কারক ও বিভক্তি Last updated: 6 months ago

১. কারক শব্দের অর্থ = যা ক্রিয়া সম্পাদন করে।

২. কারক শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ = কৃ + ণক। এর অর্থ যে করে।

৩. কারক কাকে বলে? = বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের সম্পর্ককে কারক বলে। যেমন: মেয়েরা ফুল তোলে – এ বাক্যে ক্রিয়া তোলে। এখন যদি মেয়েরা’ শব্দটির নিচে দাগ দেওয়া থাকে তাহলে বুঝতে হবে মেয়েরা’ শব্দটির সাথে ‘তোলে’ ক্রিয়ার সম্পর্কই কারক নির্দেশ করছে। আবার যদি ‘ফুল’ শব্দটির নিচে দাগ দেওয়া থাকে তাহলে বুঝতে হবে ‘ফুল’ শব্দটির সাথে ‘তোলে’ ক্রিয়ার। সম্পর্কই কারক নির্দেশ করছে। শিক্ষার্থীরা, কারকের সংজ্ঞাটি ভালো করে লক্ষ কর – ক্রিয়াপদের। সাথে নামপদের সম্পর্ক হচ্ছে কারক। যদি উদাহরণে বলা থাকতো – দুধের তৈরি ছানা খেতে অনেক মিষ্টি। এ বাক্যের ক্রিয়া হচ্ছে ‘খেতে। এখন কথা হচ্ছে এই ‘খেতে’ ক্রিয়ার সাথে সম্পর্ক আছে কার? – ছানার না দ বাক্যের দ্বারা কী বোঝানো হচ্ছে? ছানা খেতে মিষ্টি না দুধ খেতে মিষ্টি। এ বাক্যে দুধের নিচে Underline করা থাকলেও সাথে খেতে ক্রিয়ার কোনো সম্পর্ক নেই, সম্পর্ক আছে ছানা খাওয়ার সাথে। একারণে এটি কোনো কারক হবে না; এটি স পদ। এরূপ কিছু সম্বন্ধ পদের উদাহরণ –

- সুন্দরবনের বাঘ দেখতে অনেক সুন্দর।

- বিলাসীর স্বামী মৃত্যুঞ্জয় সাপ ধরায় পারদর্শী।

- মেয়েটির ঘন কালো চুল দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়।

- ফয়সালের বন্ধু তপু ভাষা আন্দোলনে শহীদ হয়েছে।

৪.বিভক্তি কাকে বলে? = বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের অন্বয় সাধনের জন্য শব্দের সঙ্গে যে সকল বর্ণ বা বর্ণ সমষ্ঠি যুক্ত হয় তাকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি চিহ্ন স্পষ্ট না হলে সেখানে কোন বিভক্তি আছে বলে ধরা হয়? = শূন্য বিভক্তি।

৫. বিভক্তি কত প্রকার? = ২ প্রকার (শব্দ বিভক্তি; ক্রিয়া বিভক্তি)।

৬. শব্দ বিভক্তির অপর নাম = নাম বিভক্তি বা তির্যক বিভক্তি।

৭. বাংলা শব্দ বিভক্তি বা নাম বিভক্তি কত প্রকার = ৭ প্রকার।

বিভক্তির আকৃতি

একবচন এবং বহুবচন ভেদে বিভক্তির আকৃতিগত পার্থক্য দেখা যায়-

বিভক্তি

একবচন

বহুবচন

প্রথমা

০,অ,এ,(য়),তে

রা, এরা, গুলো, গণ

দ্বিতীয়া

কে, রে, এরে

দিগে, দিগকে, দের

তৃতীয়া

দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক

দের, দিয়া, দিগকে দ্বারা, দিগ কর্তৃক

চতুর্থী

দ্বিতীয়ার মতো, জন্য, নিমিত্ত

দ্বিতীয়ার মতো

পঞ্চমী

হইতে, থেকে, চেয়ে, হতে

দের হইতে, দিগের চেয়ে

ষষ্ঠী

র, এর

দিগের, দের, গুলির

সপ্তমী

এ, (য়), তে, এতে

দিগে, দিগেতে, গুলিতে

দ্রষ্টব্য: “কে, রে এবং এরে’ দ্বিতীয় এবং চতুর্থী দুটোতেই আছে। প্রশ্ন হলো “কে, রে এবং এরে’ বিভক্তি থাকলে শিক্ষার্থীরা কিভাবে বুঝবে যে কখন দ্বিতীয়া বিভক্তি হবে এবং কখন চতুর্থী বিভক্তি হবে? এটা মনে রাখার সহজ উপায় হচ্ছে “কে, রে এবং এরে” বিতা দ্বারা যখন জন্য বা নিমিত্ত অর্থ বোঝাবে তখন সেখানে চতুর্থী বিভক্তি হবে। অন্যথায় সেখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি হবে। যেমন: এই কলমটা তোমাকে দিলাম – এখানে “তোমাকে” কর্মকারকে ৪র্থী বিভক্তি হবে (কলমটা তোমার জন্য বুঝাচ্ছে)। তোমাকে দিয়ে হবে না। – এখানে তোমাকে’ কর্মকারকে ২য়া বিভক্তি হবে। আরেকটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে সম্প্রদান কারকে ২য়া আর মুখ মধ্যে সর্বদা ৪র্থ বিভক্তি হবে।

