বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ এবং বাংলা লিপি Last updated: 4 months ago

  • আর্যদের ভাষার নাম- প্রাচীন বৈদিক ভাষা
  • বাংলা ভাষার বোন বলা হয় -অসামিয়া ভাষাকে
  • সর্বপ্রথম ‘বঙ্গ’ নামের উল্লেখ পাওয়া যায়- ‘ঐতরেয় আরণ্যক’ নামের গ্রন্থে।
  • বাংলা’ শব্দটি প্রথম পাওয়া যায়- আইন-ই-আকবরি গ্রন্থে।
  • সংস্কৃত শব্দটি প্রথম পাওয়া যায়- মহাকাব্য রামায়ণে
  • ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহের মতে বাংলা ভাষা হচ্ছে – সংস্কৃত ভাষার দুহিতা
  • ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহের মতে বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে- ৭ম শতাব্দীতে(প্রচীন যুগে)-গৌড়ীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে। সে হিসেবে বাংলা ভাষার বয়স ১৪০০ বছর।
  • ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে – ১০ম শতাব্দীতে(প্রচীন যুগে)- মাগধী অপভ্রংশ থেকে।

আসলে এটা সরাসরি ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেনি।বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে মাগধী অপভ্রংশ থেকে একথা প্রথম বলেন – জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন। আর ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় পরবর্তিতে তার ‘Origin and Development of Bengali Language(ODBL)’ -এ এই মত সমর্থন করেন।

  • বাংলার আদি আধিবাসিদের ভাষা ছিল – অস্ট্রিক [ তবে অপশনে অস্ট্রিক না থাকলে অনার্য হবে]

ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাঃ

  • ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্টী কে ভাষাতত্ত্বের বিচারে প্রধানত দুভাগে ভাগ করা হয়। যথা ১) কেন্তুম্ ২) শতম্
  • মূলইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠী কে ১০ টি উপশ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়। এর মধ্যে কেন্তুম্ গুচ্ছের ৬ টি উপশ্রেণী শতম্ ভাষাগোষ্ঠীকে ৪ টি উপশ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়।

অপভ্রংশ ভাষাঃ

  • অপভ্রংশ শব্দের অর্থ – বিকৃত
  • যে মৌলিক বিষয় ক্রমে ক্রমে ভেঙ্গে বা পরিবর্তিত ও বিকৃত হয়ে বর্তমান যা লাভ করেছে তাই অপভ্রংশ।
  • পতঞ্জলী যাকে অপভ্রংশ বলতেন , বর্তমানে তাদেরকে পালি ও প্রাকৃত বলা হয়।
  • বর্তমান গবেষণায় অপভ্রংশকে প্রাকৃতের শেষ স্তর হিসেবে গন্য করা হয়

   ব্রজবুলী ভাষাঃ

  • ব্রজবুলী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্য ভাষা বা উপভাষা
  • মৈথিলি ও বাংলার মিশ্রিত রূপ হলো ব্রজবুলী ভাষা
  • রাধাকৃষ্ণের ব্রজলীলা বর্ণিত হওয়ায় এর নাম হয়েছে ব্রজবুলী অর্থাৎ ব্রজ অঞ্চলের ভাষা।
  • মিথিলার কবি বিদ্যাপতি এর উদ্ভাবক

বাংলা লিপি

  • ধ্বনির (Sound বা আওয়াজ) লিখিত রূপই লিপি বা Script । আমরা মুখে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করি লিপি সেসব ধ্বনির চিত্ররূপ। অর্থাৎ বাগ্ ধ্বনিকে যে চিহ্নের সাহায্যে চিত্ররূপ দেয়া হয় তাকে লিপি বলে। ধ্বনি আমরা কানে শুনি, লিপি বা বর্ণ আমরা চোখে দেখি। লিপিগুলোই ক্রমান্বয়ে নানা পরিবর্তনের মাধ্যমে আধুনিক বর্ণে রূপ লাভ করেছে।
  • ভারতীয় অঞ্চলের সব লিপিই ভারতের বিভিন্ন পাহাড়ের গুহায় অঙ্কিত চিত্রমালা থেকে সৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ চিত্র থেকে কেটে কেটে লিপি বা বর্ণ তৈরি করা হয়েছে। ভারতীয় চিত্রমালা থেকে দুই ধরনের লিপির উদ্ভব ঘটে। যথা-
    (ক) ব্রাহ্মী লিপি (খ) খরোষ্ঠী লিপি
  • বাংলা লিপিসহ ভারতের সকল লিপির জন্ম হয়েছে ব্রাহ্মী লিপি থেকে। ব্রাহ্মী লিপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো – এ লিপিতে বাম থেকে ডানে লেখা হয়। কেউ কেউ ব্রাহ্মী লিপিকে ভারতের মৌলিক লিপি বলে মনে করেন। অন্যদিকে খরোষ্ঠী লিপিতে ডান থেকে বামে লেখা হয়।
  • খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে সম্রাট অশোক তার অধিকাংশ কর্ম ব্রাহ্মী লিপিতে লেখান। মহাস্থানগড়ে প্রাপ্ত লিপির সঙ্গে সম্রাট অশোকের সময়ের লিপির সাদৃশ্য পাওয়া গেছে।
  • অষ্টম শতাব্দীতে ব্রাহ্মী লিপির তিনটি শাখার সৃষ্টি হয়েছে –
    (ক) পশ্চিমা লিপি বা সারদা লিপি
    (খ) মধ্যভারতীয় লিপি বা নাগর লিপি
    (গ) পূর্বী লিপি বা কুটিল লিপি।
  • ব্রাহ্মী লিপির এ পূর্বী বা কুটিল লিপি থেকে বাংলা লিপির জন্ম হয়েছে। বাস্তবিকই বাংলা লিপির কোথাও অর্ধমাত্রা,কোথাও পূর্ণমাত্রা কোথাও মাত্রাহীন এবং বর্ণগুলো বিশেষত যুক্তাক্ষরগুলো খুবই জটিল বা কুটিল।
  • সেন যুগে বাংলা লিপির গঠনকার্য শুরু হলেও পাঠান যুগে তা স্থায়ীরূপ লাভ করে।
  • হাতের লেখার পাশাপাশি লিপির সাথে মুদ্রণের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। ক্রমবর্ধমান কম্পিউটার ব্যবহার হাতের লেখার জায়গা দখল করে বলে তাও মুদ্রণমুখী হয়ে উঠেছে। চার্লস উইলকিন্সের সহযোগিতায় পঞ্চানন কর্মকার ও মনোহর কর্মকার মুদ্রণ উপযোগী বাংলা হরফ তৈরি করেন। যার প্রথম প্রয়োগ হয় ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হ্যালহেডের ‘ A Grammar of the Bengal Language’ নামক ব্যাকরণ গ্রন্থে।
  • এরপরে বাংলা লিপির গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তার ‘বর্ণপরিচয়’ (১৮৫৫) গ্রন্থে।

