বাক্য প্রকরণ Last updated: 5 months ago

  • বাক্য শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কথ্য বা কথিত বিষয়।
  • ভাষার মূল উপকরণ বাক্য এবং বাক্যের মৌলিক উপাদান শব্দ । 
  • যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টির দ্বারা কোন বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে। 

কতগুলো পদের সমষ্টিতে বাক্য গঠিত হলেও যে কোন পদ সমষ্টি বাক্য নয় । বাক্যের বিভিন্ন পদের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক বা থাকা অবশ্যক । এছাড়াও বাক্যের অন্তর্গত বিভিন্ন পদ দ্বারা মিলিতভাবে একটি অখন্ড ভাব পূর্ণরূপে প্রকাশিত হওয়া প্রয়োজন ,তবেই তা বাক্য হবে ।

  • ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই । যেমন : – ১) আকাঙ্ক্ষা ২) আসক্তি এবং ৩) যোগ্যতা 

১) আকাঙ্ক্ষা : বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা- ই আকাঙ্ক্ষা।যেমন : “ চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে “ – এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না , আরও কিছু ইচ্ছা থাকে । বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় : চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে । এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য । 

২) আসক্তি: মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পরপর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়। বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসক্তি। যেমন : –  কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত । লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোরও অন্তর্নিহিত ভাবটি  যথাযথ প্রকাশিত হয়নি । তাই এটি একটি বাক্য হয় নি । মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিন্মলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে । যেমন : কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তিসম্পূর্ণ । 

৩) যোগ্যতা : বাক্যস্থিত পদ সমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা। যেমন:- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। – এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারন ,বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে। 

কিন্তু “বর্ষার রেীদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে। “– বললে বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারাবে । কারন,রেীদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না। 

শব্দের যোগ্যতার সঙ্গে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো জড়িত থাকে :

ক) রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা : 

প্রকৃতি-প্রত্যয়জাত অর্থে শব্দ সর্বদা ব্যবহৃত হয় । যোগ্যতার দিক থেকে রীতিসিদ্ধ অর্থের প্রতি লক্ষ্য রেখে কতগুলো শব্দ ব্যবহার করতে হয় । যেমন: – 

শব্দ

রীতিসিদ্ধ

প্রকৃতি+প্রত্যয় 

প্রকৃতি+প্রত্যয়জাত অর্থ 

বাধিত

অনুগৃহীত বা কৃতজ্ঞ

বাধ+ইত

বাধাপ্রাপ্ত 

তৈল

তিল জাতীয়

তিল্‌+ষ্ণ

তিলজাত স্নেহ পদার্থ ,বিশেষ কোন শস্যের রস । 

খ) দুর্বোধ্যতা: অপ্রচলিত ,দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যের যোগ্যতা বিনষ্ট হয় । যেমন : – তুমি আমার সঙ্গে প্রপঞ্চ করেছ। (প্রপঞ্চ =চাতুরী বা মায়া অর্থে , কিন্তু বাংলা “ প্রপঞ্চ “ শব্দটি অপ্রচলিত।) 

গ) উপমার ভুল প্রয়োগ : ঠিকভাবে উপমা অলংকার ব্যবহার না করলে যোগ্যতার হানি ঘটে । যেমন: – আমার হৃদয়-মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো । বীজ খেতে (আগে বানান ছিল- ক্ষেতে) বপন করা হয় ,মন্দিরে নয় । কাজেই বাক্যটি হওয়া উচিত: আমার হৃদয় ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হলো। 

ঘ) বাহুল্যদোষ : প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং এর ফলে শব্দ তার যোগ্যতাগুন হারিয়ে থাকে। যেমন :- দেশের সব আলেমগণই এ ব্যাপারে আমাদের সমর্থন দান করেন । “ আলেমগণ “ বহু বচনবাচক শব্দ । এর সঙ্গে “ সব “ শব্দটির অতিরিক্ত ব্যবহার বাহুল্য – দোষ সৃষ্টি করেছে । 

ঙ) বাগধারার শব্দ পরিবর্তন : বাগধারা ভাষাবিশেষের ঐতিহ্য । এর যথেচ্ছ পরিবর্তন করলে শব্দ তার যোগ্যতা হারায়। যেমন:– “ অরণ্যে রোদন “ (অর্থ : নিষ্ফল আবেদন ) –এর পরিবর্তনে যদি বলা হয় ।  “ বনে ক্রন্দন “ তবে বাগধারাটি তার যোগ্যতা হারাবে। 

চ) গুরুচণ্ডালী দোষ: তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ কখনো কখনো গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে । এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায় । “ গরুর গাড়ি “ ,“ শবদাহ “ মড়াপোড়া, প্রভৃতি স্থলে যথাক্রমে “ গরূর শকট “,শবপোড়া ,মড়াদাহ “ প্রভৃতির ব্যবহার গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।

  • প্রতিটি বাক্য দুটি অংশ থাকে: উদ্দেশ্য ও বিধেয়,তাকে উদ্দেশ্য এবং উদ্দেশ্য সম্বন্ধে যা বলা হয় , তাকে বিধেয় বলে। যেমন: খোকা এখন(উদ্দেশ্য)বই পড়ছে (বিধেয়)। 
  • বিশেষ্য বা বিশেষ্যস্থানীয় অন্যান্য পদ বা পদসমষ্টিযোগে গঠিত বাক্যাংশও বাক্যের উদ্দেশ্য হতে পারে । যেমন:

