সমাপিকা,অসমাপিকা ও যৌগিক ক্রিয়ার প্রয়োগ Last updated: 5 months ago

সমাপিকা ক্রিয়া

যে ক্রিয়াপদ দ্বারা বাক্যের (মনোভাবের)পরিসমাপ্তি হয় ,তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন:ছেলেরা খেলা করছে । এ বছর বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে ।

অসমাপিকা ক্রিয়া 

যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের পরিসমাপ্তি ঘটে না ,বক্তার কথা অসম্পূর্ন থেকে যায় ,তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন:

১) প্রভাতে সূর্য উঠলে ………………..

২) আমরা হাত-মুখ ধয়ে ………………

৩) আমরা বিকেলে খেলতে ……………..

এখানে “ উঠলে “ ধুয়ে “ এবং “ খেলেতে “ ক্রিয়াপদগুলো দ্বারা কথা শেষ হয়নি ; কথা সম্পূর্ন হতে আরও শব্দের প্রয়োজন। তাই এ শব্দগুলো অসমাপিকা ক্রিয়া ।

উপযুক্ত বাক্যগুলো পূর্ণ মনোভাব গ্রাপন করলে দাঁড়াবে :

১) প্রভাতে সূর্য উঠলে অন্ধকার দূর হয় ।

২) আমরা হাত মুখ ধুয়ে পড়তে বসলাম ।

৩) আমরা বিকেলে খেলতে যাই ।

সমাপিকা ক্রিয়ার গঠন 

সমাপিকা ক্রিয়া সকর্মক , অকর্মক ও দ্বিকর্মক হতে পারে । ধাতুর সঙ্গে বর্তমান, অতীত বা ভবিষ্যৎ কালের বিভক্তি যুক্ত হয়ে সমাপিকা ক্রিয়া গঠিত হয় । যথা : – আনোয়ার বই পড়ে । ( ক্রিয়া-সকর্মক, কাল- বর্তমান ) । মাসুদ সারাদিন খেলেছিল। ( ক্রিয়া- অকর্মক , কাল -অতীত ) । আশি তোমাকে একটি কলম উপহার দেব । ( ক্রিয়া-দ্বিকর্মক , কাল – ভবিষ্যৎ ) ।

অসমাপিকা ক্রিয়ার গঠন 

ধাতুর সঙ্গে কাল নিরপেক্ষ -ইয়া (য়ে) ,হতে (তে) অথবা হলে (লে) বিভক্তি যুক্ত হয়ে অসমাপিকা ক্রিয়া গঠিত হয় । যেমন: “ দরিদ্রে পাইলে ধন হয় র্গবস্ফীত “। যত্ন করলে রত্ন মেলে ।তাকে খুঁজে নিয়ে আসতে চেষ্টা করবে ।

অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা 

অসমাপিকা ক্রিয়া ঘটিত বাক্যে  একাধিক প্রকার কর্তা ( কর্তৃকারক ) দেখা যায় –

১) এক কর্তা : বাক্যস্থিত সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা এক বা অভিন্ন হতে পারে । যথা – তুমি চাকরি পেলে আর কি দেশে আসবে ? ”পেলে “ (অসমাপিকা ক্রিয়া) এবং “ আসবে “ (সমাপিকা ক্রিয়া) উভয় ক্রিয়ার কর্তা এখানে “ তুমি “ ।

২) অসমান কর্তা : বাক্যস্থিত সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা এক না হলে সেখানে কর্তাগুলোকে অসমান কর্তা বলা হয়। যেমন: – 

ক) শর্তাধীন কর্তা : এ জাতীয় কর্তাদের ব্যবহার শর্তাধীন হতে পারে । উদাহরণ: – তোমরা বাড়ি এলে আমি রওনা হব । এখানে “ এলে “ অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা “ তোমরা “ এবং “ রওনা হব “ সমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা “ আমি “ । তোমাদের বাড়ি আসার ওপর রওনা হওয়া নির্ভরশীল বলে এ জাতীয় বাক্যে কর্তৃপক্ষের ব্যবহার শর্তাধীন ।

খ) নিরপেক্ষ কর্তা : শর্তাধীন না হয়েও সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার ভিন্ন ভিন্ন কর্তৃপদ থাকতে পারে । সেক্ষেত্রে প্রথম কর্তৃপদটিকে বলা হয় নিরপেক্ষ কর্তা । যেমন: – সূর্য অস্তমিত হলে যাত্রীদল পথ চলা শুরু করল । এখানে “ যাত্রীদের “ পথ চলার সঙ্গে “ সূর্য “ অস্তমিত হওয়ার কোন শর্ত বা সম্পর্ক নেই বলে “ সূর্য “ নিরপেক্ষ কর্তা ।

অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার 

১) “ ইলে “ >’লে’ বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার:

ক) কার্যপরস্পরা বোঝাতে : চারটা বাজলে স্কুলের ছুটি হবে ।

খ) প্রশ্ন বা বিস্ময় গ্রাপনে : একবার মরলে কি কেউ ফেরে ?

গ) সম্ভাব্যতা অর্থে : এখন বৃষ্টি হলে ফসলের ক্ষতি হবে ।

ঘ) সাপেক্ষতা বোঝাতে : তিনি গেলে কাজ হবে ।

ঙ) দার্শনিক সত্য প্রকাশে : “ জম্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা হবে ?