৮. ৩য়া এবং ৫মী এই দুইটি সাধু ভাষার বিভক্তি।

৯. কারক কত প্রকার? = ৬ প্রকার (কর্তৃকারক, কর্মকারক, করণ কারক, সম্প্রদান কারক, অপাদান কারক এবং অধিকরণ কারণ।)

কর্তৃকারক

১০. বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে; ক্রিয়ার সাথে তার সম্পর্ককে কর্তৃকারক বলে। যেমন: খোকা বই পড়ে।

কারক চিহ্নিতকরণের প্রচলিত সূত্র: ক্রিয়ার সঙ্গে ‘কে’ বা ‘কারা? যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই কর্তৃকারক। যেমন: খোকা বই পড়ে (কে পড়ে? = খোকা); মেয়েরা ফুল তোলে (কারা তোলে? = মেয়েরা)।

কর্তৃকারক চিহ্নিতকরণের স্পেশ্যাল টেকনিক: অনেক সময় ‘কে’ বা ‘কারা দিয়ে প্রশ্ন করা না গেলেও তা কর্তৃকারক হতে পারে।

যেমন: জল পড়ে – এখানে ‘জল’ কর্তৃকারক হলেও ক্রিয়াকে ‘কে’ পড়ে দিয়ে প্রশ্ন করা যায় না। তাই প্রচলিত কে না শিখে আমরা স্পেশ্যাল টেকনিক শিখব। বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনকারী ব্যক্তি বা বস্তুই কর্তা। যেমন: স্রোতে নৌকাটি উলটাইয়া দিলো- এই বাক্যের ক্রিয়াকে কে বা কারা দিয়ে প্রশ্ন করা যায় না। কিন্ত লক্ষ করে দেখুন,স্রোতে নৌকা উল্টানোর কাজটি কিন্তু স্রোত নিজেই করেছে।তাই এবাক্যে ‘স্রোত’ কর্তৃকারক।

এরকম আরেকটি বাক্য – পাহাড়ের ঢাল বেয়ে জল নামছে – এখানে ‘জল’ কোন কারক? এই বাক্যের ক্রিয়াকে ‘কে’ বা ‘কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়।; ‘কী’ দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় অর্থাৎ কী নামছে? উত্তর: জল নামছে। প্রচলিত নিয়মানুযায়ী এবাক্যের জল কর্মকারক হওয়ার কথা। কিন্তু লক্ষ করে দেখুন ঢাল বেয়ে নিচে নামার কাজটি জল নিজেই করছে। তাই অবশ্যই ‘জল’ কর্তৃকারক হবে। কর্তৃকারক নির্ণয়ের এই স্পেশ্যাল টেকনিক দিয়ে সব ধরনের কর্তৃকারকই নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা যায়।

১১. বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কর্তৃকারক কত প্রকার? = ৪ প্রকার (মুখ্য কর্তা, প্রযোজক কর্তা, প্রযোজ্য কর্তা, ব্যতিহার কর্তা)।

ক.মুখ্য কর্তা = যে কর্তা নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে মুখ্য কর্তা বলে। যেমন: ছেলেরা ফুটবল খেলে। মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।

খ.প্রযোজক কর্তা = মূল কর্তা যখন কোনো কাজ নিজে না করে অন্যকে দিয়ে করায় তখন ওই মূল কর্তাকে প্রযোজক কর্তা বলে। যেমন: শিক্ষক ছাত্রকে পড়াচ্ছেন (শিক্ষক পড়ছে না, ছাত্র পড়ছে)। মা শিশুকে চাঁদ দেখায় (মা দেখছেন না, শিশু দেখছে)। সাপুড়ে সাপ খেলায় (সাপুড়ে খেলে না, সাপ খেলে)।

গ.প্রযোজ্য কর্তা = মূল কর্তা যাকে দিয়ে কাজ করায় তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে। যেমন: শিক্ষক ছাত্রকে পড়াচ্ছেন (পড়ার কাজটি ছাত্র করছে); মা শিশুকে চাঁদ দেখায় (দেখার কাজটি শিশু করছে)।

ঘ. ব্যতিহার কর্তা = কোনো বাক্যে একত্রে দুটি কর্তা একই জাতীয় কাজ করলে তাদেরকে ব্যতিহার কর্তা বলে। যেমন: বাঘে মহিষে এক ঘাটে জল খায়। রাজায়-রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত।

লক্ষণীয় বিষয়:ছেলেরা ফুটবল খেলে – এই বাক্যেও কর্তা কিন্তু একের অধিক আছে। তাই বলে ছেলেরা কিন্তু ব্যতিহার কর্তা নয়; মুখ্য কর্তা। মনে রাখবেন মুখ্য কর্তায় বহুবচনবাচক শব্দের দ্বারা একাধিক কর্তা বুঝাতে পারে। তবে ব্যতিহার কর্তায় দুটি কর্তা বা একাধিক কর্তার স্পষ্ট উল্লেখ থাকবে।