সৎ লোক এরাই প্রকৃত সুখী –বিশেষ্যরূপে ব্যবহৃত বিশেষণ । মিথ্যা কথা বলা খুবই অন্যায় – ক্রিয়াজাত বাক্যাংশ । 

  • একটি মাত্র পদবিশিষ্ট কর্তৃপদকে সরল উদ্দেশ্য বলে। 
  • উদ্দেশ্যের সঙ্গে বিশেষণাদি যুক্ত থাকলে তাকে সম্প্রসারিত উদ্দেশ্য বলে ।
  • গঠন অনুযায়ী বাক্য তিন প্রকার : ১) সরল বাক্য  ২) মিশ্র বা জটিল বাক্য ৩) যৌগিক বাক্য।

সরল বাক্য

যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা ( উদ্দেশ্য ) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া ( বিধেয় ) থাকে , তাকে সরল বাক্য বলে । যথা : – পুকুরে পদ্মফুল জন্মে । এখানে “ পদ্মফুল “ উদ্দেশ্য এবং “ জন্মে “ বিধেয় । এ রকম:  স্নেহময়ী জননী (উদ্দেশ্য) স্বয়ং সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালোবাসেন (বিধেয়)। বিশ্ববিখ্যাত মহাকবিরা(উদ্দেশ্য) ঐন্দ্রজালিক শক্তি সম্পন্ন লেখনি দ্বারা অমরতার সংগীত রচনা করেন(বিধেয়)। 

  • তবে বিশেষ ক্ষেত্রে বাক্যে একাধিক উদ্দেশ্য থাকলেও যদি সমাপিকা ক্রিয়া একটি থাকে তাহলে তাকে সরল বাক্য বলে। যে আলাল (উদ্দেশ্য) ও জালাল (উদ্দেশ্য) এদিকে আসছে (সমাপিকা ক্রিয়া)। কুবের (উদ্দেশ্য) ও কুপিলা (উদ্দেশ্য) দুজনে মন দ্বীপে চলে গেল (সমাপিকা ক্রিয়া)।
  • বাক্যে যদি একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকে এবং তা যদি একাধিক বাক্যকে যুক্ত করে তবু বাক্যে যদি একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাহলে তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন: তিনি কথাটা বলতে বলতে (অসমাপিকা ক্রিয়া) সিঁড়ি বেয়ে (অসমাপিকা ক্রিয়া) ওপরে উঠে (অসমাপিকা ক্রিয়া) বেল টিপলেন (সমাপিকা ক্রিয়া)।

মনে রাখার টেকনিক

টেকনিক-০১:- বাক্যের মাঝে -

  • হলেও, বললেও, করলেও, পাকলেও, সত্ত্বেও, থাকলেও থাকবে; অর্থাৎ বাক্যের মাঝে এরূপ ক্রিয়ার সাথে ‘ও থাকবে
  • আবার বাক্যের মাঝে হলেই, বললেই, করলেই, থাকলেই, লোকেই এরূপভাবে থাকলে তা চিন্তা ছাড়া সরল বাক্য হবে।যেমন- দুর্জন লোক বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য। চুল পাকলে তার বুদ্ধি পাকে নি। অনেক দেখে দেখা শেষ হল না। অনেকের নিবাস থাকলেও আমার নিবাস নাই।

 

টেকনিক-০২:- বাক্যের প্রথম অংশের শেষে করলে, বললে, থাকলে, চাইলে, করার, বলার, থাকার, করতে, বলতে, থাকতে, হলে, বলে, এলে এরূপ ক্রিয়াগুলো থাকবে এবং বাক্যের শেষে অবশ্যই ১টি সমাপিকা ক্রিয়া থাকবে। এরূপ হলে তা সরল বাক্য হবে। তবে বাক্যের মাঝে কোন কমা(,) বসবে না। সরল বাক্যে কখনও কমা হয় না। একটি অংশ আরেকটি অংশের উপর নির্ভরশীল হবে না।যেমন- মা ছিলনা বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয় নি। কলম থাকলে লেখা যেত। মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে। সত্য কথা স্বীকার না করলে শাস্তি পাবে।

জটিল বাক্য

যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ড বাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত খণ্ড বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়। তাকে জটিল বাক্য বলে। জটিল বাক্যে দুটি বাক্য যেকোনো একটি শর্ত দ্বারা যুক্ত থাকে। যেমন:যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।সে যে অপরাধী, তা মুখ দেখেই বুঝেছি। যে নেতা দেশের মঙ্গল বোঝেন না, তিনি নিজের কল্যাণ অনুধাবনেও ব্যর্থ। তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা, সকিনা বিবির কপাল ভাঙল।

জটিল বাক্য চেনার সহজ উপায়

টেকনিক-০১:- কিছ সাপেক্ষ সর্বনাম যেমনঃ যে-সে, যেই-সেই, যা-তা, যিনি তিনি, যদি-তবে যদি-তাহলে, যদিও-তবু, যারা-তারা, যখন-তখন,যেমন-তেমন, যেইনা-অমনি, যেহেতু-সেহেতু/সেজন্য/সুতরাং ইত্যাদি থাকলে বাক্যটি চিন্তা ছাড়া জটিল বাক্য হবে।যেমন-যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম। যে ব্যক্তির মাথায় বুদ্ধি নেই, সে পরের সমালোচনায় উদ্বিগ্ন হয়।যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই একথা বিশ্বাস করবে।

