বাক্যে পদ সংস্থাপনার ক্রম Last updated: 5 months ago

১. বাক্যের অন্তর্ভুক্ত পদগুলো উপযুক্ত স্থানে বসানোকে কী বলে? = পদ সংস্থাপনার ক্রম।

২. পদ সংস্থাপনার ক্রমের অপর নাম কী? = পদক্রম।

৩. ইংরেজিতে পদ সংস্থাপনার ক্রমের গঠন কী রূপ? = Sub + Verb + Object = I Eat Rice । (কর্তা + ক্রিয়া + কর্ম )

৪. বাংলায় পদ সংস্থাপনার ক্রমের গঠন কী রূপ? = Sub + Object + Verb = আমি ভাত খাই। (কর্তা + কর্ম + ক্রিয়া)

৫. উদ্দেশ্যের সম্প্রসারক কোথায় বসে? = বাক্যের প্রথমে।

৬. বিধেয়ের সম্প্রসারক কোথায় বসে? = বাক্যের শেষে।

৭. উদ্দেশ্য মানে কী? = বাক্যের কর্তা।

৮. বিধেয় মানে কী? = বাক্যের ক্রিয়া।

৯. কোন কোন পদ উদ্দেশ্য হতে পারে? = বিশেষ্য ও সর্বনাম পদ।

১০. সম্বন্ধ পদ কোথায় বসে? = বিশেষ্যের পূর্বে। যেমন: ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছে।

১১. কারক, বিভক্তি যুক্ত পদ কোথায় বসে = বিশেষণের আগে। যেমন: লোকটি ব্যবহারে খুবই ভদ্র।

১২. অসমাপিকা ক্রিয়া কোথায় বসে? = বিশেষণের আগে। যেমন: রাজশাহীর আম খেতে চমৎকার।

১৩. বিধেয় বিশেষণ কোথায় বসে? = বিশেষ্যের পরে। যেমন: লোকটি যে জ্ঞানী তাতে সন্দেহ নেই।

১৪. বহুপদময় বিশেষণ কোথায় বসে? = বিশেষ্যের আগে। যেমন: তোমার দাঁত বের করা হাসি দেখলে সবারই পিত্ত জ্বলে যায়।

১৫. না / নে কোথায় বসে?

  • ক. অসমাপিকা ক্রিয়ার পূর্বে। যেমন: না চাইতে দানের কোনো মর্যাদা নেই।
  • খ. সমাপিকা ক্রিয়ার পরে। যেমন: আমি যাব না।
  • গ. যদি দিয়ে বাক্য আরম্ভ হলে সমাপিকা ক্রিয়ার পূর্বে বসে। যেমন: যদি সে না আসে তাহলে তার ক্ষতি হবে।
  • ঘ. বিশেষণীয় বিশেষণ রূপে বিশেষণের পূর্বে বসে। যেমন: না ভালো, না মন্দ।

১৬. “একটা গান গাও না ভাই” – এখানে ‘না’ শব্দটির ব্যবহার কিরূপ? = নিরর্থক।

বাক্যের শ্রেণিবিভাগ

১. বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে ভাগ করা যায় ২ শ্রেণিতে।

ক. সক্রিয় বাক্য: যেসকল বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া সুস্পষ্ট থাকে সেগুলোকে সক্রিয় বাক্য বলে। যেমন: আমার মা।

চাকরি করেন।

খ. অক্রিয় বাক্য: যেসকল বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া সুস্পষ্ট থাকে না অর্থাৎ উহ্য থাকে সেগুলোকে অক্রিয় বাক্য বলে।

যেমন: আমি বাংলাদেশের নাগরিক। এখানে ‘হই’ ক্রিয়া উহ্য আছে।

২. বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে ভাগ করা যায় ৪ শ্রেণিতে।

ক. বিবৃতিবাচক বাক্য:যেসকল বাক্যে সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় সেগুলোকে বিবৃতিবাচক বাক্য বলে।

বিবৃতিমূলক বাক্য আবার ২ প্রকার (হা বাচক, না বাচক)। যেমন: আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম (হ্যাঁ বাচক)। তারা।

তোমাদের ভোলেননি (না বাচক)।

খ.প্রশ্নসূচক বাক্য: যে বাক্যে কোনো ঘটনা বা ভাব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয় তাকে প্রশ্নসূচক বাক্য বলে। যেমন: তুমি কি স্কুলে।

যাবে?

গ. অনুজ্ঞাসূচক বাক্য: যে বাক্যের দ্বারা আদেশ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি বোঝায় তাকে অনুজ্ঞাসূচক বাক্য বলে। যেমন:

আমাকে একটি কলম দাও। তার মঙ্গল হোক।

ঘ. আবেগসূচক বাক্য: কোনো কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগসূচক বাক্য বলে। যেমন: দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি। অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!

৩.অর্থানুসারে বাক্যকে বাক্যকে কয় শ্রেণিতে ভাগ করা যায়? = ৫ শ্রেণিতে।

ক. নির্দেশাত্মক: যে বাক্যে কোনো ঘটনা বা ভাবের বিরতি থাকে তাকে নির্দেশাত্মক বাক্য বলে। যেমন: আমি তাকে সৎ বলে মনে করি।

খ. প্রশ্নসূচক: যে বাক্যে কোনো ঘটনা বা ভাব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয় তাকে প্রশ্নসূচক বাক্য বলে। যেমন: তুমি কি স্কুলে যাবে?

গ. আদেশবাচক: যে বাক্যের দ্বারা আদেশ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি বোঝায় তাকে অনুজ্ঞাসূচক বাক্য বলে। যেমন: এখন পড়তে বস।

ঘ. বিস্ময়সূচক: যে বাক্যের দ্বারা মনের আনন্দ, দুঃখ, বেদনা ইত্যাদি প্রকাশ পায় তাকে বিস্ময়সূচক বাক্য বলে। যেমন: কী সুন্দর ফুল।

ঙ. ইচ্ছাসুচক: যে বাক্যের দ্বারা মনের কোনো ইচ্ছা প্রকাশিত হয় তাকে ইচ্ছাসচক বাক্য বলে। যেমন: বুশরাকে একদিন স্মৃতিসৌধ দেখাব।

৪. বাগ ভঙ্গি বোঝানো হয় নানা ভঙ্গিতে উচ্চারণকে। বাগ ভঙ্গির ভিত্তি স্বরভক্তি।

৫. বাগভঙ্গির লিখিত আকার প্রকাশে সাহায্য করে কে? = ছেদ ও বিরতি সূচক চিহ্নগুলো।যেমন:

যা প্রকাশ করে

উদাহরণ

যা প্রকাশ করে

উদাহরণ

সাধারণ বিবৃতি

সে আজ যাবে।

আদর

বড্ড শুকিয়ে গেছিস রে।

বিস্ময়

সে আজ যাবে!

আনন্দ

বেশ বেশ, খুব ভালো হয়েছে!


এই পোস্ট সহায়ক ছিল?

0 out of 0 Marked as Helpfull !