১২. বাক্যের বাচ্য/ প্রকাশভঙ্গি অনুসারে কর্তৃকারক = ৩ প্রকার। যথা:

ক. কর্মবাচ্যের কর্তা - পুলিশ কর্তৃক চোর ধৃত হয়েছে।

খ. ভাববাচ্যের কর্তা - আমার যাওয়া হবে না।

গ. কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা – বাঁশি বাজে। কলমটা লেখে ভালো।

লক্ষণীয় বিষয়: সাধারণত ক্রিয়ার সঙ্গে ‘কী' যোগ করে প্রশ্ন করলে যদি উত্তর পাওয়া যায় তাহলে তা কর্মকারক হয়। তবে কর্ম-কর্তৃবাচ্যের ক্ষেত্রে ক্রিয়ার সঙ্গে কী যোগ করে প্রশ্ন করে উত্তর পাওয়া গেলে তা কর্তৃকারক হয়। যেমন: জল পড়ে। সুতি কাপড় টেকে বেশি। বাঁশি বাজে ওই মধুর লগনে। কলমটা লেখে ভালো। প্রবলবেগে বাতাস বইছে। লক্ষ্মীছাড়া শিমুল গাছটির বড়ো বাড় বেড়েছে ইত্যাদি।

কর্ম কারক

১৩. যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে কর্ম কারক বলে। যেমন: নাসিমা ফুল তুলছে; আমাকে একখান বই দাও;ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও।

কর্মকারক চিহ্নিতকরণের প্রচলিত সূত্র:

ক্রিয়ার সঙ্গে ‘কী’ বা ‘কাকে’ যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় কারক। যেমন: খোকা বই পড়ে (কী পড়ে? = বই); ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও (কাকে শোয়াও? = ছেলেটিকে)।

কর্মকারক চিহ্নিতকরণের স্পেশ্যাল টেকনিক: ক্রিয়াকে ‘কী’ দ্বারা প্রশ্ন করে উত্তর পাওয়া গেলে তা কর্মকারক না হয়ে কর্তৃকারক হতে পারে এ ব্যাপারে তো কর্তৃকারকেই আলোচনা করেছি। এবার আসুন ‘কাকে’র প্রসঙ্গে। ক্রিয়া ‘কাকে’ যোগ করে প্রশ্ন করলে যদি উত্তর পাওয়া যায় তাহলে আবার খেয়াল করতে হবে যে, বাক্যের ক্রিয়ার সাথে ওই উত্তরের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক আছে কি না অর্থাৎ বাক্যের ক্রিয়া ওই ব্যক্তি কর্তৃক সম্পাদিত হয়েছে কি না? যদি বাক্যের ক্রিয়া ব্যক্তি কর্তৃক সম্পাদিত হয় তাহলে তা কর্মকারক না হয়ে কর্তৃকারক হবে। যেমন:

– রহিমকে যেতে দাও (কর্মকারক)

–  রহিমকে যেতে হবে (কর্তৃকারক)

ভালো করে লক্ষ করুন, দুটো বাক্যকেই ‘কাকে দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়। দুটি বাক্যের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে ১ম বাক্যর ক্রিয়া ‘দাও’ যার সাথে রহিমের কোনো সম্পর্ক নেই, অন্য কোনো তৃতীয় ব্যক্তির সম্পর্ক আছে; কিন্তু ২য় বাক্যের ক্রিয়া হবে যার সাথে রহিমের সরাসরি সম্পর্ক আছে কারণ যাওয়ার কাজটি রহিম নিজে করবে।তাই কর্মকারক নির্ণয়ের জন্য আমরা “কী’ ‘কাকে’ টেকনিক অনুসরণ না করে সরাসরি কর্মকারকের সংজ্ঞাটাই মনে রাখব।

১৪. কর্ম কত প্রকার? = ২ প্রকার (মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম)। সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচকগৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে। যেমন,বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) দিলেন।

১৫. কর্ম কারক কত প্রকার? = ৪ প্রকার। যথা:

ক. সকর্মক ক্রিয়ার কর্ম – নাসিমা ফুল তুলছে।

খ. প্রযোজক ক্রিয়ার কর্মছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও।

গ. সমধাতুজ কর্ম – খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি। মেয়েটা কি গানটাই না গাইলো।

ঘ. উদ্দেশ্য ও বিধেয় কর্ম – দ্বিকর্মক ক্রিয়ার দুটো পরস্পর অপেক্ষিত কর্মপদ থাকলে প্রধান কর্মটিকে বলা হয় উদ্দেশ্য কর্ম।

এবং অপেক্ষিত কর্মটিকে বলা হয় বিধেয় কর্ম। যেমন: দুধকে (উদ্দেশ্য কর্ম) মোরা দুগ্ধ (বিধেয় কর্ম) বলি, হলুদকে (উদ্দেশ্য কর্ম) বলি হরিদ্রা (বিধেয় কর্ম)।

করণ কারক

১৬. ‘করণ’ শব্দটির অর্থ = যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।

১৭. করণ কারক কাকে বলে? = ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। যেমন: সাদিয়া কলম দিয়ে লেখে (উপকরণ-কলম); জগতে কীর্তিমান হও সাধনায় (উপায়-সাধনা) ।