টেকনিক-০২:- বাক্যে যাদ, যখন, যেন, যে, যা একবার থাকলে তা কোন রকম চিন্তা ছাড়াই জটিল বাক্য হবে। সব নিয়ম কানুন ভুলে জটিল বা মিশ্র বাক্য উত্তর করবে। যেমন-শিশির যখন কোলে তখন তাহার মার মৃত্যু হয়।তোমার যিনি বাপ, তার নাম কি? আমি যে কলমটি হারিয়েছি, সেটি ফিরে পেয়েছি।তুমি যা বললে তা অসত্য । যে মিথ্যাবাদী তাকে কেউ বিশ্বাস করে না।যে বইটি আমি কিনেছি, সেটি খুব দামি।যদি পাশ করতে চাও তাহলে পড় । অনেকের জীবনে প্রথমে দুঃখ আসে,পরে সুখ আসে। যে অন্ধ তাকে আলো দাও। লেখাপড়া বিষয়ে তার যে গভীর অনুরাগ ছিল,একথা বলা যায় না ।তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা, সখিনা বিবির কপাল ভাঙল ।

  • জটিল বাক্যে কয়টি খণ্ড বাক্য থাকে? = ২ টি (প্রধান খণ্ড বাক্য এবং আশ্রিত খণ্ড বাক্য)।
  • জটিল বাক্যে প্রধান খণ্ড বাক্য এবং আশ্রিত খণ্ড বাক্যের মাঝে সাধারণত কী থাকে = কমা (,)।
  • আশ্রিত খণ্ড বাক্য কত প্রকার? = ৩ প্রকার। যথা: ক) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খন্ডবাক্য, খ) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য , গ) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য । 

ক) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খন্ডবাক্য (Noun Clause) : যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য (Subordinate clause) প্রধান খন্ডবাক্যের যে কোনো পদের আশ্রিত থেকে বিশেষ্যের কাজ করে,তাকে বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যথা: – আমি মাঠে গিয়ে খেললাম , খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে । (বিশেষ্য স্থানীয় খণ্ডবাক্য ক্রিয়ার কর্মরূপে ব্যবহৃত) 

তদ্রুপ: তিনি বাড়ি আসছে কি না , আমি জানি না ।  ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না । 

খ) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য (Adjective clause ) : যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খন্ড বাক্যের অন্তর্গত কোন বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ ,গুণ এবং অবস্থা প্রকাশ করে , তাকেই বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে । যথা : লেখাপড়া করে যেই , গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই ।(আশ্রিত বাক্যটি “ সেই “ সর্বনামের অবস্থা প্রকাশ করছে)। তদ্রুপ : “ খাটি সোনার চাইতে খাঁটি , আমার দেশের মাটি ‘ । ” ধনধান্য পুষ্প ভরা , আমাদের এই বসুন্ধরা।’ সে এ সভায় অনুপস্থিত , সে বড় দুর্ভাগা । 

গ) ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য (Adverbial Clause): যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান-কাল কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহার হয় তাকেই  ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য বলে।যেমন:” যতই করিবে দান , তত যাবে বেড়ে।তুমি আসিবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।

যৌগিক বাক্য

পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে। 

জ্ঞাতব্য : যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং , ও , কিন্তু ,অথবা ,কিংবা ,বরং ,তথাপি  প্রবৃত্তি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে । যেমন: – নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে , কিন্তু ,কোন পথ দেখাতে পারলেন না । বস্ত্র মলিন কেন,কেউ জিজ্ঞাসা করলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে ,অথচ ধেীত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ন। উদয়াস্ত পরিশ্রম করব,তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।

যৌগিক বাক্য

কারণ

উদাহরণ

সরল বাক্য + সরল বাক্য

একটি সরল বাক্যে ১টি কর্তা ও ১টি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, অতএব ২টি সরল বাক্যে ২টি কর্তা ও ২টি সমাপিকা ক্রিয়া থাকবে। যা যৌগিক বাক্য গঠন করে ।

সে গান গায়, আমি শুনি।

টাকা দাও, ছাড়া পাবে।

সরল বাক্য + জটিল

সরল বাক্যে ১টি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে এবং জটিল বাক্যেও ১টি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে। তাই দুটি সমাপিকা

ক্রিয়া যৌগিক বাক্য গঠন করে ।

সে কোন ভাবেই মানতে রাজি নয়, যে বইটি সে কিনেছে, সেটি খুব কম দামি।

জটিল বাক্য+জটিল বাক্য

প্রত্যেকটি জটিল বাক্যে অন্তত ১টি করে ২টি সমাপিকা ক্রিয়া বাক্য থাকে যা যৌগিক বাক্য হয়।

সে না এলে তুমি যাবে না, সে বলে পাঠিয়েছে যে তার আসতে দেরি হবে।

 

যৌগিক বাক্য চেনার সহজ উপায়

টেকনিক-০১:-যৌগিক বাক্যে আলাদা কর্তা হবে ২টি এবং সমাপিকা ক্রিয়াও হবে ২টি। আমদের যা করতে হবে – প্রথমে দেখবো ২টি সমাপিকা ক্রিয়া আছে কিনা এবং ২টি সমাপিকা ক্রিয়ার ২টি কর্তা আছে কিনা? থাকলে তা নিশ্চিত যৌগিক বাক্যে হবে। বিশেষ করে কর্তা থাক বা না থাক ২টি সমাপিকা ক্রিয়া হলেই যৌগিক বাক্যে হবে, কারন সমাপিকা ক্রিয়া দিয়েই কোনটি কোন বাক্য তা নির্ণয় করা সম্ভব। যেমন- দশ মিনিট অতিক্রান্ত হলো, তারপর ট্রেন আসল । আমি বাড়ি যাব, তাই সে আজ স্কুলে যায় নি।দোষ স্বীকার কর, তোমাকে শাস্তি দিব না। টাকা দাও, ছাড়া পাবে।

