন দ্বিতীয় ‘অন্ধ’ পদটিকে আমরা প্রাথমিকভাবে বিশেষণ হিসেবে ধরে নিলেও লক্ষ করে দেখুন তা বাক্যের অন্য কোনো পদকে বিশেষায়িত করছে না। তাই দ্বিতীয় অন্ধ পদটি অবশ্যই বিশেষ্য পদ হবে।

 

শব্দ দেখে বিশেষণ নির্ণয়

শব্দ দেখেই তা বিশেষ্য না কি বিশেষণ তা নির্ণয়ের জন্য দুটি টেকনিক রয়েছে।

টেকনিক -১: শব্দটির সাথে যদি বিভক্তি যুক্ত করা যায় তাহলে তা বিশেষ্য; আর না গেলে তা বিশেষণ

টেকনিক -২: প্রশ্নে যে শব্দটি উল্লেখ করা থাকবে তার আগে বা পরে অন্য আরেকটি শব্দ কল্পনা করে নিবো। যদি সেই কল্পিত শব্দটি প্রশ্নে উল্লিখিত শব্দের আগে বসানো যায় তাহলে প্রশ্নে উল্লিখিত শব্দটি বিশেষ্য। আর যদি সেই কল্পিত শব্দটি প্রশ্নে উল্লিখিত শব্দের পরে বসানো যায় তাহলে প্রশ্নে উল্লিখিত শব্দটি বিশেষণ

→ গৈরিক, গাম্ভীর্য, উদ্ধত, সমর্থ, জীবন, দরিদ্র – এগুলো কোনটি কোন পদ?

কল্পিত শব্দ + প্রশ্নে উল্লিখিত শব্দ= বিশেষ্য

প্রশ্নে উল্লিখিত শব্দ + কল্পিত শব্দ = বিশেষণ

ব্যাখ্যা: প্রথমে আমরা উল্লিখিত শব্দগুলোতে ওপরের দুটি টেকনিক প্রয়োগ করি।

১| গৈরিক বসন – অর্থাৎ গেরুয়া রঙের বস্ত্র। এখানে কল্পিত শব্দ ‘বসন’ যা প্রশ্নে প্রদত্ত শব্দের পরে বসেছে। তার মানে প্রশ্নে প্রদত্ত শব্দটি বিশেষণ।

২| গাম্ভীর্যের ভাব – এখানে ‘গাম্ভীর্য’ শব্দটির সাথে বিভক্তি যুক্ত করা গিয়েছে। তার মানে ‘গাম্ভীর্য’ শব্দটি বিশেষ্য। এখন আবার এটা ভাববেন না যে গাম্ভীর্যের ভাব – এখানে কল্পিত শব্দ ‘ভাব’ যা প্রশ্নে প্রদত্ত শব্দের পরে বসেছে। তাহলে তো ‘গাম্ভীর্য শব্দটি বিশেষণ হওয়ার কথা, কিন্তু বিশেষ্য কেনো হলো? মনে রাখবেন, কল্পিত শব্দটি পরে বসলে প্রশ্নে প্রদত্ত শব্দটি তখনই বিশেষণ হবে যদি মূল শব্দের পরিবর্তন না হয়। এখানে কল্পিত শব্দ ‘ভাব’ বসানোর কারণে মূল শব্দের পরিবর্তন হয়েছে। তাই এটি বিশেষণ না হয়ে বিশেষ্য হয়েছে।

৩|উদ্ধত আচরণ – কল্পিত শব্দ পরে বসেছে এবং সেক্ষেত্রে মূল শব্দের কোনো পরিবর্তনও হয়নি। তাই ‘উদ্ধত’ বিশেষণ।

৪|সমর্থ ব্যক্তি – কল্পিত শব্দ পরে বসেছে এবং সেক্ষেত্রে মূল শব্দের কোনো পরিবর্তনও হয়নি। তাই ‘সমর্থ’ বিশেষণ।

৫|জীবনের জয়গান – বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। যদিও মূল শব্দের পরে কল্পিত শব্দ যুক্ত করা গিয়েছে তবে সেক্ষেত্রে মূল শব্দের পরিবর্তনও হয়েছে। তাই এখানে ‘জীবন’ বিশেষ্য।

৬|দরিদ্র লোক – কল্পিত শব্দ পরে বসেছে এবং সেক্ষেত্রে মূল শব্দের কোনো পরিবর্তনও হয়নি। তাই দরিদ্র বিশেষণ।

একই পদের বিশেষ্য ও বিশেষন রূপে প্রয়োগ

বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহারিত হতে পারে । যেমন: –

ভালো: বিশেষণ রূপে –ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন।

      বিশেষ্য রূপে – আপন ভালো সবাই চায়।

মন্দ: বিশেষণ রূপে – মন্দ কথা বলতে নেই।

     বিশেষ্য রূপে – এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে?

পুন্য: বিশেষণ রূপে – তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক ।

     বিশেষ্য রূপে – পুণ্যে মতি হোক ।

নিশীথ: বিশেষণ রূপে – নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি ।

      বিশেষ্য রূপে: গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত ।

শীত: বিশেষন রূপে – শীতকালে কুয়াশা পড়ে ।

     বিশেষ্য রূপে – শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার ।

সত্য: বিশেষণ রূপে – সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল ।

     বিশেষ্য রূপে – এ এক বিরাট সত্য ।

বিশেষণের অতিশায়ন:

বিশেষণ পদ যখন দুই বা ততোধিক বিশেষ্য পদের মধ্যে গুণ, অবস্থা, পরিমাণ প্রভৃতি বিষয়ে তুলনায় একের উৎকর্ষ বা অপকর্ষ বুঝিয়ে থাকে,তখন তাকে বিশেষণের অতিশায়ন বলে। যেমন:– যমুনা একটি দীর্ঘ নদী,পদ্মা দীর্ঘতর, কিন্তু মেঘনা বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী। সূর্য় ,পৃথিবী ও চন্দ্রের মধ্যে তুলনায় সূর্য বৃহত্তম ,পৃথিবী চন্দ্রের চেয়ে বৃহত্তর এবং চন্দ্র পৃথিবী অপেক্ষা ক্ষুদ্রতর।

ক) বাংলা শব্দের অতিশায়ন:

১) বাংলা শব্দের অতিশায়নে দুয়ের মধ্যে ৫মী বিভক্তি (চাইতে, চেয়ে , হইতে, হতে, অপেক্ষা, থেকে) ইত্যাদি শব্দ ব্যবহারিত হয় । এসব ক্ষেত্রে দুয়ের মধ্যে তারতম্য বোঝাতে প্রথম বিশেষ্যটি প্রায়ই ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত হয়ে থাক।

