বাংলা ব্যাকরণের ইতিহাস Last updated: 4 months ago

  • ব্যাকরণ শব্দটি গঠিত হয় কি যোগে ? – উপসর্গ কৃৎ প্রত্যয় যোগে।
  • বাংলা ব্যাকরণের বয়স – ২৭৫ বছরের চেয়েও বেশি।
  • বাংলা ভাষার বয়স -১৪০০ বছরের বেশি।
  • গ্রিসকে ব্যাকরণ চর্চার- আদিভূমি হিসেবে উল্লেখ করা হয়
  • প্লেটোর বিখ্যাত ‘ডায়ালগ’ এ  ব্যাকরণের কিছু নিয়ম – কানুনের উল্লেখ আছে
  • এরিস্টটল তার ‘পোয়েটিকস’ গ্রন্থে ধ্বনিতত্ব নিয়ে আলোচনা করেন
  • দ্বিতীয় শতকে ডাইওনোসাস থ্রাক্স তাঁর ‘গ্রাম্মাতিকেই থাকনি’ গ্রন্থে প্রথম গ্রিক ভাষায় রূপতত্ব নিয়ে আলোচনা করেন
  • ব্যাকরণ একটি – সংস্কৃত ভাষার শব্দ
  • ব্যাকরণ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ – বিশেষভাবে বিশ্লেষণ
  • ব্যাকরণ শব্দের বিশ্লেষিত রূপ – বি+আ+কৃ+অন = ব্যাকরণ ।

[এখানে বি, আ হচ্ছে উপসর্গ আর অন হচ্ছে প্রত্যয় ]

  • ব্যাকরণের কাজ- ভাষার আভ্যন্তরীণ নিয়মকানুন ,রীতিনীতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা
  • ভাষা ব্যাকরণকে অনুসরণ করে না,বরং ভাষাকে অনুসরণ করে ব্যাকরণের নিয়মের সৃষ্টি হয়
  • ব্যাকরণ শব্দের সন্ধি – বি + আকরণ(তৎসম স্বরসন্ধি)
  • ব্যাকরণ শব্দের অক্ষর বিন্যাস – ব্যা + ক+ রণ (৩টি অক্ষর রয়েছে)

ভাষাবিজ্ঞানীরা ব্যাকরণ সম্পর্কে অনেক একেক রকম সংজ্ঞা দিয়েছেন, যথাঃ

১. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতেঃ “ যে শাস্ত্র জানিলে বাঙ্গালা  ভাষা শুদ্ধরূপে লিখিতে, পড়িতে ও বলিতে পারা যায় তাহার নাম বাঙ্গালা  ব্যাকরণ।”

২. ড. সুনীতিকুমার চট্রোপাধ্যায়ের মতেঃ ” যে বিদ্যা দ্বারা কোন ভাষাকে বিশ্লেষণ করিয়া তাহার স্বরুপটি আলোচিত হয় এবং সেই ভাষার গঠনে ও লিখনে এবং তাহাতে কথোপকথনে শুদ্ধরুপে তাহা প্রয়োগ করা যায় সে বিদ্যাকে সেই ভাষার ব্যাকরণ বলে।”

৩. ড. সুকুমার সেনের মতেঃ “ কোন ভাষার উপাদান সমগ্রভাবে বিচার ও বিশ্লেষণ যে শাস্ত্রের বিষয় তাহাকে সেই ভাষার ব্যাকরণ বলে।

উপমহাদেশে সর্বপ্রথম ব্যাকরণ রচনা

  • উপমহাদেশে সর্বপ্রথম ব্যাকরণ রচনা করেছিলেন পাণিনি
  • খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে অর্থাৎ৬৫০ সালের দিকে তিনি তাঁর বিখ্যাত “অষ্ট্যাধ্যায়ী” নামের সংস্কৃত ব্যাকরণ রচনা করেন।
  • পাণিনির রচিত ব্যাকরণকে বাংলায় অনুবাদ করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং এর নাম দেন ব্যাকরণ কৌমুদী
  • পাণিনির রচিত ব্যাকরণের পাঠ্য ভাষা কিঞ্চিৎ কঠিন বলে পতঞ্জলি নামক একজন সংস্কৃত ব্যাকরণবিদ বইটির ব্যাখ্যা প্রদান করেন
  • পতঞ্জলি ছিলেন পাণিনির ব্যাকরণের ঘোর সমর্থক আর কাত্যায়ন ছিলেন সমালোচক
  • পৃথিবীর প্রথম ব্যাকরণের নাম- ল্যাটিন ভাষায়ডি লিঙ্গয়া ল্যাটিনো’ নামে প্রথম ব্যাকরণ রচনা করেন ভাররো
  • ল্যাটিন ভাষার পূর্নাঙ্গ ব্যাকরণইনস্টিটিউনেস গ্রাম্মতিকেই’ নামে রচনা করেন – প্রিস্কিয়ান্স
  • বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনার প্রথম প্রচেষ্টা করেন- রাধাকান্ত দেববাঙ্গালা শিক্ষাগ্রন্থ(১৮২১) নামে।’

