বাংলা ভাষা ও বাংলা ভাষারীতি Last updated: 4 months ago

  • মানুষ মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে – ২ ভাবে(কণ্ঠধ্বনির সাহায্য ও ইঙ্গিতের মাধ্যমে)
  • মানুষ মনের ভাব বেশি প্রকাশ করে – কণ্ঠধ্বনির সাহায্য
  • ভাষার সৃষ্টি হয় ধ্বনির সাহায্য আর ধ্বনির সৃষ্টি হয় ভাষা সৃষ্টির মূল উৎস বাগযন্ত্রের সাহায্য

[বাগযন্ত্র: মানুষ কথা বলার সময় শরীরের যে সমস্ত অঙ্গ ব্যবহার করে, সেগুলোকেই একত্রে বাগযন্ত্র বলে। মানুষের বাগযন্ত্রের মধ্যে আছে- গলনালী, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিহ্বা, তালু, দন্ত বা দাঁত, নাসিকা বা নাক, ওষ্ঠাধর বা ঠোঁট, ইত্যাদি।]

[ধ্বনি: যে কোনো ধরনের আওয়াজকেই ধ্বনি বলা হয়। ]

  • মানুষের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে -ভাষা বলে
  • মানুষের কন্থনিঃসৃত বাক সংকেতের সংঘঠনকে বলে – ভাষা
  • ভাষার পরিবর্তন ঘটে-দেশ,কাল,পরিবেশ ভেদে
  • বর্তমানে পৃথিবীতে ভাষা প্রচলিত আছে-৭১৩৯ টি
  • জনসংখ্যার দিক দিয়ে / মাতৃভাষার দিক দিয়ে বাংলা ভাষা পৃথিবীর- ৬ষ্ঠ ভাষা

[পৃথিবীতে প্রায় ৩০কোটি লোকের মুখের ভাষা বাংলা। কিন্তু ইথনোলগ এর রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে এই সংখ্যা প্রায় ২৭ কোটি]

বাংলা ভাষারীতি

সাধু ভাষাঃ

  • সংস্কৃত ভাষা থেকে উৎপন্ন ভাষাকেই সাধু ভাষা বলে
  • “বেদান্ত” গ্রন্থে প্রথম “সাধু ভাষা” পরিভাষাটি ব্যবহার করেন –রাজা রামমোহন রায়
  • তবে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এভাষাকে প্রথম প্রাঞ্জল করে তোলেন।এজন্য ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বলা হয় সাধু ভাষার জনক
  • উনিশ শতকে বাংলা গদ্য এর প্রসারকালে সাধু ভাষার দুটি রূপ দেখা যায়।

–বিদ্যাসাগরী[খ্যাত ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং সেই সঙ্গে অক্ষয়কুমার দত্ত]

–বঙ্কিমী

চলিত ভাষাঃ

  • চলিত ভাষার সৃষ্টি –১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের দিকে
  • বাংলাদেশের উত্তরাংশসহ কলকাতা ও ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী আঞ্চলের শিক্ষিত জনগণের মুখের ভাষার আদলে যে শক্তিশালী সাহিত্যিক গদ্য প্রবর্তিত হয়, তাই চলিত ভাষা বা চলিত গদ্য বলে খ্যাত।
  • চলিত রীতির প্রবর্তক – প্রমথ চৌধুরী

সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্যঃ

১) সাধুভাষায় তৎসম অর্থাৎ সংস্কৃত শব্দ বেশি ব্যবহার করা হয়চলিত ভাষায় তদ্ভব শব্দের সংখ্যাই বেশি। তাছাড়া চলিত ভাষায় বিদেশী শব্দের প্রয়োগ আনেক বেশি।

২) সাধুভাষায় সর্বনামের পুর্নরূপ ব্যবহার করা হয়। যেমন- তাহার, যাহার ইত্যাদি। কিন্তু চলিত ভাষায় সর্বনামের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করা হয়।যেমন- তার, যার ইত্যাদি।

৩) সাধুভাষায় ক্রিয়াপদের পুর্ণরূপ ব্যবহার করা হয় কিন্তু চলিতে সংক্ষিপ্ত রূপ দেখা যায়। যেমন- খাইতেছেন (সাধু), খাচ্ছেন(চলিত)।

৪) সাধুভাষায় বাক্যের পদবিন্যাস কর্তা-কর্ম-ক্রিয়া। কিন্তু চলিত ভাষায় এই নিয়ম সবসময় মানা হয়না। যেমন- বইটা দাও তো আমাকে তুমি(চলিত)।