গোরুর থেকে ঘোড়ার দাম বেশি,বাঘের চেয়ে সিংহ বলবান।

২) বহুর মধ্যে অতিশায়ন: অনেকের মধ্যে একের উৎকর্ষ বা অপকর্ষ বোঝাতে মূল বিশেষণের কোন পরিবর্তন হয় না । মূল বিশেষণের পূর্বে সবচাইতে, সবচেয়ে,সব থেকে ,সর্বাপেক্ষা ,সর্বাধিক প্রভৃতি শব্দ ব্যবহার হয় । যথা: – 

  • নবম শ্রেণির ছাত্রদের মধ্যে করিম সবচেয়ে বুদ্ধিমান।
  • ভাইদের মধ্যে বিমলই সবচাইতে বিচক্ষণ।
  • পশুর মধ্যে সিংহ সর্বাপেক্ষা বলবান।

৩) দুটি বস্তুর মধ্যে অতিশায়নে জোর দিতে হলে মূল বিশেষণের আগে অনেকে, অধিক, বেশি , অল্প, কম, অধিকতর প্রভৃতি বিশেষণীয় বিশেষণ যোগ করতে হয় । যথা : –

  • পদ্মফুল গোলাপের চাইতে অনেক সুন্দর।
  • ‍ঘিয়ের চেয়ে দুধ বেশি উপকারী।
  • কমলার চাইতে পাতিলেবু অল্প ছোট।

৪) কখনো কখনো ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দে ষষ্ঠী বিভক্তিই অতিশায়নের কার্যসাধন করে । যেমন: – এ মাটি সোনার বাড়া।

খ) তৎসম শব্দের অতিশায়ন:

১) তৎসম শব্দের অতিশায়নে দুয়ের মধ্যে তর এবং বহুর মধ্যে তম প্রত্যয় যুক্ত হয়ে থাকে । যেমন: – গুরু-গুরুতর-গুরুতম । দীর্ঘ-দীর্ঘতর-দীর্ঘতম।

কিন্তু তর প্রত্যয়যুক্ত বিশেষনটি শ্রুতিকটু হলে তর প্রত্যয় যোগ না করে বিশেষণের পূর্বে অধিকতর শব্দটি যোগ করতে হয় । যেমন: – অশ্ব হস্তী অপেক্ষা অধিকতর সুশ্রী।

২) বহুর মধ্যে অতিশায়নে তুলনীয় বস্তুর উল্লেখ না করেও “তম“ প্রত্যয় যুক্ত হতে পারে । যেমন: – মেঘনা বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী । দেশসেবার মহত্তম ব্রতই সৈনিকের দীক্ষা ।

৩) তৎসম শব্দের অতিশায়নে দুয়ের মধ্যে তুলনায় ঈয়স্ প্রত্যয় এবং বহুর মধ্যে তুলনায় ইষ্ঠ প্রত্যয় যুক্ত হয় । বাংলায় সাধারণত “ ঈয়স্ “ প্রত্যয়ান্ত শব্দগুলো ব্যবহারিত হয় না ।যেমন:–

মূল বিশেষন

দুয়ের তুলনায়

বহুর মধ্যে

 লঘু

লঘীয়ান

লঘিষ্ঠ

অল্প

কনীয়ান

কনিষ্ঠ

বৃদ্ধ

জ্যায়ান

জ্যেষ্ঠ

শ্রেয়

শ্রেয়ান

শ্রেষ্ঠ

উদাহরন: তিন ভাইয়ের মধ্যে রহিমই জ্যেষ্ঠ এবং করিম কনিষ্ঠ । সংখ্যাগুলোর লঘিষ্ঠ সাধারন গুণিতক বের কর ।

৪)ঈয়স্ প্রত্যয়ান্ত কোনো কোনো শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ রূপ বাংলায় প্রচলিত আছে । যেমন: – ভূয়সী প্রশংস।

সর্বনাম পদ

বিশেষ্যের পরিবর্তে যে শব্দ ব্যবহারিত হয়,তাকে সর্বনাম পদ বলে ।

সর্বনাম সাধারণত ইতোপূর্বে ব্যবহারিত বিশেষ্যের প্রতিনিধি স্থানীয় শব্দ । যেমন: – হস্তী প্রাণিজগতের সর্ববৃহৎ প্রানী । তার শরীরটি যেন বিরাট এক মাংসের স্তূপ ।

`দ্বিতীয় বাক্যে তার শব্দটি প্রথম বাক্যের হস্তী বিশেষ্য পদটির প্রতিনিধি স্থানীয় শব্দরূপে ব্যবহারিত হয়েছে । তাই তার শব্দটি সর্বনাম পদ । বিশেষ্য পদ অনুক্ত ক্ষেত্রবিশেষে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে সর্বনাম পদ ব্যবহারিত হতে পারে । যেমন: –

ক) যারা দেশের ডাকে সাড়া দিতে পারে, তারাই তো সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ।

খ) ধান ভানতে যারা শিবের গীত গায়, তারা স্থির লক্ষ্যে পেীঁছতে পারে না ।

সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:

বাংলা ভাষায় ব্যবহারিত সর্বনামসমূহকে ১০ ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

১) ব্যক্তিবাচক বা পুরূষবাচক : আমি , আমরা , তুমি , তোমরা , সে, তারা , তাহারা , তিনি , তাঁরা , এ, এরা, ও , ওরা ইত্যাদি ।

২) আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি ।

৩) সামীপ্যবাচক: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি ।

৪) দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব ।

৫) সাকল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়,তাবৎ ।

৬) প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে ?

৭) অনির্দিষ্টতাগ্রাপক: কোন,কেহ ,কেউ,কিছু ।

৮) ব্যাতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি ।

৯) সংযোগ্রাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি ।

১০) অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি ।

সর্বনামের পুরূষ:

” পুরূষ“ একটি পারিভাষিক শব্দ । বিশেষ্য ,সর্বনাম ও ক্রিয়ারই পুরূষ আছে । বিশেষণ ও অব্যয়ের পুরূষ নেই ।

ব্যাকরনে পুরুষ তিন প্রকার-

১) উত্তম পুরুষ ২) মধ্যম পুরুষ ৩) নাম পুরুষ ।

১) উত্তম পুরুষ – স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ । আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ ।

) মধ্যম পুরুষ – প্রত্যক্ষভাবে  উদ্দিষ্ট ব্যাক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ । তুমি , তোমরা , তোমাকে , তোমাদের , তোমাদিগকে ,আপনি, আপনারা , আপনার , আপনাদের প্রভৃতি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ ।

৩)নাম পুরুষ – অনুপস্থিত অথবা পরোভাবে উুদ্দিষ্ট ব্যাক্তি ,বস্তু বা প্রাণীই নাম পুরুষ । সে ,তারা, তাহারা, তাদের ,তাহাকে ,তিনি,তাঁকে,তাঁরা,তাঁদের প্রভৃতি নাম পুরুষ। (সমস্ত বিশেষ্য শব্দই নাম পুরুষ)।