করণকারক চিহ্নিতকরণের সহজ সূত্র: ক্রিয়ার সঙ্গে কী দিয়ে, ‘কীসের দ্বারা’ বা ‘কী উপায়ে যোগ করে প্রশ্ন করলে যে। উত্তর পাওয়া যায় তাই করণ কারক। যেমন: সাদিয়া কলম দিয়ে লেখে (কী দিয়ে? = কলম দিয়ে)। চেষ্টায় সব হয় (কীসের দ্বারা? = চেষ্টার দ্বারা)। জগতে কীর্তিমান হও সাধনায় (কী উপায়ে? = সাধনা করে)।

খেলা নিয়ে ঝামেলা

প্রায়ই কর্ম ও করনের মধ্যে শিক্ষাখারা তালগোল পাকিয়ে ফেলে। উদাহরণস্বরূপ আমি কিছু বাক্যের কথা বলছি-

১. মেয়েরা ছক্কা খেলে।

২. মেয়েরা লুডু খেলে।

৩. ছেলেরা ক্রিকেট খেলে

8. ছেলেরা বল খেলে।

৫. ছেলেরা হাডুডু খেলে।

৬. ছেলেরা তাস খেলে পড়া নষ্ট করে

ছক্কা,লুডু ক্রিকেট,বল ও হাডুডু এর নিচে দাগ দেওয়া অর্থাৎ এগুলো কোনটি কোন কারক? আপাতদৃষ্টিতে এই সবগুলোকেই

কর্মকারক বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু এখানে সব কর্মকারক নয়। এটা যেভাবে সহজে নির্ণয় করতে হবে তা হলো শব্দটি দ্বারা খেলার উপকরণের নাম বুঝালে তা করণ কারক। তবে শব্দটি দ্বারা খেলার নাম বুঝালে তা কর্মকারক। এখানে ছক্কা, বল ও তাস খেলার উপকরণের নাম তাই ১, ৪ ও ৬ নং করণ কারক। তবে লুডু, ক্রিকেট ও হাডুডু সরাসরি খেলার নাম বোঝায়। তাই এগুলো কর্মকারক।

** কিছু কিছু শব্দ আছে (যেমন: দড়ি, লাঠি, মার্বেল, লাটিম, ফুটবল) যা দ্বারা খেলার নাম এবং উপকরণ উভয়ই বোঝায়। এক্ষেত্রে বাক্যের দিকে লক্ষ রাখতে হবে। যদি বলা হয়, গতকাল রহিম ও করিমের মধ্যে লাটিম খেলা হয়েছে – এখানে ‘লাটিম’ খেলার নাম বোঝায় তাই কর্মকারক। অথবা যদি বলা হয়, আগামীকাল রহিম ও করিমের মধ্যে লাটিম খেলা হবে। সেক্ষেত্রেও তা খেলার নাম বোঝায় অর্থাৎ কর্মকারক। তবে যদি বলা হয় রহিম ও করিম লাটিম খেলছে। এখানে ‘লাটিম’ খেলার উপকরণ বোঝায় তাই করণ কারক।

সম্প্রদান কারক

১৮.সম্প্রদান কারক কাকে বলে? = যাকে স্বত্ব বা মালিকানা ত্যাগ করে দান, অর্চনা, সাহায্য ইত্যাদি করা হয় তাকে সম্প্রদান কারক বলে।যেমন: ভিখারিকে ভিক্ষা দাও।

১৯. সম্প্রদান কারক গঠিত হয় = সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী।

২০. অনেক বৈয়াকরণ বাংলা ব্যাকরণে সম্প্রদান কারক স্বীকার করেন না। তাদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উল্লেখযোগ্য। তাদের মতে সম্প্রদান কারকের কাজ কর্মকারক দ্বারাই সুন্দরভাবে সম্পাদন করা যায়।

সম্প্রদান কারকে বিভক্তির প্রয়োগ: ব্যাকরণ বইতে সম্প্রদান কারকে বিভক্তির প্রয়োগ নিয়ে একটা গৎবাঁধা লাইন দেখতে পাওয়া যায়। আর তা হচ্ছে - সম্প্রদান কারকে সর্বদা ৪র্থ বিভক্তি বসে। অর্থাৎ কে, রে, এরে ইত্যাদি থাকলে ২য়া বিভক্তির পরিবর্তে ৪র্থ বিভক্তি হয়। যেমন:

→ শিক্ষককে শ্রদ্ধা কর = সম্প্রদানে ৪র্থী।

→ ভিখারিকে ভিক্ষা দাও = সম্প্রদানে ৪র্থী।

এখন এই ব্যাখ্যা পড়ে অনেক শিক্ষার্থীই কেবল এটা মনে করে যে সম্প্রদান কারকে কেবল ৪র্থ বিভক্তিই হয়; এটাই ভুল। আসলে ওপরের ব্যাখ্যায় বোঝানো হয়েছে সম্প্রদান কারকে ২য়া আর ৪র্থী বিভক্তির মধ্যে সর্বদা ৪র্থ বিভক্তি বসে। তবে অন্য বিভক্তি বসতেই পারে। যেমন:

→ দিব তোমা শ্রদ্ধা ভক্তি – সম্প্রদানে শূন্য।

→ অন্ধজনে দেহ আলো = সম্প্রদানে ৭মী।

→ দেবতার ধন কে যায় ফিরায়ে লয়ে = সম্প্রদানে ৬ষ্ঠী।

২১. সম্প্রদান কারক চিহ্নিতকরণের সহজ সূত্র:

টেকনিক - ১| ক্রিয়ার সঙ্গে ‘কাকে যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় এবং ওই ব্যক্তিকে যদি কোনো কিছুর মালিকানা একেবারেই প্রদান করা হয় তাহলে তা সম্প্রদান কারক। অন্যথায় তা কর্মকারক হবে। যেমন:

  • গরিবকে কাপড় দাও = সম্প্রদানে ৪র্থ
  • ধোপাকে কাপড় দাও =কর্মে ২য়া
  • সমিতিতে চাঁদা দাও = সম্প্রদানে ৭মী
  • সমবায় সমিতিতে চাঁদা দাও = কর্মে ৭মী

টেকনিক ২| নামপদের দ্বারা ইহলৌকিক স্বার্থ বুঝালে তা কর্ম কারক আর পরলৌকিক স্বার্থ বুঝালে তা সম্প্রদান কারক। যেমন:

  • মসজিদে চাঁদা দাও = সম্প্রদানে ৭মী।
  • সন্ত্রাসীকে চাঁদা দাও =কর্মে ৪র্থী
  • হজের জন্য মক্কা গেলাম = সম্প্রদানে ৪থী
  • চাকরির জন্য মক্কা গেলাম =কর্মে ৪র্থী।

টেকনিক ৩| নামপদের দ্বারা কোনো উদ্দেশ্য বুঝালে তা সম্প্রদান কারক আর উদ্দেশ্য সম্পাদনের স্থান হচ্ছে অধিকরণ। তাছাড়া কোনো বিষয়ে কারও দক্ষতা / অদক্ষতা / পারদর্শিতা / অপারদর্শিতা ইত্যাদি বুঝালেও তা অধিকরণ কারক। যেমন:

  • বেলা যে পড়ে এলো, জলকে চল = সম্প্রদানে ৪র্থী।
  • সৈন্যদল যুদ্ধে যাইতেছে = সম্প্রদানে ৭মী।
  • সৈন্যদল যুদ্ধে অপরাজেয় = অধিকরণে ৭মী
  • চল নামাযে/ পূজায় যাই = সম্প্রদানে ৭মী
  • চল মসজিদে / মন্দিরে যাই = অধিকরণে ৭মী

অপাদান কারক

অপাদান শব্দের অর্থ - উৎপন্ন বা বিচ্যুত । যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয় তাকে অপাদান কারক বলে।

১. যার কাছ থেকে কোন কিছু তৈরি হওয়া বা উৎপন্ন হওয়া বা সৃষ্টি হওয়া বা জন্ম হওয়া বোঝায় -----এই যার কাছ থেকে হওয়া বোঝায় সেই অপাদান কারক। আর যা হবে তা হল কর্মকারক। যেমন-

আম থেকে জুস হয়। এখানে, আম থেকে তৈরি হয়েছে তাই আম অপাদান। এবং জুস যা তৈরি হয়েছে তা-হল কর্ম।

উদাহরণগুলো দেখি-

দুধ থেকে দই হয় ।

লোকমুখে এ কথা শুনেছি । (অপাদানে ৭মী) অর্থাৎ লোকমুখ থেকে কথা গুলো তৈরি।

শুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। — অপাদানে ৫মী

চাল থেকে ভাত হয় । – অপাদানে ৫মী

খেজুর রসে গুড় হয়। – অপাদানে ৭মী।

ভাত থেকে ঝাও হয় । – অপাদানে ৫মী

তিলে তৈল হয় । – অপাদানে ৭মী।

কত ধানে কত চাল তা আমি জানি । অপাদানে ৭মী।

টাকায় টাকা হয় । – অপাদানে ৭মী

জলে বাষ্প হয় । – অপাদানে ৭মী।

ধানেতে তৈরি হয় মুড়ি, চিড়ে, খই । – অপাদানে ৭মী।

লোভে পাপ পাপে মৃত্যু । – অপাদানে ৭মী, করণে ৭মী

কথায় কথা বাড়ে । - অপাদানে ৭মী

ধান থেকে চাল হয় । – অপাদানে ৫মী।

জ্ঞানে অনিন্দ লাভ হয় । অপাদানে ৭মী

২. যার কাছ থেকে কোন কিছু বিচ্যুত হওয়া বা হারিয়ে যাওয়া বা চলে যাওয়া বা পালিয়ে যাওয়া বা দুরীভূত হওয়া বোঝায়-----এই যার থেকে হয় সেই হবে অপাদান আর যা হবে তা হচ্ছে কর্ম আবার নিজে বিচ্যুত হলে কর্তা হবে