৫) সাধুভাষায় সমাসবদ্ধ পদের সংখ্যা বেশি কিন্তু চলিত ভাষায় অনেক কম

সাধু ও চলিত রীতির  কিছু রূপঃ

বিশেষ্য পদের সাধু চলিত রূপঃ

সাধু রুপ/চলিত রুপ  

প্রভাত = ভোর

দ্বিপ্রহর = দুপুর

স্বর্ণ = সোনা

বৃক্ষ = গাছ

ছত্র = ছাতা

হস্ত = হাত

পত্র = পাতা

দধি = দই

মস্তক = মাথা

তুলা = তুলো

জুতা = জুতো

অগ্নি = আগুন

দন্ত = দাঁত

মৎস্য = মাছ

মুলা = মুলো

ক্ষুধা = খিদে

তারকা = তারা

লম্ফ = লাফ

জ্যোৎস্না -- জোছনা        

রাত্রি -- রাত

নৌকা --নৌকো

কাস্তে -- কাঁচি

মৃত্তিকা -- মাটি

চন্দ্র -- চাঁদ

ক্ষেত -- খেত

মাতা -- মা

কুলা -- কুলো

কর্ণ -- কান

ব্যাঘ্র -- বাঘ

হস্তী -- হাতি

ইচ্ছা -- ইচ্ছে

পক্ষী -- পাখি

বৈকাল -- বিকেল

কর্ম -- কাজ

বৎসর -- বছর

মনুষ্য – মানুষ

বিশেষণ পদের সাধু চলিত রূপঃ 

সাধু রুপ/চলিত রুপ   

শুষ্ক/শুকনা --- শুকনো

বন্য ---বুনো 

অধিক --- বেশি

অবিলম্বে ---শিগগির

সম্পন্ন --- শেষ

মাতৃহীন --- মা-হারা

বৃদ্ধ ---বুড়ো

মাঠুয়া --- মেঠো

নূতন ----নতুন

সাতাইশ ----সাতাশ

অপেক্ষা ----চেয়ে

সম্প্রতি --- আজকাল       

বাম - বাঁ

অদ্য -- আজ

অপরিচিত -- অচেনা

অবিচ্ছিন্ন -- একটানা

এরূপ -- এমন

হলুদ ---হলদে

অতি --- খুব

শুভ্র --- সাদা

নিকটে – কাছে

ক্রিয়াপদের সাধু চলিত রূপঃ

করিয়া – করে

ভাঙিয়া যাইতে লাগিল - ভেঙে যেতে লাগল

করিয়াছে - করেছে

দেন নাই – দেননি

খাইতেছে – খাচ্ছিল

করিবার - করার/করবার

পাইয়াছিলেন – পেয়েছিলেন

হইলেন - হলেন

ঘুমাইতেছে - ঘুমাচ্ছে

গিয়াছিল - গিয়েছিল

পার হইয়া - পেরিয়া

 পড়িল – পড়ল

আসিয়া - এসে

চাহিয়া – চেয়ে

হইল - হল/ হলো

ডাকিতেছে - ডাকছে

বলিয়াছিলেন – বলেছিলেন

দেখিয়া – দেখে

করিলেন - করলেন

শুনিয়াছিল - শুনেছিল      

গিয়াছিল - গিয়েছিল

চলিল - চলল

জ্বালাইয়া ----  জেলে

পড়িব - পড়ব

শুনিল - শুনব

লাগিয়া - লেগে

লইয়াছে - নিয়েছে

সহিব - সইব

হইতেছে - হচ্ছে

যাইয়া - গিয়ে

উঠিয়া - উঠে

আসিতেছে - আসছে

চিনা - চেনা

খাইয়া - খেয়ে

হইলে - হলে

পড়িল - পড়ল

ক্ষিপ্ত হইয়া উঠিল - ক্ষেপে উঠল

অগ্রসর হইলাম - এগিয়ে গেলাম

বলিয়া – বলে

সর্বনাম পদের সাধু চতি রূপঃ

তাঁহারা / উঁহারা  = তাঁরা / ওঁরা

তাহাকে / উহাকে  = তাকে / ওকে

তাহার / তাঁহার = তার / তাঁর

এই =  এ

ইহাকে = একে

উহা  = ও

কাহাকে = কাকে

তাহা = তা

যাহা = যা

ইহা = এ

ইহাদের = এদের

উহাদিগকে = ওদের

কেহ = কেউ

যাহাদের = যাদের

অব্যয় পদের সাধু চলিত রূপঃ

সাধু রুপ/চলিত রুপ

সহিত  = সঙ্গে / সাথে

কাদাচ = কখনো