পুরুষভেদে ব্যাক্তিবাচক সর্বনামগুলোর রূপ

রূপ

উত্তম পুরুষ

মধ্যম পুরুষ

নাম পুরুষ

সাধারণ

আমি , আমরা , আমাকে , আমাদিগকে , আমার , আমাদের, কবিতায় , মোর, মোরা

   তুমি , তোমরা , তোমাকে, তোমাদিগকে, তোমার , তোমাদের

সে, তারা , তাহারা , তাকে , তাহাকে

সম্রতাত্মক

 

আপনি , আপনারা , আপনাকে , আপনার, আপনাদের

তিনি , তাঁরা , তাঁহারা , তাঁদের , তাঁহাদিগকে , তাঁদেরকে , তাঁহাকে , তাঁকে, ইনি , এঁর, এঁরা , এঁদের , ইহাকে , এঁকে , উনি ,ওঁর, ওঁরা , ওঁদের

তুচ্ছার্থক বা ঘনিষ্ঠতা-গ্রাপক।

 

 

ইহা , ইহারা , এই , এ , এরা , উহা , উহারা , ও , ওরা , ওদে

 

অব্যয় পদ

ন ব্যয় = অব্যয়। যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না,অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়। অব্যয় শব্দের সাথে কোনো বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না ,সেগুলোর এক বচন বা বহু বচন হয় না এবং সেগুলোর স্ত্রী ও পুরুষবাচকতা নির্ণয় করা যায় না ।

যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে , কখনো একাধিক পদের , বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বদ্ধ ঘটায় , তাকে অব্যয় পদ বলে ।

বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে – বাংলা অব্যয় শব্দ, তৎসম অব্যয় শব্দ এবং বিদেশি অব্যয় শব্দ

১) বাংলা অব্যয় শব্দ : আর ,আবার,ও ,হাঁ , না ইত্যাদি ।

২) তৎসম অব্যয় শব্দ :  যদি,যথা ,সদা ,সহসা ,হঠাৎ,অর্থাৎ ,দৈবাৎ ,বরং ,পুনশ্চ ,আপাতত,বস্তুত ইত্যাদি । “ এবং “ ও “ সুতরাং “ তৎসম শব্দ হয়েও বাংলায় এগুলোর অর্থ পরিবর্তিত হয়েছে । সংস্কৃতে “ এবং “ শব্দের অর্থ এমন , আর “ সুতরাং “ অর্থ অত্যন্ত , অবশ্য । কিন্তু এবং =ও ( বাংলা ) , সুতরাং = অতএব ( বাংলা ) ।

৩) বিদেশি অব্যয় শব্দ : আলবত , বহুত , খুব , শাবাশ , খাসা , মাইরি , মারহাবা   ইত্যাদি ।

বিবিধ উপায়ে গঠিত অব্যয় শব্দ :

১) একাধিক অব্যয় শব্দযোগে : কদাপি , নতুবা , অতএব , অথবা ইত্যাদি ।

২) আনন্দ বা দু:খ প্রকাশক একই শব্দের দুইবার প্রয়োগে : ছি ছি , ধিক্ ধিক্ , বেশ বেশ ইত্যাদি ।

৩) দুটি ভিন্ন শব্দযোগে : মোটকথা , হয়তো , যেহেতু , হইলে ইত্যাদি ।

৪) অনুকার শব্দযোগে : কুহু কুহু , গুন গুন , ঘেউ ঘেউ , শন শন , ছল ছল , কন কন ইত্যাদি ।

অব্যয়ের প্রকারভেদ:

অব্যয় প্রধানত চার প্রকার :

১) সমুচ্চয়ী ২) অনন্বয়ী ৩) অনুসর্গ ৪) অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়

১) সমুচ্চয়ী অব্যয় : যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন , বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায় , তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে । সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার: ১) সংযোজক , ২) বিয়োজক ও ৩) সংকোচক

ক) সংযোজক অব্যয় : বাক্যস্থিত দুটি পদের মধ্যে আর, তাই, তথা এবং ও সতরাং অধিকন্তু ইত্যাদি অব্যয় ব্যবহার করে সংযোগ স্থাপন করা হলে তা সংযোজক অব্যয়। যেমন:

উচ্চপদ সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায় । এখানে “ “ অব্যয়টি বাক্যস্থিত দুটি পদের সংযোজন করছে ।

তিনি সৎ,তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে । এখানে “ তাই “ অব্যয়টি দুটি বাক্যের সংযোজন ঘটাচ্ছে । আর, অধিকন্তু , সুতরাং শব্দগুলোও সংযোজক অব্যয় ।

খ) বিয়োজক অব্যয় : বাক্যাইত দুটি পদের মধ্যে বা, অথবা, নতুবা, কিংবা হয়তো নয়তো, না হয় ইত্যাদি অব্যয় ব্যবহার করে সম্পর্ক স্থাপন করা হলে তা বিয়োজক অব্যয়।

১) হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী । এখানে “ কিংবা “ অব্যয়টি দুটি পদের(হাসেম এবং কাসেমের)বিয়োগ সম্বদ্ধ ঘটাচ্ছে।

২) “ মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর  পাতন “ । এখানে “ কিংবা “ অব্যয়টি দুটি বাক্যাংশের বিয়োজক ।

আমরা চেষ্টা করেছি বটে , কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি । এখানে “ কিন্তু “ অব্যয়  দুটি বাক্যের বিয়োজক । বা , অথবা , নতুবা , না হয় , নয়তো শব্দগুলো বিয়োজক অব্যয় ।

টেকনিক: বিয়োজক অব্যয় সর্বদা দুটি অংশের মধ্যে একে অপরের বিকল্প নির্দেশ করবে। যেমন: চা না হয় কফি খান - এখানে বুঝাচ্ছে চা বা কফি যেকোনো একটা খান।

গ) সংকোচক অব্যয়: বাক্যস্থিত দুটি পদের মধ্যে অথচ, বরং, কিন্তু, তথাপি ইত্যাদি অব্যয় ব্যবহার করে অর্থের সংকোচন ঘটানো হলে তা সংকোচক অব্যয়। তিনি বিদ্বান , অথচ সৎ ব্যাক্তি নন । এখানে “ অথচ “ অব্যয়টি দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করছে । কিন্তু , বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

টেকনিক: বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটিয়ে প্রথম অংশের সঙ্গে দ্বিতীয় অংশের বিরোধ সম্পর্ক প্রকাশ করে। যেমন: তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না।এখানে ‘তবু’ অব্যয়টি বাক্যের ‘আসতে বললাম’ ও ‘এলো না’ অংশের মধ্যে বিরোধ বুঝায়।

অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় : যে , যদি , যদিও , যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থাকে । তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে । যেমন: –

  • তিনি এত পরিশ্রম কনের যে তার স্বাস্থ্যভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা আছে ।
  • আজ যদি (শর্ত বাচক) পারি , একবার সেখানে যাব ।
  • এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার ।

২) অনন্বয়ী অব্যয় : যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয় , তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে । যেমন:-