টেকনিক-০২:- কিছু অব্যয় যেমন এবং, ও, আর, অথচ, বরং, তথাপি, কিন্তু, কিংবা, নতুবা, অতএব, তাই, তারপর ইত্যাদি দিয়ে যুক্ত থাকলে বাক্যটি চিন্তা ছাড়াই  যৌগিক বাক্যে হবে। এখানে মনে রাখতে হবে যে, অব্যয়টি দুটি কর্তা বা দুটি বাক্য বা দুটি পদকে যুক্ত করবে এবং বাক্যে অব্যয়টির আগে ও পরে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকবে। যেমন- তিনি অত্যন্ত দরিদ্র কিন্তু তাঁর অন্তঃকরণ অতিশয় উচ্চ । উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না। গিয়াস পড়াশোনা করেছিল প্রচুর কিন্তু পরীক্ষায় পাস করে নি । তিনি আমাকে দশটি টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।

টেকনিক-০৩:- কিছু কিছু সময় কমা (,) এর পরে ফলে, তবে, তাই, নতুবা, তবু, কেবল, কারণ, অতএব, তারপর ইত্যাদি দিয়ে যুক্ত থাকলে বাক্যটি চিন্তা ছাড়া যৌগিক বাক্য হবে। এখানেও মনে রাখতে হবে যে, অব্যয়টি দুটি কর্তা বা দুটি বাক্য বা দুটি পদকে যুক্ত করবে এবং আগে ও পরে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকবে। যেমন- আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি। সে অনেক কষ্ট করেছে, তাই সাফল্য লাভ করেছে । সূর্য উদিত হয়, তবে অন্ধকার দূর হয়। সত্য কথা স্বীকার কর, নতুবা শাস্তি পাবে।

টেকনিক-০৪:- আমরা জানলাম – যৌগিক বাক্য হতে হলে ২টি কর্তা এবং ২টি সমাপিকা ক্রিয়া থাকতে হবে। তবে কখনও কখনও ২টি কর্তার সমাপিকা ক্রিয়া একই হতে পারে অর্থাৎ ২টি কর্তার সমাপিকা ক্রিয়া একই হলে ২ বার লেখার প্রয়োজন হয় না। যেমন-

রহিম একথা বলল – সরল বাক্য।

করিম একথা বলল – সরল বাক্য।

রহিম এবং করিম একথা বলল। – যৌগিক বাক্য।

বিপদ এবং দুঃখ এক সঙ্গে আসে। – যৌগিক বাক্য।

 

বাক্যের রূপান্তর

[বাক্য রূপান্তর : বাক্যের অর্থ পরিবর্তন না করে বাক্যের প্রকাশভঙ্গি বা গঠনরীতিতে পরিবর্তন করাকেই বাক্য রূপান্তর বলা হয়। অর্থাৎ, বাক্য রূপান্তর করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, বাক্যের অর্থ যেন পাল্টে না যায়। বাক্যের অর্থ পাল্টে গেলে বাক্যটি অন্য বাক্যে রূপান্তরিত হয়ে যাবে। কিন্তু বাক্য রূপান্তরের ক্ষেত্রে আমাদেরকে বাক্যের প্রকাশভঙ্গি বা গঠনরীতি তথা রূপ (Form) পরিবর্তন করতে হবে, বাক্যের অর্থ পরিবর্তন করা যাবে না।]

সরল থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর : সরল বাক্যের কোন একটি অংশকে সম্প্রসারিত করে একটি খন্ডবাক্যে রূপান্তরিত করতে হয় এবং তার খণ্ডবাক্যটির সঙ্গে মূল বাক্যের সংযোগ করতে উপরোক্ত সাপেক্ষ সর্বনাম বা সাপেক্ষ অব্যয়গুলোর কোনটি ব্যবহার করতে হয়। যেমন-

সরল বাক্য : ভাল ছেলেরা কম্পিউটারে বসেও ইন্টারনেটে পড়াশুনা করে।
জটিল বাক্য : যারা ভাল ছেলে, তারা কম্পিউটারে বসেও ইন্টারনেটে পড়াশুনা করে।

সরল বাক্য : ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও।
জটিল বাক্য : যে ভিক্ষা চায়, তাকে ভিক্ষা দাও।

জটিল থেকে সরল বাক্যে রূপান্তর : জটিল বাক্যটির অপ্রধান/ আশ্রিত খণ্ডবাক্যটিকে একটি শব্দ বা শব্দাংশে পরিণত করে সরল বাক্যে রূপান্তর করতে হয়। যেমন-

জটিল বাক্য : যত দিন বেঁচে থাকব, এ কথা মনে রাখব।
সরল বাক্য : আজীবন এ কথা মনে রাখব।

জটিল বাক্য : যদি দোষ স্বীকার কর তাহলে তোমাকে কোন শাস্তি দেব না।
সরল বাক্য : দোষ স্বীকার করলে তোমাকে কোন শাস্তি দেব না।

সরল থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর : সরল বাক্যের কোন অংশকে সম্প্রসারিত করে একটি পূর্ণ বাক্যে রূপান্তরিত করতে হয় এবং পূর্ণ বাক্যটির সঙ্গে মূল বাক্যের সংযোগ করতে উপরোক্ত অব্যয়গুলো ব্যবহার করতে হবে। যেমন-

সরল বাক্য : দোষ স্বীকার করলে তোমাকে কোন শাস্তি দেব না।
যৌগিক বাক্য : দোষ স্বীকার কর, তাহলে তোমাকে কোন শাস্তি দেব না। (এক্ষেত্রে ‘তাহলে’ অব্যয়টি ব্যবহার না করলেও চলতো)