নিচের উদাহরণ গুলো মিলিয়ে নেই-

গাছ থেকে পাতা পড়ে। – অপাদানে ৫মী

মনে পড়ে সেই জৈষ্ঠ্যের দুপুরে পাঠশালা পলায়ন- অপাদানে শূন্য

সাদামেঘে বৃষ্টি হয় না – অপাদানে ৭মী।

চোখ দিয়ে পানি পড়ে। –অপাদানে ওয়া।

পরীক্ষা আসিলে চোখে জল পড়ে। – অপাদানে ৭মী

[মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে। এখানে মেঘ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তাই মেঘ অপাদান আর যে বিচ্যুত হল-বৃষ্টি তা হবে কর্তৃ কারক।]

৩.কোন শব্দ দিয়ে যদি স্থানকে নির্দেশ করে তবে সেই স্থান সূচক শব্দটি অধিকরণ কারক, কিন্তু এই স্থান থেকে যদি কোন কিছু তৈরি হওয়া বা উৎপন্ন হওয়া বা সৃষ্টি হওয়া বা জন্ম হওয়া বা বিচ্যুত হওয়া বা হারিয়ে যাওয়া বা চলে যাওয়া বা পালিয়ে যাওয়া বা দুরীভূত হওয়া বোঝায় তবে ঐ স্থানটি হবে অপাদান কারক। যেমন-

  • বাবা বাড়ি আছে।
  • বাবা বাড়ি থেকে চলে গেছে।

[প্রথমটি অধিকরণ, কারণ স্থান বুঝিয়েছে। ২য়টি অপাদান কারণ স্থান থেকে চলে গেছে।]

স্টেশনে ট্রেন আছে অধিকরণে ৭মী ।

ছাদে বৃষ্টি পড়ে → অধিকরণে ৭মী।

জমিতে ফসল ফলে → অধিকরণে ৭মী

স্টেশন ছেড়ে ট্রেন চলে গেছে → অপাদানে শূন্য

ছাদে পানি পড়ে । [এর অর্থ হচ্ছে ছাদ থেকে পানি পড়ে। কিন্তু ঘরে পানি পড়ে। তা অধিকরণ; কারণ ঘর এখানে, স্থান বুঝিয়েছে যার উপর পানি পড়ে ।]

জমি থেকে ফসল পাই→ অপাদানে ৭মী

তিলে তৈল আছে → অধিকরণে ৭মী

বিপদে অধীর হইও না → অধিকরণে ৭মী

তিলে তৈল হয়→ অপাদানে ৭মী

বিপদে মোরে রক্ষা কর→ অপাদানে ৭মী

চোখে বৃষ্টি পড়ে অধিকরণে ৭মী

চোখে পানি পড়ে→ অপাদনে ৭মী।

৪. যাকে ভয় পাওয়া হয় বা কেউ দেখে ভীত হয় → এই যাকে ভয় পাওয়া হয় সেই হল অপাদান আর ভয় হবে কর্ম। মনে রাখতে হবে, যাকে ভয় পেলে সেই অপাদান হবে, ভয় অপাদান নয়।

বাঘে ভয় হয় । – অপাদানে ৭মী

বাবাকে বড্ড ভয় পাই। – অপাদানে ২য়া।

যেখানে বাঘের ভয়, সেখানে সন্ধ্যে হয় । – অপাদানে ৬ষ্ঠী।

ভূতকে আবার কিসের ভয়। – অপাদানে ২য়া।

বাঘকে ভয় পায় না কে? – অপাদানে ২য়া।

আমি কি ডরাই সখী ভিখারী রাঘবে। – অপাদানে ৭মী।

পরাজয়ে ডরে না বীর – অপাদানে ৭মী

বাঘ দেখলে স্বভাবতই আমাদের ভয় হয়। মনে কর, তুমি বাঘ বা কোন কিছু দেখে ভয় পেলে, সেখানে যাকে ভয় পেলে অর্থাৎ বাঘই হবে অপাদান। তুমি হবে। কর্তা আর ভয় হবে কর্ম; ভয় অপাদান নয় ।

৫. আমরা সাধারণত কোন কিছুর ভাল, মন্দ, দোষ বা গুণ ইত্যাদি এক জনের সাথে আরেকজনের তুলনা করে থাকি। মনে রাখবে, যার সাথে তুলনা করবে সেই হবে অপাদান কারক। যাকে তুলনা করা হবে সে কী কারক হবে তা জানার প্রয়োজন নাই।

রাইসার চেয়ে মায়িশা বেশি সুন্দরী। মায়িশা রাইসার চেয়ে বেশি সুন্দরী

রাইসার চেয়ে মায়িশা অর্থাৎ রাইসার সাথে তুলনা হচ্ছে। তাই রাইসা অপাদান কারক। আর যাকে তুলনা কর হচ্ছে অর্থাৎ মায়িশা কিন্তু অপাদান হবে না, এই বাক্যে মায়িশা কর্তৃকারক হবে।

***** আবার আমরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাই বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে দূরত্ব পরিমাপ করি। যে স্থানে থেকে রওনা দেওয়া হবে বা দূরত্ব পরিমাপ করা হবে।সেই স্থানটি হবে অপাদান কারক।