  • উচ্ছ্বাস প্রকাশে : মরি মরি ! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ !
  • স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি : হ্যাঁ, আমি যাব । না , আমি যাব না ।
  • সম্মতি প্রকাশে : আমি আজ আলবত যাব ! নিশ্চয়ই পারব ।
  • অনুমোদনবাচকতায় : আপনি যখন বলছেন , বেশ তো আমি যাব ।
  • সমর্থনসূচক জবাবে : আপনি যা জানেন তা তো ঠিকই বটে ।
  • যন্ত্রনা প্রকাশে: উ:! পায়ে বড্ড লেগেছে । না:! এ কষ্ট অসহ্য ।
  • ঘৃনা বা বিরক্তি প্রকাশে: ছি ছি , তুমি এত নীচ ! কী আপদ! লোকটা যে পিছু ছাড়ে না ।
  • সম্বোধনে: ” ওগো “ আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে !
  • সম্ভাবনায়: “ সংশয়ে সংকল্প সদা টলে,পাছে লোকে কিছু বলে ।

বাক্যালংকার অব্যয় : কয়েকটি অব্যয় শব্দ নিরর্থকভাবে ব্যবহারিত হয়ে বাক্যের শোভাবর্ধন করে, এদের বাক্যালংকার অব্যয় বলে । যেমন: – কত না হারানো স্মৃতি জাগে আজও মনে ।, “ হায়রে ভাগ্য , হায়রে লজ্জা, কোথায় সভা ,কোথায় সজ্জা ।

৩) অনুসর্গ : যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে , তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে । যথা – ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না । ( দিয়ে অনুসর্গ অব্যয় ) ।

অনুসর্গ অব্যয়  “ পদান্বয়ী অব্যয় “ নামেও পরিচিত ।

অনুসর্গ অব্যয় দুই প্রকার:  ক) বিভক্তিসূচক অব্যয় এবং খ) বিভক্তি রূপে ব্যবহারিত অনুসর্গ ।

৪) অনুকার অব্যয় : যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব , শব্দ বা ধ্বনির অনুকরনে গঠিত হয় , সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে । যথা : –

কজ্রের ধ্বনি – কড় কড় 

মেঘের গর্জন – গুড় গুড়

বৃষ্টির তুমুল শব্দ – ঝম ঝম  

সিংহের গর্জন – গর গর

স্রোতের ধ্বনি – কল কল  

ঘোড়ার ডাক – চিঁহি চিঁহি

বাতাসের গতি – শন শন  

কাকের ডাক – কা কা

শষ্ক পাতার শব্দ – মর মর 

কোকিলের রব – কুহু কুহু

নূপুরের আওয়াজ  – রুম ঝুম  

চুড়ির শব্দ – টুং টাং

 

অনুভূতিমূলক অব্যয় ও অনুকর অব্যয়ের শ্রেণিভুক্ত । যথা –

ঝাঁ ঝাঁ ( প্রখরতাবাচক ) , খাঁ খাঁ ( শূন্যতাবাচক ) , কচ কচ , কট কট , টল মল , ঝল মল , চক চক , ছম ছম , টন টন, খট খট ইত্যাদি ।

অনুকার অব্যয় দুই প্রকার :

ক) অব্যয় বিশেষন : কতগুলো অব্যয় বাক্যে ব্যবহারিত হলে নাম-বিশেষণ , ক্রিয়া-বিশেষণ এবং বিশেষণীয় বিশেষণের অর্থবাচকতা প্রকাশ করে থাকে । এদের অব্যয় বিশেষণ বলা হয় । যথা – 

  • নাম-বিশেষণ : অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ ।
  • ভাব বিশেষণ : আবর যেতে হবে ।
  • ক্রিয়া বিশেষণ : অন্যত্র চলে যায় ।

খ) নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় : কতগুলো যুগ্মশব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল , সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় রূপে পরিচিত । যেমন: যথা – তথা , যত-তত , যখন – তখন , যেমন-তেমন , যেরূপ – সেরূপ ইত্যাদি । উদাহরণ:- যথা ধর্ম তথা জয় । যত গর্জে তত বর্ষে না ।

গ) ত (সংস্কৃত তস্) প্রত্যায়ান্ত অব্যয় : এরকম তৎসম অব্যয় বাংলায় ব্যবহারিত হয় । যথা : ধর্মত বলছি । দুর্ভাগ্যবশত পরীক্ষায় ফেল করেছি । অন্তত তোমার যাওয়া উচিত । গ্রানত মিথ্যা বলিনি।

একই অব্যয় শব্দের বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার

 

আর 

 

পুনরাবৃত্তি  : ও দিকে আর যাব না ।

নির্দেশ অর্থে : বল, আর কী চাও ?

নিরাশায় : সে দিন কি আর আসবে ?

বাক্যালংকারে : আর কি বাজবে বাঁশি ?

 

 

 

সংযোগ অর্থে : করিম ও রহিম দুই ভাই ।

সম্ভাবনায় : আজ বৃষ্টি হতেও পারে ।

তুলনায় : ওকে বলাও যা , না বলাও তা ।

স্বীকৃতি গ্রাপনে : খেতে যাবে? গেলেও হয় ।

হতাশা গ্রাপনে : এক চেষ্টাতেও হলো না ।

 

কি/কী

 

জিজ্ঞাসায় :  তুমি কি বাড়ি যাচ্ছ ?

বিরক্তি প্রকাশে : কী বিপদ , লোকটা যে পিছু ছাড়ে না ।

সাকুল্য অর্থে :  কি আমীর কি ফকির , একদিন সকলকেই যেতে হবে ।

বিড়ম্বনা প্রকাশে : তোমাকে নিয়ে কী মুশকিলেই না পড়লাম ।

 

 

না

 

নিষেধ অর্থে : এখন যেও না ।

বিকল্প প্রকাশে : তিনি যাবেন , না হয় আমি যাব ।

আদর প্রকাশে বা অনুরোধে : আর একটি মিষ্টি খাও না খোকা । আর একটা গান গাও না ।

সম্ভানায় : তিনি না কি ঢাকায় যাবেন ।

বিস্ময়ে : কী করেই না দিন কাটাচ্ছ !