সরল বাক্য : আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।
যৌগিক বাক্য : আমি বহু কষ্ট করেছি এবং/ ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।

যৌগক থেকে সরল বাক্যে রূপান্তর : যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া থাকে। অন্যদিকে সরল বাক্যে একটিই সমাপিকা ক্রিয়া থাকে। তাই যৌগিক বাক্যের একটি সমাপিকা ক্রিয়াকে অপরিবর্তিত রেখে বাকিগুলোকে সমাপিকা ক্রিয়ায় পরিণত করতে হবে। যৌগিক বাক্যে একাধিক পূর্ণ বাক্য থাকে এবং তাদের সংযোগ করার জন্য একটি অব্যয় পদ থাকে। সেই অব্যয়টি বাদ দিতে হবে। যেমন-

যৌগিক বাক্য : তার বয়স হয়েছে, কিন্তু বুদ্ধি হয়নি। (সমাপিকা ক্রিয়া- হয়েছে, হয়নি)
সরল বাক্য : তার বয়স হলেও বুদ্ধি হয়নি। (‘হয়েছে’ সমাপিকা ক্রিয়াকে ‘হলেও’ অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তরিত করা হয়েছে)

যৌগিক বাক্য : মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে। (সমাপিকা ক্রিয়া- করে ও করে)
সরল বাক্য : মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে। (‘করে’ সমাপিকা ক্রিয়াকে ‘করলে’ অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তরিত করা হয়েছে)

[সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়া; ক্রিয়াপদ]

জটিল থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর : জটিল বাক্যে কয়েকটি খণ্ডবাক্য থাকে, এবং সেগুলো পরস্পর নির্ভরশীল থাকে। জটিল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে এই খণ্ডবাক্যগুলোর পরস্পর নির্ভরতা মুছে দিয়ে স্বাধীন করে দিতে হবে। এজন্য সাপেক্ষ সর্বনাম বা অব্যয়গুলো তুলে দিয়ে যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত অব্যয়গুলোর মধ্যে উপযুক্ত অব্যয়টি বসাতে হবে। পাশাপাশি ক্রিয়াপদের গঠনের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেমন-

জটিল বাক্য : যদি সে কাল আসে, তাহলে আমি যাব।
যৌগিক বাক্য : সে কাল আসবে এবং আমি যাব।

জটিল বাক্য : যদিও তাঁর টাকা আছে, তবুও তিনি দান করেন না।
যৌগিক বাক্য : তাঁর টাকা আছে, কিন্তু তিনি দান করেন না।

যৌগিক থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর : যৌগিক বাক্যে দুইটি পূর্ণ বাক্য কোন অব্যয়ের দ্বারা যুক্ত থাকে। এই অব্যয়টি তুলে দিয়ে সাপেক্ষ সর্বনাম বা অব্যয়ের প্রথমটি প্রথম বাক্যের পূর্বে ও দ্বিতীয়টি দ্বিতীয় বাক্যের পূর্বে বসালেই জটিল বাক্যে রূপান্তরিত হবে।

তবে, সাপেক্ষ সর্বনাম বা অব্যয়গুলোর পূর্ণ বাক্য দুটির প্রথমেই বসাতে হবে, এমন কথা নেই; উপযুক্ত যে কোন জায়গাতেই বসানো যেতে পারে। যেমন-

যৌগিক বাক্য : দোষ স্বীকার কর, তোমাকে কোন শাস্তি দেব না।
জটিল বাক্য : যদি দোষ স্বীকার কর, তাহলে তোমাকে কোন শাস্তি দেব না।

যৌগিক বাক্য : তিনি অত্যন্ত দরিদ্র, কিন্তু তার হৃদয় অত্যন্ত মহৎ।
জটিল বাক্য : যদিও তিনি অত্যন্ত দরিদ্র, তবুও তার হৃদয় অত্যন্ত মহৎ।

যৌগিক বাক্য : এ গ্রামে একটি দরগাহ আছে, সেটি পাঠানযুগে নির্মিত।
জটিল বাক্য : এ গ্রামে যে দরগাহটি আছে, সেটি পাঠানযুগে নির্মিত।
ক) নেতিবাচক থেকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর

নেতি : এ আশ্রমমৃগ, বধ করিবেন না।
অস্তি : এ আশ্রমমৃগ, বধ করা থেকে বিরত হোন।

নেতি : আপনকার বাণ অল্পপ্রাণ মৃগশাবকের উপর নিক্ষিপ্ত হইবার যোগ্য নহে।
অস্তি : আপনকার বাণ অল্পপ্রাণ মৃগশাবকের উপর নিক্ষিপ্ত হইবার অযোগ্য।

নেতি : না মহারাজ, তিনি আশ্রমে নাই।
অস্তি : হ্যাঁ মহারাজ, তিনি আশ্রমের বাইরে আছেন।
(বাক্যের শুরুতে ‘না’ শব্দটি না থাকলে ‘তিনি আশ্রমে অনুপস্থিত’ হতে পারতো। কিন্তু এক্ষেত্রে ‘অনুপস্থিত’ বলতে গেলে শুরুতে ‘না’ বলতে হবে। তখন বাক্যটি আর অস্তিবাচক হবে না, কারণ নেতিবাচক শব্দ ‘না’ বাক্যে থেকে যাবে। তাই এক্ষেত্রে সেটি সঠিক হবে না।)

নেতি : কেহ কহিয়া দিতেছে না।
অস্তি : সকলে নীরব থাকিতেছে।

নেতি : এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।
অস্তি : আমার অন্তঃপুর এরূপ রূপবতী রমনী-বিবর্জিত।