নতুবা = নইলে

তদুপরি = তার উপর

অথচ কিন্তু, = তবুও

নচেৎ = নইলে

তথাপি = তবুও

উপভাষা :- একই ভাষা সম্প্রদায়ের অন্তর্গত অঞ্চলভেদে দৈনন্দিন ব্যবহারের কাজে ও কথা বার্তায় ধ্বনিগত, রূপগত ও বাঘধারাগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে যে ভাষা প্রচলিত তাকে উপভাষা বলে।

বাংলা কথ‍্য উপভাষা পাঁচটি। সেগুলি হল –
১। রাঢ়ী উপভাষা :- পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, নদীয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরবনা, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ জেলার অধিবাসীরা।
২। বঙ্গালী উপভাষা :- ঢাকা, ফরিদপুর, মৈমনসিংহ, বরিশাল, খুলনা ও যশোর অঞ্চলে প্রচলিত।
৩। বরেন্দ্রী উপভাষা :– উত্তর বঙ্গে প্রচলিত যেমন পশ্চিমবঙ্গের মালদহ , রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া ইত‍্যাদি অঞ্চলে প্রচলিত।
৪। কামরূপী উপভাষা :- উত্তর-পূর্ব বঙ্গের উপভাষা। অসমের নিকটবর্তী অঞ্চল যেমন—জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, দক্ষিণ দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, রংপুর, শ্রীহট্ট ইত‍্যাদি ।
৫। ঝাড়খন্ডী উপভাষা :-  মোটামুটি ভাবে সাঁওতাল সর্বনাশ, যেমন—পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিম বীরভূম, দক্ষিণ পশ্চিম বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, দক্ষিণ- পশ্চিম মেদিনীপুর, ধলভূম, মানভূম, সিংভূম ইত‍্যাদি।

বিগত বছরের প্রশ্ন উত্তর

১. কোন লেখকের চলিত ভাষা কে মান ভাষারূপে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আন্দোলন করেছিলেন? – প্রমথ চৌধুরী

২. সাধু ভাষায় কোন কোন পদ বিশেষ রীতি মেনে চলে- সর্বনাম ও ক্রিয়া

৩. চলিত ভাষার প্রবর্তক কে - প্রমথ চৌধুরী

৪. ভাষা হচ্ছে- ভাব প্রকাশের মাধ্যম

৫. বর্তমানে পৃথিবীতে ভাষার সংখ্যা কতটি- সাড়ে তিন হাজার

৬. কাটাইনু বহু দিন সুখ ‘পরিহরি’ এখানে পরিহরি শব্দটির চলিত রূপ -পরিহার করে।

৭. সাধু ভাষা ও চলিত ভাষার পার্থক্য- ক্রিয়া পদ সর্বনাম পদের রুপে।

৮. তৎসম শব্দের ব্যবহার কোন রীতিতে বেশি হয় -সাধুরীতিতে।

৯. সাধু ভাষা সাধারণত কোথায় অনুপোযোগী - নাটক সংলাপে।

১০. বাংলা ভাষার প্রধান দুটি রূপ কি কি- মৌখিক ও লৈখিক।

১১. বাংলা ভাষার মৌলিক রূপ কয়টি - ২টি।

১২. চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য কোনটি - কৃত্রিমতা বর্জিত

১৩. কোন ভাষায় সাহিত্যের গাম্ভীর্য, আভিজাত্য প্রকাশ পায়- সাধু ভাষায়।

১৪. সাধু ভাষা থেকে চলিত ভাষায় লিখতে কোন পদযুগলের পরিবর্তন ঘটে -সর্বনাম ও ক্রিয়া।