তুলনায় : ছেলে তো না , যেন একটা হিটলার ।

 

 

 

যেন

 

উপমায় : মুখ যেন পদ্মফুল ।

প্রার্থনায় : খোদা যেন তোমার মঙ্গল করেন ।

তুলনায় : ইস্ ঠান্ডা যেন বরফ ।

অনুমানে : লোকটা যেন আমার পরিচিত মনে হলো ।

সতর্কীকরণে : সাবধানে চল , যেন পা পিছলে না পড় ।

ব্যাঙ্গ প্রকাশে : ছেলে তো নয় যেন ননীর পুতুল ।

ক্রিয়াপদ

  • ক্রিয়াপদ ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়? =শব্দতত্ত্বে।
  • যে পদের দ্বারা কোনো কার্য সম্পাদন বোঝায় তাকে ক্রিয়াপদ বলে। যেমন: আমি বই পড়ি, সে ভাত খায়।
  • ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে কী অনুযায়ী কালসূচক ক্রিয়া বিভক্তি যোগ করে ক্রিয়াপদ গঠন করা হয়? = পুরুষ অনুযায়ী।
  • মনোভাব সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ পায় না = ক্রিয়াপদ ছাড়া।
  • সাধারণত কোন ধাতু গঠিত ক্রিয়াপদ উহ্য থাকে? = ‘হ’ এবং “আছ’ ধাতু।
  • কয়টি দৃষ্টিকোণ থেকে ক্রিয়াপদের শ্রেণিবিভাগ করা যায়? = ২টি (ভাব প্রকাশের দিক এবং গঠনগত দিক)।
  • ভাব প্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া কত প্রকার? = ২ প্রকার (সমাপিকা, অসমাপিকা)।
  • সমাপিকা ক্রিয়া কী? = যে ক্রিয়াপদ দ্বারা বাক্যের মনোভাবের সম্পূর্ণ প্রকাশ ঘটে তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন: ছেলেরা  খেলা করছে, মেয়েরা ফুল তুলছে।
  • অসমাপিকা ক্রিয়া কী? = যে ক্রিয়া পদ দ্বারা বাক্যের মনোভাবের সম্পূর্ণ প্রকাশ ঘটেনা তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন:

প্রভাতে সূর্য উঠলে .............

আমরা হাত মুখ ধুয়ে ...............

সূর্য পৃথিবীর চেয়ে ..................

 

অসমাপিকা ক্রিয়া চিহ্নিতকরণের সহজ সুত্র:

কোনো ক্রিয়ার শেষে এ, লে, তে এই তিনটির যেকোনো একটি থাকলে তা অসমাপিকা ক্রিয়া। যেমন: আমি পড়তে বসলে....., আমি টিভি দেখতে দেখতে....., আমি ভাত খেতে খেতে..... ইত্যাদি।

তবে ক্রিয়াপদটি যদি বাক্যের শেষপদ হয় তাহলে এ, লে, তে যুক্ত থাকলেও তা সমাপিকা ক্রিয়া। যেমন: ঘণ্টা বাজে। প্রভাতে সূর্য উঠলে অন্ধকার দূর হয়। বৃষ্টি পড়ে। চা ক্রমশ জুড়িয়ে যাচ্ছে ইত্যাদি।

ধাতু ও ক্রিয়া

ক্রিয়ার মূল অংশ হল ধাতু। ধাতুর সঙ্গে ধাতু বিভক্তি বা ক্রিয়া বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়। যেমন- “আয়েষা পড়াশোনা

করছে” এই বাক্যে ‘করছে’ ক্রিয়াপদটি এসেছে ‘কর্’ ধাতুর সঙ্গে ‘ছে’ বিভক্তি যুক্ত হয়ে।

ক্রিয়াপদ কত প্রকার ও কি কি

আমাদের ভাব প্রকাশের দিক থেকে ক্রিয়া পদকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা-

- সমাপিকা ক্রিয়া এবং

- অসমাপিকা ক্রিয়া।

গঠনগত দিক দিয়ে ক্রিয়াকে ৬টি শ্রেনীতে বিভক্ত করা যায়। যেমন –

১. সকর্মক ক্রিয়া,

২. অকর্মক ক্রিয়া,

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া,

৪. প্রযোজক ক্রিয়া,

৫. যৌগিক ক্রিয়া ও

৬. মিশ্র ক্রিয়া।

সকর্মক ক্রিয়া:

ক্রিয়াকে ‘কী’ বা ‘কাকে দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই হচ্ছে কর্ম পদ। যে ক্রিয়ার ১টি কর্ম পদ থাকে তাকে সকর্মক ক্রিয়া বলে। যথা: আমি ভাত খাব (কী খাব? = ভাত)।

অকর্মক ক্রিয়া:

যে ক্রিয়ার কোনো কর্মপদ থাকে না তাকে অকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন: মেয়েটি নাচে। ছেলেরা খেলে।  

দ্বিকর্মক ক্রিয়া:

যে ক্রিয়ার দুইটি কর্মপদ থাকে তাকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন: বাবা আমাকে একটি কলম (কাকে দিয়েছেন? = আমাকে; কী দিয়েছেন? = কলম)। দ্বিকর্মক ক্রিয়ার বস্তুবাচক কর্মটি মুখ্য কর্ম আর প্রাণিবাচক কয় কর্ম। সুতরাং ওপরের উদাহরণে ‘কলম’ মুখ্য কর্ম আর ‘আমাকে’ গৌণ কর্ম।

প্রযোজক ক্রিয়া:

কোন কাজ নিজে না করে অন্যকে দিয়ে করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। সংস্কৃত ব্যাকরণে প্রযোজক ক্রিয়াকে ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়।

ক. প্রযোজক কর্তা: যে কর্তা ক্রিয়া প্রযোজনা করে তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।

খ. প্রযোজ্য কর্তা: প্রযোজক কর্তা যাকে দিয়ে ক্রিয়া পরিচালনা করে তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে। যেমন:

প্রযোজক কর্তা

প্রযোজ্য কর্তা

প্রযোজক ক্রিয়া

ব্যাখ্যা

মা

শিশুকে

চাঁদ দেখায়।

প্রযোজক কর্তা (মা) দেখে না, প্রযোজ্য কর্তা (শিশুকে) দেখায়।

তুমি

খোকাকে

কাঁদিও না।

প্রযোজক কর্তা (তুমি) কাঁদে না, প্রযোজ্য কর্তা (খোকাকে) কাঁদায়

সাপুড়ে

সাপ

খেলায়।

প্রযোজক কর্তা (সাপুড়ে) খেলে না, প্রযোজ্য কর্তা (সাপ) খেলায়।

প্রযোজক ক্রিয়ার গঠন: প্রযোজক ক্রিয়ার ধাতু = মূল ক্রিয়ার ধাতু + আ। যেমন: (মূল ধাতু) √হাস্ + আ = হাসা (প্রযোজক ক্রিয়ার ধাতু)। √হাসা+চ্ছেন (ক্রিয়া বিভক্তি) = হাসাচ্ছেন (প্রযোজক ক্রিয়া)।

যৌগিক ক্রিয়া

একটি অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে একটি মৌলিক ক্রিয়া যোগ করে যে ক্রিয়াপদ পাওয়া যায় তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমন- ১. কিছু খেতে দাও। ২. সামনে গেলেই মারতে আসছে। ৩. পড়াশোনা চালিয়ে যাও। যেমন:

তাগিদ দেওয়া অর্থে: ঘটনাটা শুনে রাখ।

নিরন্তরতা অর্থে: তিনি বলতে লাগলেন।

কার্য সমাপ্তি অর্থে: ছেলে মেয়েরা শুয়ে পড়ল।

আকস্মিকতা অর্থে: সাইরেন বেজে উঠল।

অভ্যস্ততা অর্থে: শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।

অনুমোদন অর্থে: এখন যেতে পার।

যৌগিক ক্রিয়া চিহ্নিতকরণের সহজ উপায়: একই বাক্যে যদি একটি অসমাপিকা ক্রিয়া এবং একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাহলে তা যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।