বিগত বছরের প্রশ্ন ও  উত্তর

বিসিএস প্রশ্ন

১. কেন্তমের কোন শাখা এশিয়ার অন্তর্গত? - হিত্তিক ও তুখারিক।

২. বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে নিন্মোক্ত একটি ভাষা থেকে/  বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে কোন ভাষা থেকে? - প্রাকৃত।

৩.  বাংলা ভাষার আদিস্তরের স্থিতিকাল কোনটি? - দশম-চতুর্দশ শতাব্দী।

ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন

৪.বেদের ভাষাকে কি বলা হয়? - বৈদিক।

০৫. বাংলা ভাষার বয়স কত?-১০০০ বছর।[৪৩তম BCS]

০৬. বাংলা এবং মৈথিলী ভাষার সমন্বয়ে যে ভাষার সৃষ্টি হয়েছে তার নাম কি? – ব্রজবুলি [১৭তম BCS]।

০৭. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, বাংলা ভাষার উৎপত্তি কোন প্রাকৃত স্তর থেকে? – গৌড়ীয় প্রাকৃত।

০৮. ভারতীয় উপমহাদেশের আঞ্চলিক ভাষাগুলোর আদিম উৎস কি?- অনার্য ভাষা।

০৯. ‘প্রাকৃত’ শব্দের ভাষাগত অর্থ – জনগণের ভাষা।

১০. প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা চিহ্নিত করুন?- বৈদিক।

১১. ভারতীয় ভাষার নিদর্শন যে গ্রন্থে পাওয়া যায়, তার নাম কী?- ঋগ্বেদ।

১২. ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত ভাষা কোনটি? – বাংলা।

১৩. ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার কয়টি শাখা?- ২টি ।

১৪. বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে যেখান থেকে? - ইন্দো-ইউরোপীয়।

১৫. ভাষার জগতে বাংলার স্থান কোথায় / বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত ভাষার মধ্যে বাংলার অবস্থান কত তম / ব্যবহারকারীর সংখ্যা বিচারে বাংলার অবস্থান কত তম? -  ৬ষ্ঠ।

১৬.বাংলার আদি অধিবাসীজনগোষ্ঠী কোন ভাষাভাষী ছিল?- অস্ট্রিক।

১৭. প্রাকৃত শব্দটির অর্থ – স্বাভাবিক।

১৮. বাংলা ভাষার মূল উৎস কোনটি?- প্রাকৃত ভাষা।

১৯. বাংলা ভাষা কোন ভাষা থেকে এসেছে – গৌড়ীয় প্রাকৃত।

২০. কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে বলে ড. মুহমদ শহীদুল্লাহ মনে করেন – গৌড়ীয় অপভ্রংশ ।

২১. কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে – বঙ্গ-কামরূপী।

২২. ‘অপভ্রংশ” কথাটির অর্থ কী – বিকৃত ।

২৩. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য কার কাছে প্রত্যক্ষভাবে ঋণী – অপভ্রংশ।

২৪. বাংলা ভাষার উদ্ভব হয় – সপ্তম খ্রিষ্টাব্দে।

২৫. বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে কোনটি থেকে? – প্রাকৃত।

২৬. “বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে মাগধী প্রাকৃত থেকে।” এ মতের প্রবক্তা কে – স্যার জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ার্সন।

২৭. বাংলা লিপির উৎস কোনটি - ব্রাহ্মী লিপি।

২৮. কোন লিপিমালা ডানদিক থেকে লেখা হয়- খরোষ্টী।

২৯. ব্রাহ্মী লিপির কোন রূপ থেকে বাংলা এসেছে- কুটিল।

৩০. বাংলা লিপির সঙ্গে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে কোনটির-  আসামি ভাষার লিপি।


এই পোস্ট সহায়ক ছিল?

11 out of 11 Marked as Helpfull !