রহিমের চেয়ে করিম করিম অনেক ভালো – অপাদানে ৫মী

লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু । – অপাদানে ৭মী

তর্কে বিরত হও। – অপাদানে ৭মী।

সুখের চেয়ে শান্তি ভাল- অপাদানে ৫মী

প্রাণের চেয়ে প্রিয় । – অপাদানে ৫মী

কুকর্মে বিরত হও। - অপাদানে ৭মী

ধর্ম হতে বিচলিত হয়ো না। – অপাদানে ৫মী

৭.কোন শব্দ দিয়ে যদি সময়কে নির্দেশ করে তবে সেই সময় সূচক শব্দটি হল অধিকরণ কারক, কিন্তু এই সময় থেকে যদি কোন কিছু শুরু বা উৎপন্ন হওয়া বা সৃষ্টি হওয়া বা জন্ম হওয়া বা বিচ্যুত হওয়া বা হারিয়ে যাওয়া বা চলে যাওয়া বোঝায় তবে ঐ সময়সূচক শব্দটি অপাদান কারক। যেমন-

  • দুপুর ৩টা থেকে পরীক্ষা শুরু।সময় থেকে শুরু হয়েছে; তাই ‘দুপুর ৩টা’ অপাদান করক।
  • সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু। সময় থেকে শুরু হয়েছে; তাই সোমবার’ অপাদান করক।
  • শুক্রবারে স্কুল বন্ধ থাকে। সময় থেকে শুরু নয়, শুধু সময় বুঝিয়েছে। তাই শুক্রবার’ অধিকরণ করক।
  • রোববার সংসদ অধিবেশন বসবে। সময় থেকে শুরু নয়, শুধু সময় বুঝিয়েছে;তাই রবিবার’ অধিকরণ করক।

অধিকরণ কারক

  • ক্রিয়া সম্পাদনের কাল বা সময় এবং স্থানকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ব্যবহৃত হয়।
  • নিচের ৩টি বিষয় বোঝালে তা অধিকরণ কারক।
  1. স্থান (আধার) বোঝালে।।
  2. সময় বোঝালে।
  3. বিষয় বোঝালে।

১. স্থান (আধার) বোঝালে:- ব্যাপারটি যদি এমন হয় যে শব্দটি দিয়ে কোন স্থানকে নির্দেশ করে বা বোঝায় তবে সেই স্থান সূচক শব্দটিই হবে অধিকরণ কারক। মনে রেখ, স্থান হবে  এমন নয়, শব্দটি দিয়ে স্থান বুঝালেই হবে। এবার প্রত্যেকটি উদাহরণ দেখ যা স্থানকেই বোঝাচ্ছে। মাথায় চুল আছে । চুলে পুষ্টি আছে। পুষ্টিতে ভিটামিন আছে। এখনে ১ম বাক্যে মাথা, ২য় বাক্যে চুল এবং তৃতীয় বাক্যে পুষ্টি এখানে স্থান বোঝাচ্ছে। তাই তা অধিকরণ কারক এবং ৭মী বিভক্তি ‘য় রয়েছে।