মিশ্র ক্রিয়া:

বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সাথে কর, ধর, মার, ছাড়, হ, দে, পা, কাট, খা, যা ইত্যাদি ধাতু যোগে গঠিত ক্রিয়াকে মিশ্র ক্রিয়া বলে। যেমন:

+ বিশেষ্যের পর: আমরা তাজমহল দর্শন করলাম, এখন গোল্লায় যাও।

+ বিশেষণের পর: তোমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।

+ ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের পর: মাথা ঝিমঝিম করছে। ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ছে।

নামধাতুজ ক্রিয়া

বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সাথে ‘আ’ প্রত্যয় যোগে যেসব ধাতু গঠিত হয় সেগুলোকে নাম ধাতু বলে।

  • বাঁকা (বিশেষণ) + আ = বাঁকা (নামধাতু) –কঞ্চিটি বাঁকিয়ে ধর ।
  • কনকন (ধ্বন্যাত্মক অব্যয়) + আ = দাঁতটি ব্যথায় কনকনাচ্ছে।
  • বেত(বিশেষ্য)+ আ = বেতা (নামধাতু) - শিক্ষক ছাত্রকে বেতাচ্ছেন।

লক্ষণীয় বিষয়

শিক্ষক ছাত্রদের পড়াচ্ছেন।

এখানে শিক্ষক প্রযোজক কর্তা এবং পড়াচ্ছেন’ প্রযোজক ক্রিয়া । কারণ এখানে শিক্ষক নিজে পড়ে না; ছত্রদের পড়ার জন্য অনুপ্রেরণা দেয়, আর ছাত্ররা পড়ে।

শিক্ষক ছাত্রদের বেতাচ্ছেন।

এখানে ‘শিক্ষক’ মুখ্য কর্তা এবং বেতাচ্ছেন’ নাম ধাতুর ক্রিয়া।কারণ এখানে শিক্ষক ছাত্রদের মার খাওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা দেয় না, নিজেই মারে।

প্রত্যয় যুক্ত না হয়েও কয়েকটি নাম ধাতু বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুর মত ব্যবহৃত হয়। যেমন:

ফল: বাগানে বেশ কিছু লিচু ফলেছে।

টক: তরকারি বাসি হলে টকে।

ছাপা: আমি বইটা ছেপেছি।

সমধাতুজ কর্ম:

যে বাক্যে ক্রিয়াপদ ও কর্মপদ একই ধাতু দ্বারা গঠিত তাই সমধাতুজ কর্ম। যেমন: বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি।

এখানে ক্রিয়াপদ ঘুমিয়েছি যা কর্মপদ ঘুম থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। সমধাতুজ কর্মের অপর নাম ধাত্বর্থক কর্ম পদ

সকর্মক ক্রিয়ার অকর্মক রূপ:

অকর্মক  

সকর্মক

আমি চোখে দেখি না

আকাশে চাঁদ দেখি না

আমি রাতে খাব না

আমি রাতে ভাত খাব না

ছেলেটা কানে শোনে না

ছেলেটা কথা শোনে না

অন্ধকারে আমার খুব ভয় হয়  

বাবাকে আমার খুব ভয় করে

ক্রিয়ার ভাব

  • ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরণ বা রীতি প্রকাশ পায় তাকে ক্রিয়ার ভাব বলে।
  • ক্রিয়ার ভাব = ৪ প্রকার (নির্দেশক, অনুজ্ঞা, সাপেক্ষ, আকাক্ষা)  

নির্দেশক ভাবঃ

সাধারণ কোনো ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞেস করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।

সাধারণ নির্দেশক: আমরা বই পড়ি। তারা বাড়ি যাবে।

প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়: আপনি কি আসবেন? সে কি গিয়েছিল?

আকাক্ষা প্রকাশক ভাব:

যে ক্রিয়াপদে বক্তা কোনো ইচ্ছা প্রকাশ করে তাকে আকাক্ষা প্রকাশক ভাব বলে। যেমন: বৃষ্টি আসে আসুক, তার মঙ্গল হোক, যা হয় হোক, সে একটু হাসুক।

অনুজ্ঞা ভাব:

আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞাভাব হয়। যেমন: যেমন:

নিষেধাত্মক: অন্যায় কাজ করো না।

অনুরোধ: ছাতাটা দিন তো ভাই।

উপদেশ: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।  

সাপেক্ষ ভাব:

একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলে।

সম্ভাবনায়: যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।

উদ্দেশ্য: ভালো করে পড়লে সফল হবে।

ইচ্ছা/ কামনা: আজ যদি সুমন আসতো কেমন মজা হতো।

পদ পরিবর্তন

বিশেষ্য

বিশেষণ

বিশেষ্য

বিশেষণ

অকস্মাৎ

 আকস্মিক

অভিপ্রায়

 অভিপ্রেত

অক্ষর 

 আক্ষরিক

অভেদ

 অভিন্ন

অংশ 

 আংশিক

অর্থ 

 আর্থিক

অগ্নি

 আগ্নেয়

অরণ্য

 আরণ্যক

অণু

 আণবিক

অরুণিমা

  অরুণ

অঙ্গ

 আঙ্গিক

অলংকার 

 অলংকৃত

অগ্র

 অগ্রিম

অশিক্ষা

 অশিক্ষিত

অধিকার

 অধিকৃত

অভিলাষ

 অভিলসিত

অধিষ্ঠান

 অধিষ্ঠিত

অভিষেক 

 অভিষিক্ত

অতিথি

 আতিথেয়

অন্তর্ধান 

 অন্তর্হিত

অন্ত 

অন্তিম

অনুবাদ

 অনূদিত

অন্তর

 আন্তরিক

অনুমান

 আনুমানিক

অধুনা

 আধুনিক

অনুগ্রহ 

 অনুগৃহীত

অধ্যয়ন

 অধীত

অনুরাগ

 অনুরক্ত

অনুগমন

 অনুগত

অনুরোধ

 অনুরুদ্ধ

অনুরোধ

 অনুরুদ্ধ 

অপমান

 অপমানিত

অনুসরণ

 অনুসৃত

অনুষ্ঠান

 অনুষ্ঠিত

অবগুণ্ঠন

 অবগুণ্ঠিত

অনুভব 

অনুভূত

অবধারণা

 অবধারিত 

অতিশয্য

আতিশয়

অবসাদ 

 অবসন্ন

অবজ্ঞা

 অবজ্ঞেয়

অবসান

 অবসিত

অসুর 

 আসুরিক

অবশেষ 

 অবশিষ্ট

অবিনাশ 

অবিনশ্বর

আইন

 আইনি

অপসারণ 

 অপসারিত

আকাশ

  আকাশি

অপেক্ষা

 আপেক্ষিক

আকৃতি

 আকৃত 

অভ্যাস

 অভ্যস্ত

আকর্ষণ 

 আকৃষ্ট

অভিধা

 অভিহিত

আক্রমণ

আক্রান্ত

অভিযোগ

 অভিযুক্ত

আঘাত

 আহত

অনুরাগ

অনুরক্ত

আদেশ

 আদিষ্ট 

অভিধান

 আভিধানিক

আদর 

 আদুরে

আবরণ

 আবৃত 

আনন্দ

   আনন্দিত

আপ্যায়ন 

 আপ্যায়িত

আতপ  

  আতপ্ত

আরম্ভ

 আরদ্ধ

আসন 

 আসীন

আমোদ 

 আমোদিত

আলস্য

 অলস

আরোহণ

 আরূঢ়

আলোক

 আলোকিত

আশ্বাস

 আশ্বস্ত

আশ্রম 

 আশ্রমিক

আসন

আসীন

আশ্রয়

 আশ্রিত

আহার 

 আহার্য

আঘ্রাণ 

  আঘ্রাত

আহ্বান

 আহুত 

আত্মা 

  আত্মীয়

 

 

ইচ্ছা 

 ঐচ্ছিক

উৎসর্গ 

 উৎসর্গিত

ইন্দ্র

 ঐন্দ্র

উদ্ভব 

 উদ্ভূত

ইন্দ্রজাল

 ঐন্দ্রজালিক

উদ্দেশ 

 উদ্দিষ্ট

ইন্দ্রিয়

 ঐন্দ্রিয়

উৎসাহ 

 উৎসাহিত

ইহ

 ঐহিক 

উপমা 

 উপমিত

ইহলোক  

 ইহলৌকিক

উপহাস 

 উপহসিত

ইতিহাস 

 ঐতিহাসিক

উষ্ণতা

উষ্ণ

উপকার

উপকৃত

ঈশ্বর 

 ঐশ্বরিক

উপভোগ 

 উপভোগ্য

উপার্জন

 উপার্জিত

উক্তি 

  উক্ত

উদ্যম

 উদ্যমী

উজান 

 উজানি

উৎকর্ষ 

উৎকৃষ্ট

উদর

 ঔদরিক

উত্তেজনা

 উত্তেজিত

উৎকণ্ঠা

 উৎকণ্ঠিত

ঋজুতা

 ঋজু

উৎকর্ষ

 উৎকৃষ্ট 

ঋদ্ধি

 ঋদ্ধ

উত্তর

 উত্তুরে

ঋষি

 আর্য

উত্তাপ 

 উত্তপ্ত

একতা

 এক

উদ্ধার

 উদ্ধৃত

ওষ্ঠ

 ঔষ্ঠ্য

উদ্ভাবনা

 উদ্ভাবিত

ঔচিত্য

 উচিত

উপনিষদ

 ঔপনিষদিক

ঔদার্য

 উদার

উপস্থিতি

 উপস্থিত

ঔদাস্য

 উদাস

কথা

 কথিত

গঙ্গা

 গাঙ্গেয়

কণ্টক 

 কণ্টকিত

গঠন

 গঠিত

কর্ম 

 কর্মী

গমন

 গম্য

কন্যা

 কানীন

গাঁ 

 গেঁয়ো

কর্ষণ

 কর্ষিত

গাছ

 গেছো

কল্পনা

 কাল্পনিক

গান

 গেয়

কলঙ্ক  

 কলঙ্কিত

গিরি 

 গৈরিক

কুসুম 

 কুসুমিত

গোপন 

 গোপনীয়

কাজ

 কেজো

গৃহস্থ

 গার্হস্থ্য 

কাগজ

 কাগুজে

গ্যাস

 গ্যাসীয়

কাব্য 

 কাব্যিক

গ্রহণ

 গৃহীত

কাপড়

 কাপুড়ে

গ্রন্থন 

 গ্রন্থিত

কামনা

 কাম্য

গ্রাম

 গ্রাম্য

কায়েম  

 কায়েমি

গ্রাস

 গ্রস্ত

কেশ

 কৈশিক

কেতাব 

 কেতাবি

ঘনত্ব

 ঘন 

কোপ

 কুপিত

ঘর

 ঘরোয়া 

কোণ 

 কৌণিক

ঘা

 ঘেয়ো

কৌতূহল 

 কৌতূহলী

ঘাট

 ঘেটো 

ক্লান্তি

 ক্লান্ত

ঘাস

 ঘেসো

ক্লেদ

 ক্লিন্ন

ঘুম 

 ঘুমন্ত

ক্লেশ

 ক্লিষ্ট

ঘৃণা 

 ঘৃণিত

ক্রম 

 ক্রমিক

ক্ষণ

 ক্ষণিক

তাপ

 তপ্ত

ক্ষোভ

 ক্ষুব্ধ

তত্ত্ব 

 তাত্ত্বিক

ত্যাগ

ত্যক্ত/ত্যাজ্য

চির 

 চিরন্তন

তন্দ্রা 

 তন্দ্রালু

চিন 

 চৈনিক

ত্রাস

 ত্রস্ত

চিত্র 

 চিত্রিত

তেল

  তৈলাক্ত

চিন্তা

 চিন্তনীয়

 

 