খ) অস্তিবাচক থেকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর

অস্তি : উদ্যানলতা, সৌন্দর্যগুণে, বনলতার নিকট পরাজিত হইল।
নেতি : উদ্যানলতা, সৌন্দর্যগুণে, বনলতার নিকট পরাজিত না হইয়া পারিল না।

অস্তি : কণ্ব আশ্রমপাদপদিগকে তোমা অপেক্ষা অধিক ভালোবাসেন।
নেতি : কণ্ব আশ্রমপাদপদিগকে তোমা অপেক্ষা অধিক না ভালোবাসিয়া পারেন না।

অস্তি : আমারও ইহাদের উপর সহোদর স্নেহ আছে।
নেতি : আমারও যে ইহাদের উপর সহোদর স্নেহ নাই তাহা নহে।

অস্তি : এই জন্যই তোমাকে সকলে প্রিয়ংবদা বলে।
নেতি : এই জন্যই তোমাকে সকলে প্রিয়ংবদা না বলে পারে না।

অস্তি : প্রিয়ংবদা যথার্থ কহিয়াছে।
নেতি : প্রিয়ংবাদ অযথার্থ কহে নাই।

গ) জটিল থেকে সরল বাক্যে রূপান্তর

জটিল : কেহ কহিয়া দিতেছে না, তথাপি তপোবন বলিয়া বোধ হইতেছে।
সরল : কেহ কহিয়া না দিলেও তপোবন বলিয়া বোধ হইতেছে।

জটিল : শরাসনে যে শর সংহিত করিয়াছেন, আশু তাহার প্রতিসংহার করুন।
সরল : শরাসনে সংহিত শর আশু প্রতিসংহার করুন।

জটিল : যদি কার্যক্ষতি না হয়, তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।
সরল : কার্যক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।

জটিল : ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।
সরল : ইহাদের মতো রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।

জটিল : তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা, তথাপি তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।
সরল : তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা হওয়া সত্ত্বেও তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।
কমলাকান্তের জবানবন্দী
সরল থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর

সরল : ফরিয়াদী প্রসন্ন গোয়ালিনী।
জটিল : যে ফরিয়াদী, সে প্রসন্ন গোয়ালিনী।

সরল : সাক্ষীটা কী একটা গণ্ডগোল বাধাইতেছে।
জটিল : যে সাক্ষী, সে একটা গণ্ডগোল বাধাইতেছে।

সরল : আমার নিবাস নাই।
জটিল : যা নিবাস, তা আমার নাই।

সরল : তোমার বাপের নাম কী?
জটিল : তোমার যিনি বাপ, তার নাম কী?

সরল : আমি এ সাক্ষী চাই না।
জটিল : যে সাক্ষী এ রকম, তাকে আমি চাই না।

সরল : কমলাকান্ত পিতার নাম বলল।
জটিল : যিনি কমলাকান্তের পিতা, সে তাঁর নাম বলল।

সরল : কোনো কথা গোপন করিব না।
জটিল : যাহা বলিব, তাহার মধ্যে কোনো কথা গোপন করিব না।

সরল : উকিলবাবু চুপ করিয়া বসিয়া পড়িলেন।
জটিল : যিনি উকিলবাবু, তিনি চুপ করিয়া বসিয়া পড়িলেন।
হৈমন্তী

ক) অস্তিবাচক থেকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর

অস্তি : বিবাহ সম্বন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল।
নেতি : বিবাহ সম্বন্ধে আমার মত যাচাই করা আবশ্যক ছিল না।

অস্তি : পঞ্জিকার পাতা উল্টাইতে থাকিল।
নেতি : পঞ্জিকার পাতা উল্টানো বন্ধ রহিল না।

অস্তি : শ্বশুরের ও তাহার মনিবের উপর রাগ হইল।
নেতি : শ্বশুরের ও তাহার মনিবের উপর রাগ না হইয়া পারিলাম না।

অস্তি : আমার বুকের ভেতরটা হু হু করিয়া উঠিল।
নেতি : আমার বুকের ভেতরটা হু হু করিয়া না উঠিয়া পারিল না।

অস্তি : হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।
নেতি : হৈমন্তী কোনো কথা কহিতে পারিল না।

অস্তি : হৈম কিছু না বলিয়া একটু হাসিল।
নেতি : হৈম কিছু একটু হাসিল, কিছু বলিল না।

অস্তি : সে বাপকে যত চিঠি লিখিত আমাকে দেখাইত।
নেতি : সে বাপকে যত চিঠি লিখিত সেগুলি আমাকে না দেখাইয়া পারিত না।

অস্তি : তাহার মন একেবারে কাঠ হইয়া গেল।
নেতি : তাহার মন কাঠ না হইয়া পারিল না।

খ) নেতিবাচক থেকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর

নেতি : দেশের প্রচলিত ধর্মকর্মে তাঁহার আস্থা ছিল না।
অস্তি : দেশের প্রচলিত ধর্মকর্মে তাঁহার অনাস্থা ছিল।

নেতি : আমার প্রণাম লইবার জন্য সবুর করিলেন না।
অস্তি : আমার প্রণাম লইবার পূর্বেই প্রস্থান করিলেন।

নেতি : কিন্তু বরফ গলিল না।
অস্তি : কিন্তু বরফ অগলিত রহিল।

নেতি : হৈম তাহার অর্থ বুঝিল না।
অস্তি : হৈম তাহার অর্থ বুঝিতে অক্ষম।

নেতি : দেবার্চনার কথা কোনদিন তিনি চিন্তাও করেন নাই।
অস্তি : দেবার্চনার কথা তাঁর কাছে অচিন্ত্যনীয় ছিল।