বাড়িতে কেউ নেই। - অধিকরণে ৭মী

পুকুরে মাছ আছে। - অধিকরণে ৭মী

বনে বাঘ আছে। - অধিকরণে ৭মী ।

আকাশে চাঁদ উঠেছে। - অধিকরণে ৭মী

তিলে তৈল আছে। - অধিকরণে ৭মী।

নদীতে পানি আছে। - অধিকরণে ৭মী

পানিতে মাছ আছে। - অধিকরণে ৭মী

মাছে আমিষ আছে। - অধিকরণে ৭মী

আমি ঢাকা যাব । - অধিকরণে শূন্য।

দেহে প্রাণ নেই। - অধিকরণে ৭মী

জমিতে সোনা ফলে। - অধিকরণে ৭মী

কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল । - অধিকরণে ৭মী

কপালের লেখা না যায় খণ্ডন । - অধিকরণে ৬ষ্ঠী

গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল। - অধিকরণে ৭মী

গগনে গরজে মেঘ ঘন বর্ষা। - অধিকরণে ৭মী

ছাদে বৃষ্টি পড়ে। - অধিকরণে ৭মী

জলে কুমির থাকে । - অধিকরণে ৭মী

ট্রেন ঢাকা পৌছল । - অধিকরণে শূন্য।

থানায় এজহার দাও। - অধিকরণে ৭মী।

পাইলটে কালি ধরে বেশি । - অধিকরণে ৭মী

পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির। - অধিকরণে ৭মী

বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে । - অধিকরণে ৭মী

বোটা আলগা ফল গাছে থাকে না । - অধিকরণে ৭মী

মনেতে আগুন জ্বলে চোখে কেন জ্বলে না – অধিকরণে ৭মী

সর্বাঙ্গে ব্যথা ঔষধ দিব কোথা । - অধিকরণে ৭মী

সমুদ্রে লবণ আছে । - অধিকরণে ৭মী

সরোবরে পদ্ম ফোটে । - অধিকরণে ৭মী

শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে। - অধিকরণে ৭মী

ঘাটে নৌকা বাধা আছে। - অধিকরণে ৭মী।

দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী । - অধিকরণে ৭মী ।

রাজার দুয়ারে হাতি বাধা । - অধিকরণে ৭মী

আমরা রোজ স্কুলে যাই। - অধিকরণে ৭মী

ছায়ায় বস। - অধিকরণে ৭মী

কাজে মন দাও।- অধিকরণে ৭মী।

নয়নে নয়ন রাখ । - অধিকরণে ৭মী ।

পৃথিবীতে সাতটি মহাসমুদ্র আছে- অধিকরণে ৭মী

মন বসে না পড়ার টেবিলে। - অধিকরণে ৭মী

পড়াতে তার মন বসে না। - অধিকরণে ৭মী ।

আহারে রুচি নেই। - অধিকরণে ৭মী ।

গোলাপে গন্ধ আছে। - অধিকরণে ৭মী ।

মিম বিপদে পড়েছে। - অধিকরণে ৭মী

অঙ্গে আঁচল সুনীল বরণ । - অধিকরণে ৭মী।

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এল বান। - অধিকরণে ৭মী'।

২. সময় বোঝালে: ব্যাপারটি যদি এমন হয় যে শব্দটি দিয়ে কোনো সময়কে নির্দেশ করে বা বোঝায়, তবে সেই সময়সূচক শব্দটিই হবে অধিকরণ কারক।

নিচের প্রত্যেকটি শব্দ সময়কে বোঝায় বা নির্দেশ করে:

  • সকাল, ভোর, প্রভাত,প্রত্যুষে, দুপুর, বিকালে, সাঝ, গোধুলি, সন্ধ্যা, রাত্রি, নিশি।
  • সেকেন্ড, মিনিট, ঘণ্টা, দিন, সপ্তাহ, পক্ষ (১৫ দিন), মাস
  • যে কোন ঋতুর নাম- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত।
  • যে কোন মাসের নাম: বাংলা এবং ইংরেজি ১২টি ১২টি মাসের নাম ।
  • যে কোন তারিখ বা সালের নাম: যেমন-১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল।
  • বেলা যুক্ত যে কোন শব্দ । রোজ, আজ, কাল, পরশু, গতকাল, আগামীকাল, বর্তমান, অতীত, ভবিষ্যৎ, মুহুর্ত, এমনকি সময় শব্দটি নিজেও অধিকরণ।
  • যে কোন বার বা দিনের নাম: শনিবার, রবিবার, সোমবার, মঙ্গলবার, বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার।

মনে রাখবে উপরের শব্দগুলো বাক্যে সময়কে বোঝায়। তাই সবগুলো অধিকরণ কারক।

এবার, উদাহরণগুলো Practice করি:

আজকে নগদ কালকে ধার- অধিকরণে ২য়া।

আমরা রোজ স্কুলে যাই- অধিকরণে শূন্য।

বছর খুব ভাল ফসল হয়েছে ।- অধিকরণে শূন্য।

তিনি শুক্রবারে আসবেন - অধিকরণে ৭মী

বসন্তে কোকিল ডাকে। - অধিকরণে ৭মী

রাতে মশা দিনে মাছি এই নিয়ে ঢাকায় আছি। - অধিকরণে ৭মী

শরতে ধরাতল শিশিরে ঝলমল । - অধিকরণে ৭মী

সারারাত বৃষ্টি ছিল । - অধিকরণে শূন্য।

হৃদয় আমার নাচেরে আজিকে। - অধিকরণে ২য়া।

তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে -অধিকরণে শূন্য

বসন্তে কোকিল ডাকে । - অধিকরণে ৭মী [বাক্যে বসন্ত কাল সময়কে নির্দেশ করে; তাই বসন্ত অধিকরণ কারক।]

প্রভাতে উঠিল রবি লোহিত বরণ ।- অধিকরণে ৭মী।

কথায় কথায় ছেলেবেলায় ফিরে গেলাম । - অধিকরণে ৭মী

আজকে তোমায় দেখতে এলাম জগৎ আলো নূরজাহান । - অধিকরণে ২য়া।

দিনে দিনে শুধু বাড়িতেছে দেনা। - অধিকরণে ৭মী।

সকল নিশিতে শশী হয় না প্রকাশ । - অধিকরণে শূন্য

৩. বিষয় বোঝালে ব্যাপারটি যদি এমন হয় যে শব্দটি দিয়ে কোন কিছুর উপর দক্ষতা বা অদক্ষতা পারদর্শিতা বা অপারদর্শিতা, ক্ষমতা বা গুন বোঝায় → এই যার উপর বোঝাবে সেই হবে অধিকরণ কারক।

মারিয়া অংকে ভালো কিন্তু ব্যাকরণে কাঁচা ।

পড়াশুনায় তার জুড়ি নেই।

এই বাক্যে অংক এবং ব্যাকরণের উপর দক্ষতা এবং অদক্ষতা বোঝাচ্ছে। তাই এগুলো অধিকরণ কারক । দ্বিতীয় বাক্যে পড়াশুনার উপর দক্ষতা বুঝিয়েছে । তাই পড়াশুনায় অধিকরণ কারক।

আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয় - অধিকরণে ৭মী।

অতি বড়বৃদ্ধপতি সিদ্ধিতে নিপুণ । - অধিকরণে শূন্য।

ণত্ব বিধান জানলে ভালো হয় । - অধিকরণে শূন্য।


এই পোস্ট সহায়ক ছিল?

2 out of 2 Marked as Helpfull !