চর্বণ  

 চর্বিত

থমথম 

থমথমে

চমৎকার

 চমৎকৃত

চরিত্র  

 চারিত্রিক

দখল

 দখলি

দম্ভ

দাম্ভিক

ছন্দ

ছন্দোময়/ ছান্দিক

দর্শন

 দর্শনীয় 

ছেদ 

ছিন্ন

দল  

দলীয়

দহন

দাহ্য

জগৎ 

জাগতিক

দাম

দামি

জন্ম 

 জাত

দাঁত

দেঁতো  

জবাব

 জবাবি 

দিন

দৈনিক

জল 

জলীয়

দুঃখ

দুঃখিত

জীব

 জৈব

দেশ

দেশীয়

জীবন

  জৈবনিক

দৈর্ঘ্য

 দীর্ঘ

জ্ঞান 

জ্ঞানী

দোষ

 দুষ্ট

দ্বন্দ্ব

দ্বান্দ্বিক

ঝগড়া

 ঝগড়ুটে

দেব

 দৈব

ঝুল

 ঝুলন্ত

দেহ

 দৈহিক

ঝড়

 ঝড়ো

দেশ

দেশি

দান 

 দাত

ধান 

 ধেনো

ধ্যান

 ধ্যানী

বঙ্গ 

 বঙ্গীয়

ধৈর্য

 ধীর

বিভাগ

 বিভাগীয়

নগর

 নাগরিক 

বৎস

 বৎসল

নাম

 নামি

বৎসর

 বাৎসরিক

নাশ

 নশ্বর/নষ্ট

বন

 বন্য

নিয়ম 

 নিয়মিত

বন্ধু

  বন্ধুসুলভ

নিধন

 নিহত

বপন

  উপ্ত 

নিধান

নিহিত 

বর্জন

 বর্জিত

নিমিত্ত

 নৈমিত্তিক

বর্ণনা

 বর্ণিত

নিয়ম

 নিয়মিত

বর্ধন

 বর্ধিত 

নিরাপত্তা

 নিরাপদ

বসন্ত  

 বাসন্তী

নৈপুণ্য

নিপুণ

বস্তু

 বাস্তব 

নির্গমন

 নির্গত

বাহন

 বাহিত

নির্দেশ 

 নির্দিষ্ট

বলা

বলিয়ে

নির্মাণ

 নির্মিতি

বাজার

 বাজারি

নুন

 নোনা

বায়ু

 বায়বীয়

নৌ

 নাব্য

বালি

  বেলে 

পতন  

 পতিত

বিশেষণ

 বিশেষিত

পথ

  পাথেয়

বিকার

 বিকৃত

পল্লব 

 পল্লবিত

বিকিরণ

 বিকিরিত

পরিত্যাগ

পরিত্যক্ত/পরিত্যজ্য

বিক্রয়/বিক্রি

 বিক্রীত

পরিবার

 পারিবারিক

বিদ্যা  

 বিদ্বান

পশু

পাশবিক

বিঘ্ন 

বিঘ্নিত 

পাঠ 

 পাঠ্য

বিচার

 বিচার্য 

পাহাড়

 পাহাড়ি

বিপর্যয়

 বিপর্যস্ত

পিতা

 পৈতৃক

বিড়ম্বনা

 বিড়ম্বিত

প্রসাদ

প্রসন্ন

বিধান

 বিহিত

পৃথিবী

পার্থিব

বিধি 

 বৈধ

প্রকৃতি

 প্রাকৃতিক

বিনাশ

 বিনষ্ট

প্রণাম

 প্রণত

বিপদ 

  বিপন্ন

প্রতিষ্ঠা

 প্রতিষ্ঠিত

বিভেদ

 বিভিন্ন

প্রত্যাগমন

 প্রত্যাগত 

বিশ্রাম

 বিশ্রান্ত

প্রদর্শন

 প্রদর্শিত 

বিশ্বাস

 বিশ্বস্ত

প্রবেশ

 প্রবিষ্ট

বিশ্বজন

বিশ্বজনীন

প্রমাণ

 প্রামাণ্য

বিশ্লেষণ

 বিশ্লিষ্ট

প্রলোভন

 প্রলুব্ধ 

বিষাদ

 বিষণ্ণ

প্রসিদ্ধি

 প্রসিদ্ধ

বুদ্ধ

  বৌদ্ধ

প্রাচুর্য

 প্রচুর

বুদ্ধি  

 বুদ্ধিমান

প্রাধান্য

 প্রধান

বৃহস্পতি

 বার্হস্পত্য

প্রাবল্য

 প্রবল

বেদ 

 বৈদিক

প্রারম্ভ

 প্রারম্ভিক 

বৈশাখ

 বৈশাখী

ফল

 ফলিত

ব্যয়

 ব্যয়িত

ফুল

 ফুলেল 

ব্যাঘাত

 ব্যাহত

ব্যাপ্তি

 ব্যাপ্ত

ভক্তি

 ভক্ত

ব্যবধান

 ব্যবহিত 

ভয়

ভয়ানক/ভীত

ভাত

 ভেতো

যুদ্ধ 

 যোদ্ধা

ভূত

 ভৌতিক

যন্ত্র

 যান্ত্রিক

ভেদ

 ভেদ্য

যাচনা

যাচিত

ভোর 

 ভোরাই

ভ্রমণ

ভ্রাম্যমাণ

রচনা

  রচিত 

রঙ

রঙিন

মন

 মানসিক

রাখাল

 রাখালিয়া

মন্ত্র

 মন্ত্রপূত

রাগ 

 রাগত

মজা 

মজাদার

রাজা

 রাজকীয়

মাছ 

 মেছো

রেখা

 রৈখিক 

মাটি

 মেটে 

রোগ

 রুগ্ন

মাঠ

 মেঠো

মায়া

মায়াবী/মায়িক

লড়াই 

 লড়াকু

মাস

 মাসিক

লক্ষ 

 লক্ষিত

মিথ্যে

 মিথ্যুক

লজ্জা

 লজ্জিত

মুক্তি

 মুক্ত

লিখন

 লিখিত 

মুখ

  মৌখিক

লেপন

 লিপ্ত

মেশা

মিশুকে

লোক 

 লৌকিক

মেঘ

 মেঘলা  

লোপ

 লুপ্ত 

মোহ

 মুগ্ধ

লোভ

 লুব্ধ 

মৌন 

 মৌনী

লোম

 লোমশ

শরীর

 শারীরিক

সাধন 

 সাধিত

শব্দ

 শাব্দিক

সংখ্যা

সাংখ্য 

শ্রদ্ধা 

 শ্রদ্ধেয়

সংঘাত

 সাংঘাতিক

শরৎ

 শারদীয়/শারদীয়া

সংযম 

 সংযত

শহর

 শহুরে

সংক্ষেপ 

 সংক্ষিপ্ত

শাস্ত্র

 শাস্ত্রীয়

সংস্থাপন

 সংস্থাপিত

শিক্ষা

শিক্ষিত

সিন্ধু

সৈন্ধব

শোধন

শোধিত 

সঙ্গ 

 সঙ্গী

শোভা

শোভিত 

সঙ্গম

 সঙ্গত 

শ্রবণ

 শ্রুত 

সন্নিধান

 সন্নিহিত

শান্তি 

 শান্ত

সপ্তাহ

 সাপ্তাহিক

সময়

 সাময়িক

হিম

 হিমেল

সমর

 সামরিক

হরণ

  হৃত

সমাধি

 সমাধিস্থ

হাট

  হাটুরে

সমাজ

 সামাজিক

হাত

 হাতুড়ে

সম্পদ

 সম্পন্ন

হিসাব 

  হিসাবি

সর্বনাশ

 সর্বনেশে

হিংসা

 হিংসুটে/হিংসাত্মক

সততা , সত্তা

সৎ

হৃদয়

 হার্দিক

সহন

 সহ‍্য/ সহনীয়

হেমন্ত 

  হৈমন্তিক

সাঁওতাল

 সাঁওতালি

 হতাশা

হতাশ 

সাদৃশ্য

 সদৃশ

হৃষ্টতা

হৃষ্ট

সুখ

  সুখী

 হীনতা

হীন 

সুর

 সুরেলা

 হৃদয়

হার্দিক 

সূর্য

 সৌর

 হ্রস্বতা

হ্রস্ব 

সেচ

   সিক্ত

স্নেহ

 স্নিগ্ধ

সৌজন্য

 সুজন

স্বপ্ন

 স্বপ্নিল

সৌষ্ঠব

 সুষ্ঠু

স্বর্গ

 স্বর্গীয়

স্থিতি

 স্থির

স্বর্ণ 

 স্বর্ণালি

স্নান

 স্নাত

 


এই পোস্ট সহায়ক ছিল?

2 out of 2 Marked as Helpfull !