নেতি : এসব কথা সে মুখে আনিতে পারিত না।
অস্তি : এসব কথা তার মুখে আনারও যোগ্য ছিল না।

নেতি : বইগুলি হৈমর সঙ্গে একত্রে মিলিয়া পড়া অসম্ভব ছিল না।
অস্তি : বইগুলি হৈমর সঙ্গে একত্রে মিলিয়া পড়া সম্ভব ছিল।

নেতি : দেখি, সে বিছানায় নাই।
অস্তি : দেখি, সে বিছানায় অনুপস্থিত।

গ) যৌগিক থেকে সরল বাক্যে রূপান্তর

যৌগিক : কন্যার বাপ সবুর করিতে পারিতেন, কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না।
সরল : কন্যার বাপ সবুর করিতে পারিলেও বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না।

যৌগিক : আমি ছিলাম বর, সুতরাং বিবাহ সম্বন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল।
সরল : আমি বর ছিলাম বলে বিবাহ সম্বন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল।

যৌগিক : শিশিরের বয়স যথাসময়ে ষোলো হইল; কিন্তু সেটা স্বভাবের ষোলো।
সরল : শিশিরের বয়স যথাসময়ে ষোলো হইলেও সেটা ছিল স্বভাবের ষোলো।

যৌগিক : তোমাকে এই কটি দিন মাত্র জানিলাম, তবু তোমার হাতেই ও রহিল।
সরল : তোমাকে এই কটি দিন মাত্র জানিলেও তোমার হাতেই ও রহিল।

বিলাসী

ক) নেতিবাচক থেকে প্রশ্নবাচক বাক্যে রূপান্তর

নেতি : তাদের গ্রামে ফিরিয়া আসা চলে না।
প্রশ্ন : তাদের গ্রামে ফিরিয়া আসা চলে কি?

নেতি : এ খবর আমরা কেহই জানিতাম না।
প্রশ্ন : এ খবর আমাদের কেহই কি জানিত?

নেতি : মানুষটা সমস্ত রাত খেতে পাবে না।
প্রশ্ন : মানুষটা সমস্ত রাত খেতে পাবে কি?

নেতি : সরস্বতী বর দেবেন না।
প্রশ্ন : সরস্বতী বর দেবেন কি?

নেতি : তাদের সে জ্বালা নাই।
প্রশ্ন : তাদের সে জ্বালা আছে কি?

নেতি : তাহার ফোর্থ ক্লাসে পড়ার ইতিহাস কখনো শুনি নাই।
প্রশ্ন : তাহার ফোর্থ ক্লাসে পড়ার ইতিহাস কখনো শুনিয়াছি কি?

নেতি : একথা কোনো বাপ ভদ্রসমাজে কবুল করিতে চাহিত না।
প্রশ্ন : একথা কোনো বাপ ভদ্রসমাজে কবুল করিতে চাহিত কি?

নেতি : অনেকদিন মৃত্যুঞ্জয়ের দেখা নাই।
প্রশ্ন : অনেকদিন মৃত্যুঞ্জয়ের কোনো দেখা আছে কি?

খ) প্রশ্নবাচক থেকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর

প্রশ্ন : তেমন সব ভদ্রলোকই বা কী সুখে গ্রাম ছাড়িয়া পলায়ন করেন?
অস্তি : তেমন সব ভদ্রলোকই বা কী সুখে গ্রাম ছাড়িয়া পলায়ন করেন জানিতে চাই।

প্রশ্ন : কামস্কাটকার রাজধানীর নাম কি?
অস্তি : কামস্কাটকার রাজধানীর নাম কী তা জানতে চাই।

প্রশ্ন : একলা যেতে ভয় করবে না তো?
অস্তি : একলা যেতে ভয় করবে কি না জানতে চাই।

গ) প্রশ্নবাচক থেকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর

প্রশ্ন : পুলিশের লোক জানিবে কী করিয়া?
নেতি : পুলিশের লোক জানিবে না।

প্রশ্ন : তাহারা কি পাষাণ?
নেতি : তাহারা পাষাণ নয়।

প্রশ্ন : এতে দোষ কী?
নেতি : এতে দোষ নেই।

প্রশ্ন : তিনি স্বেচ্ছায় যখন সহমরণে যাইতে চাহিতেছেন, তখন সরকারের কী? তাঁর যে আর তিলার্ধ বাঁচিতে সাধ নাই, এ কি তাহারা বুঝিবে না? তাহাদের ঘরে কি স্ত্রী নাই? তাহারা কি পাষাণ?
নেতি : তিনি স্বেচ্ছায় যখন সহমরণে যাইতে চাহিতেছেন, তখন সরকারের তো কিছু না। তাঁর যে আর তিলার্ধ বাঁচিতে সাধ নাই, এ তাহারা বুঝিবে। তাহাদের ঘরেও তো স্ত্রী আছে। তাহারা তো পাষাণ নয়।
কলিমদ্দি দফাদার

ক) অস্তিবাচক থেকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর

অস্তি : কোথাও তক্তা অদৃশ্য হয়ে যায়।
নেতি : কোথাও তক্তা অদৃশ্য না হয়ে যায় না।

অস্তি : কাঠের পুলের অবস্থাও ওরকম।
নেতি : কাঠের পুলের অবস্থাও অন্যরকম নয়।

অস্তি : ধান চালের দাম বাড়লে উপোস করতে হয়।
নেতি : ধান চালের দাম বাড়লে উপোস না করে চলে না।