চ) বিধিনির্দেশে : এখানে প্রচারপত্র লাগালে ফেীজদারিতে সোপর্দ হবে ।

ছ) সম্ভাবনার বিকল্পে : আজ গেলেও যা, কাল গেলেও তা ।

জ) পরিণতি বোঝাতে : বৃষ্টিতে ভিজলে সর্দি হবে ।

যৌগিক ক্রিয়ার প্রয়োগ

অসমাপিকা ক্রিয়ার পরে যৌগিক ক্রিয়ার ধাতু থেকে সমাপিকা ক্রিয়া গঠিত হয়ে উভয়ে মিলিত হয়ে যৌগিক ক্রিয়া তৈরি করে।

কিছু উদাহরণ

  • সূর্য অস্তমিত হলে যাত্রীদল পথ চলা শুরু করল (নিরপেক্ষ কর্তা)।
  • চারটা বাজলে স্কুলের ছুটি হবে। (কার্যপরম্পরা)
  • এখন বৃষ্টি হলে ফসলের ক্ষতি হবে। (সম্ভাব্যতা অর্থে)
  • তিনি গেলে কাজ হবে। (সাপেক্ষতা বুঝাতে)
  • জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে? (দার্শনিক সত্য প্রকাশে)।
  • অজি গেলেও যা, কাল গেলেও তা। (সম্ভাবনার বিকল্পে)
  • এখানে প্রচারপত্র লাগালে ফৌজদারিতে সোপর্দ হবে।(বিধি নির্দেশে) ।
  • বৃষ্টিতে ভিজলে সর্দি হবে। (পরিণতি বুঝাতে)
  • হাতমুখ ধুয়ে পড়তে বস। (অনন্তরতা / পর্যায় বুঝাতে)
  • ছেলেটি কুসঙ্গে মিশে নষ্ট হয়ে গেল। (হেতু অর্থে)।
  • চেঁচিয়ে কথা বলো না। (ক্রিয়া বিশেষণ)
  • হৃদয়ের কথা কহিয়া কহিয়া গাহিয়া গান (ক্রিয়ার  অবিচ্ছন্নতা অর্থে)।
  • ঢাকা গিয়ে বাড়ি যাব। (অব্যয় পদের অনুরূপ অর্থে)
  • এখন আমি যেতে চাই। (ইচ্ছা প্রকাশে)
  • মেলা দেখতে ঢাকা যাব। (নিমিত্ত / উদ্দেশ্য অর্থে)।
  • খোকা এখন হাঁটতে পারে। (সামর্থ বুঝাতে)।
  • বাল্যকালে বিদ্যাভ্যাস করতে হয়। (বিধি বুঝাতে)
  • এখন ট্রেন ধরতে হবে। (আবশ্যকতা বুঝাতে)।
  • কোন দেশেতে তরুলতা সকল দেশের চাইতে শ্যামল। (অনুসর্গ)
  • দেখিতে বাসনা মাগো তোমার চরণ। (বিশেষ্যের অন্বয়)।
  • পদ্মফুল দেখতে সুন্দর। (বিশেষণের সঙ্গে অন্বয়)।
  • কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা। (নিরন্তরতা অর্থে)
  • বৃষ্টি থেমে গেল। (সমাপ্তি অর্থে)
  • চা জুড়িয়ে যাচ্ছে। (ক্রমশ অর্থে)
  • কষ্টি পাথরে সোনাটা কষে নাও। (পরীক্ষা অর্থে )
  • এখন যাওয়া যেতে পারে। (সম্ভাবনা অর্থে)।
  • সে হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠল। (আকসিকতা অর্থে)
  • এখন শুয়ে পড়ো। (সমাপ্তি অর্থে)।
  • সন্দেশগুলো খেয়ে ফেল। (সম্পূর্ণতা অর্থে)।
  • কথাটা ছড়িয়ে পড়েছে। (ব্যাপ্তি অর্থে)।
  • এখনই তুফান এসে পড়বে। (আকস্মিকতা অর্থে)
  • কাজটা শেষ করে দিলাম। (পূর্ণতা অর্থে)।
  • কেমন যেন মনমরা হয়ে পড়েছি। (ক্রমশ অর্থে)
  • আর দরকার নেই, এবার বসে থাকি। (নির্দেশ অর্থে)
  • এদিকে চেয়ে দেখ। (মনোযোগ আকর্ষণে)
  • এসব কথা আমার সহ্য হয়ে ওঠে না। (সামর্থ অর্থে)
  • লবণটা চেখে দেখ। (পরীক্ষা অর্থে)।
  • এবার কাপড় চোপড় গুছিয়ে নাও। (নির্দেশ অর্থে)
  • আজ বিকেলে বৃষ্টি আসতে পারে। (সম্ভাবনা অর্থে)।
  • আমার আর থাকা হয়ে উঠল না। (সম্ভাবনা অর্থে)
  • আমরা এ কাজই করে আসছি। (অভ্যস্ততায়)
  • ঋণের বোঝা ভারি হয়ে উঠেছে। (ক্রমন্বয়তা)
  • ছুটি ফুরিয়ে আসছে। (আসন্ন সমাপ্তি অর্থে)
  • শুধু শুধু তিনি রেগে ওঠেন। (অভ্যাস অর্থে)
  • আমাকে যেতে দাও। (অনুমতি অর্থে)।
  • এবার ভাবতে থাক। (নিরন্তরতা অর্থে)।
  • আমাকে অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও। (সাহায্য প্রার্থনায়)
  • সে-ই কাজটা করে থাকবে। (সন্দেহ প্রকাশে)
  • এখন কাজে লাগ তো দেখি। (সূচনা নির্দেশে)
  • খোকা কাঁদতে লাগল। (অবিরাম অর্থে)।


এই পোস্ট সহায়ক ছিল?

0 out of 0 Marked as Helpfull !