পর্তুগিজ ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ রচনা

  • এরপর ১৭৩৪ সালে পর্তুগিজ ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন- ম্যানুয়েল দ্য আসসুম্পসাঁউ
  • পরবর্তীতে ১৭৪৩ সালে এটি পর্তুগালের রাজধানী লিবসন থেকে রোমান হরফে মুদ্রিত হয়েছিল
  • সর্বপ্রথম পর্তুগিজ ভাষায় রচিত বাংলা ব্যাকরণের নাম Vocabolario em idhioma Bengalla, e portuzuez dividhido em duas partes.
  • প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয়১৭৪৩ সালে, পর্তুগিজ ভাষায়, রোমান হরফে।
  • বইটির প্রথম অংশে বাংলা ব্যাকরণের রূপতত্ত্ব,বাক্যতত্ত্বে নিয়ে আলোচনা ছিল কিন্তু ধ্বনিতত্ত্বের কোনো আলোচনা ছিল না।
  • জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন ব্রিটিশ মিউজিয়াম থেকে এটি প্রথম আবিষ্কার করেন।

ইংরেজিতে বাংলা ব্যাকরণ রচনাঃ

  • ইংরেজিতে বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড (যিনি একজন ব্রিটিশ নাগরিক১৭৭৮  সালে।
  • তাঁর রচিত বাংলা ব্যাকরণ ‘ A grammar of the Begali Language ’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়।
  • এরপর ব্যাকরণ রচনা করেন উইলিয়াম কেরী১৮০১ সালে তার বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয়।

লক্ষণীয়ঃ

  1. A Grammar of the Bengal Language= ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  2. A Grammar of the Bengalee Language=উইলিয়াম কেরী

প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা :

  • বাঙালিদের মধ্যে প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন রাজা রামমোহন রায় ১৮২৬ সালে। তবে তা ছিল ইংরেজি ভাষায়।
  • ইংরেজি ভাষায় রচিত তার ব্যাকরণ বইটির নাম ছিল ‘Bengali Grammar in English Language’।
  • এরপর ১৮৩৩ সালে তিনি তার ইংরেজিতে লেখা ব্যাকরণটি বাংলায় অনুবাদ করেন। যা স্কুল বুক সোসাইটি, কোলকাতা হতে প্রকাশিত হয়। এ ব্যাকরণের নাম ছিল “গৌড়ীয় ব্যাকরণ”। এটি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
  • এই বইটিতে মোট ১২ টি অধ্যায়ে বিন্যস্ত ছিল।
  • তিনি সুস্পস্টভাবে নির্দেশ করেন – বাংলা ব্যাকরণ সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে না।
  • তিনি বাংলা ব্যাকরণ আলোচনায় ব্যবহার করেন খাঁটি তদ্ভব শব্দ ও বাংলা ক্রিয়াপদ।
  • ড: মুহম্মদ শহীদুল্লাহর লেখা ব্যাকরণেনর নাম বাঙ্গালা ব্যাকরণ”। ১৯৩৫ সালে।
  • ড: সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ব্যাকরণের নাম “ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ”। ১৯৩৯ সালে।

বাংলা ব্যাকরণ সম্পর্কিত কিছু বিখ্যাত গ্রন্থ ও এর রচয়িতা

ব্যাকরণ গ্রন্থ রচয়িতা
Vocabolario em idioma Bengalla, E Portuguez: dividido,em duas partes ফাদার মনোএল দ্য আসসুম্পাসাঁও
A Grammar of The Bengal Language ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
A Grammar of The Bengalee Language উইলিয়াম কেরি
Bengali Grammar in the English Language (১৮২৬) রাজা রামমোহন রায়
গৌড়ীয় ব্যাকরণ (১৯৩৩) রাজা রামমোহন রায়
বঙ্গভাষা ও সাহিত্য (বাংলা সাহিত্যের ১ম ইতিহাস গ্রন্থ – ১৮৯৬) ড. দীনেশচন্দ্র সেন
বাংলা ভাষা পরিচয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাকরণ কৌমুদী (১৮৫৩) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাকরণ মঞ্জরী (২০০৩) ড. এনামুল হক
The Origin and Development of the Bengali Language (১৯২৬)। যার অর্থ। -বাংলা ভাষার উদ্ভব ও বিকাশের বিস্ত্তিতি সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত (১৯৩৩) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ জগদীশ চন্দ্র ঘোষ
আধুনিক ভাষাতত্ত্ব আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাংলা অভিধান ও এর সম্পাদক

অভিধান সম্পাদক
বঙ্গভাষা অভিধান (বাংলা ভাষার ১ম অভিধান) রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
চলন্তিকা অভিধান রাজশেখর বসু
বাংলা একাডেমি আঞ্চলিক বাংলা অভিধান ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
বাংলা একাডেমি বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান গোলাম মুরশিদ
বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান আহমদ শরীফ
বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান ড. এনামুল হক ও শিবপ্রসন্ন লাহিড়ী
বাংলা একাডেমি বাঙলা উচ্চারণ অভিধান নরেন বিশ্বাস
সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান আবু ইসহাক
বঙ্গীয় শব্দকোষ হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সংসদ সমার্থ শব্দকোষ (১৯৮৭) অশোক মুখোপাধ্যায়
শব্দ মঞ্জরী (বাংলা অভিধান) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর


এই পোস্ট সহায়ক ছিল?

2 out of 2 Marked as Helpfull !