১৫. ‘বন্য’ শব্দটির চলিত রূপ কোনটি- বুনো।

১৬. লোকজ শব্দ ‘দইয়ল’ এর প্রমিত রূপ হল-দোয়েল।

১৭. মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম কোনটি – ভাষা।

১৮. ভাষার মৌলিক অংশ কয়টি- ৪ টি।

১৯. সাধু ভাষার সঙ্গে ‘ঙ্গ’ এর স্থলে চলিত ভাষা কোন  কোমল রূপ ব্যবহৃত হয়- ঙ।

২০. ভাষার কোন রীতি কেবল লেখ্য রূপে ব্যবহৃত হয়- সাধু রীতি।

২১. ভাষার মৌলিক রীতি কোনটি- কথা বলার রীতি।

২২. সাধু ও চলিত রীতি বাংলা ভাষার কোন রূপে বিদ্যমান- লেখ্য।

২৩. সাধুভাষা পরিভাষাটি প্রথম ব্যবহার করেন- রাজা রামমোহন রায়।

২৪. চলিত ভাষারীতির ক্ষেত্রে কোন বৈশিষ্ট্য প্রযোজ্য- পরিবর্তনশীল।

২৫. কোনটি চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য- প্রমিত উচ্চারণ।

২৬. সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য কোনটি - গুরুগম্ভীর।

২৭. নাটকের সংলাপে উপযোগী ভাষার কোন রীতি- চলিত।

২৮. ক্রিয়া পদ সর্বনাম ও অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয় - সাধু ভাষারীতিতে।

২৯. সাধু ও চলিত রীতিতে অভিন্ন রূপে ব্যবহৃত হয় – সম্বোধনপথ।

৩০. চলিত ভাষায় নিম্নের কোন রূপটি সংক্ষিপ্ত হয় – অনুসর্গ।

৩১. সাধুরীতিতে কোন পদটি দীর্ঘ হয় না – অব্যয়।

৩২. নিচের কোনটি চলিত রীতির শব্দ – শুকনো।

৩৩. বিভিন্ন অঞ্চলের মুখের ভাষাকে কি বলে – উপভাষা।

৩৪. কোন ভাষারীতির পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট – সাধু রীতি।

৩৫. ‘ছড়ালে’ এর সাধু রূপ- ব্যাপ্ত হইলে।

৩৬. কোনটি সাধু রীতির শব্দ-  জোৎস্না।

৩৭. ‘উহা’ কোন রীতির শব্দ- সাধু।

৩৮. ‘চকিত হইয়া’ শব্দটির চলিত রূপ কি- চমকে।

৩৯. ‘পার হইয়া’ এই ক্রিয়াপদ এর সাধুরূপ টি চলিত রূপে রূপান্তর করলে কি হবে- পেরিয়ে।

৪০. ‘জুতো’ কোন রীতির শব্দ- চলিত।

৪১. কোন বাক্যটি প্রমিত চলিত রীতিতে লেখা হয়েছে- খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়লাম।

৪২. চলিত রীতির শব্দ কোনটি – তুলো।

৪৩. অদ্য শব্দটি কোন ভাষারীতির উদাহরণ- সাধু।

৪৩. কোন ভাষারীতিতে এই প্রশ্ন লেখা হয়েছে – চলিতরীতি।

৪৪. ‘তোমাকে দেখে খুবই খুশি হলাম’ বাক্যটি কোন ভাষারীতির- চলিতরীতি।

৪৫. ধ্বনি উচ্চারণে মানব শরীরের যেসব প্রত্যক্ষ জড়িত সেগুলো কে একত্রে কি বলে – বাগযন্ত্র।

৪৬. ‘মোগো’ শব্দটির আঞ্চলিক রূপের সৃষ্ট পদ্যরূপ- মোদের।

৪৭. ‘ভাঙ্গাইত’ ক্রিয়াপদের চলিত রূপ কি- ভাঙ্গত।

৪৮. কোনটি ভাষার বৈশিষ্ট্য নয়- ইশারা বা অঙ্গভঙ্গি ।

৪৯. বিশুদ্ধ চলিত ভাষা কোনটি -  ‘সামনে একটা বাঁশ বাগান পড়ল’।

৫০. দেশকাল পরিবেশভেদে কিসের পার্থক্য ঘটে- ভাষার।

৫১. ‘দেখিয়া’ শব্দের চলিত রূপ কোনটি – দেখে।

৫২. প্রত্যেক ভাষার তিনটি মৌলিক অংশ হলো- ধবনি, শব্দ, বাক্য।

৫৩. নির্দিষ্ট পরিবেশে মানুষের বস্তু ও ভাবের প্রতীক কোনটি – ভাষা।

৫৪. ব্যাকরণ ও ভাষার মধ্যে কোনটি আগে সৃষ্টি হয়েছে –ভাষা।

৫৫. কোন দেশের দ্বিতীয় ভাষা বাংলা- সেরা লিওন।


এই পোস্ট সহায়ক ছিল?

8 out of 8 Marked as Helpfull !