অস্তি : যখনকার সরকার তখনকার হুকুম পালন করি।
নেতি : যখনকার সরকার তখনকার হুকুম পালন না করলেই নয়।

অস্তি : আজ ঐ গ্রামটাকে শায়েস্তা করতে হবে।
নেতি : আজ ঐ গ্রামটাকে শায়েস্তা না করলেই নয়।

অস্তি : আত্মরক্ষা করতে হবে।
নেতি : আত্মরক্ষা না করলেই নয়।

অস্তি : সপ্তাহে একদিন তাকে থানায় হাজিরা দিতে হয়।
নেতি : সপ্তাহে একদিন তাকে থানায় হাজিরা না দিলে চলে না।

অস্তি : একটি বাঁশও উধাও হয়ে গেছে।
নেতি : একটি বাঁশও নেই।

খ) নেতিবাচক থেকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর

নেতি : এক পা দু পা করে না এগিয়ে পারে না।
অস্তি : এক পা দু পা করে এগিয়ে যেতেই হয়।

নেতি : তক্তাসুদ্ধই সে নিচে না পড়ে পারল না।
অস্তি : তক্তাসুদ্ধই সে নিচে পড়ে গেল।

নেতি : কলিমদ্দি সে সব জানে না।
অস্তি : কলিমদ্দির সে সব অজানা।

নেতি : সে গুলি চালানোয় অভ্যস্ত নয়।
অস্তি : সে গুলি চালানোয় অনভ্যস্ত।

নেতি : সে সাঁতার জানে না।
অস্তি : সে সাঁতার কাটতে অক্ষম।/সে সাঁতার সম্পর্কে অজ্ঞ।

নেতি : কলিমদ্দি কারো কাছে হাত পাতে না।
অস্তি : কলিমদ্দি কারো কাছে হাত পাতা থেকে বিরত থাকে।

নেতি : খান সেনারা তার রহস্য ভেদ করতে পারে না।
অস্তি : খান সেনাদের কাছে সেটা রহস্যই থেকে যায়।

নেতি : আশেপাশে কোন শব্দ নেই।
অস্তি : চারপাশ নিঃশব্দ/শব্দহীন।

একটি তুলসী গাছের কাহিনী

ক) অস্তিবাচক থেকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর
অস্তি : সে কথাই এরা ভাবে।
নেতি : সে কথাই এরা না ভেবে পারে না।

অস্তি : বাড়িটা তারা দখল করেছে।
নেতি : বাড়িটা তারা দখল না করে ছাড়ে না।

অস্তি : কথাটায় তার বিশ্বাস হয়।
নেতি : কথাটায় তার অবিশ্বাস হয় না।

অস্তি : তবে নালিশটা অযৌক্তিক।
নেতি : তবে নালিশটা যৌক্তিক নয়।

অস্তি : সে তারস্বরে আর্তনাদ করে।
নেতি : সে তারস্বরে আর্তনাদ না করে পারে না।

খ) নেতিবাচক বাক্য থেকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর
নেতি : তারা যাবে না কোথাও।
অস্তি : তারা এখানেই থাকবে।

নেতি : কারো মুখে কোন কথা সরে না।
অস্তি : প্রত্যেকেই নীরব হয়ে থাকে।

নেতি : সেখানে কেউ নেই।
অস্তি : জায়গাটা নির্জন।

নেতি : কথাটা না মেনে উপায় নেই।
অস্তি : কথাটা মানতেই হয়।

নেতি : তাদের ভুলটা ভাঙতে দেরি হয় না।
অস্তি : অচিরেই তাদের ভুল ভাঙে।

নেতি : সন্দেহ থাকে না যে তুলসী গাছটার যত্ন নিচ্ছে কেউ।
অস্তি : এটা নিশ্চিত যে তুলসী গাছটার যত্ন নিচ্ছে কেউ।

নেতি : সে একটু বিস্মিত না হয়ে পারে না।
অস্তি : তাকে একটু বিস্মিত হতেই হয়।

নেতি : গাছটি উপড়ানোর জন্যে কারো হাত এগিয়ে আসে না।
অস্তি : গাছটি উপড়াতে সবার হাত নিষ্ক্রিয় থাকে।/সবাই গাছটি উপড়াতে নিষ্ক্রিয় থাকে।

নেতি : হয়তো তার যাত্রা শেষ হয় নাই।
অস্তি : হয়তো তার যাত্রা এখনো চলছে।

নেতি : হিন্দু রীতিনীতি এদের তেমন ভাল জানা নেই।
অস্তি : হিন্দু রীতিনীতি এদের কাছে অনেকটাই অজানা।
একুশের গল্প

নেতিবাচক বাক্যকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর

নেতি : ওকে চেনাই যায় না।
অস্তি : ওকে চিনতে আমরা অক্ষম।

নেতি : এ অবস্থায় কেউ কাউকে চিনতে পারে না।
অস্তি : এ অবস্থায় সবাই সবাইকে চিনতে অক্ষম।

নেতি : এ কথা ভুলেও ভাবি নি কোনদিন।
অস্তি : এ কথা সবসময়ই আমার ভাবনার অতীত ছিল।

নেতি : ওদের কাউকে পাওয়া যায় নি।
অস্তি : ওর সবাই নিখোঁজ।

নেতি : আমরা বাধা দিতে পারলাম না।
অস্তি : আমরা বাধা দিতে অক্ষম ছিলাম।

নেতি : আমরা নড়লাম না।
অস্তি : আমরা অনড় থাকলাম।


এই পোস্ট সহায়ক ছিল?

1 out of 1 Marked as Helpfull !